সোনারগাঁয়ে ইউনিক কোম্পানী উচ্চ আদালতের রায়কে অমান্য করে আবারও অবৈধ ভাবে বালু ভরাটের চেষ্টা

0
4128

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে ইউনিক কোম্পানীর সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি আবারও ফসলী জমি অবৈধ দখল নিয়ে শুরু হয়েছে বালু ভরাটের কাজ। সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি কর্তৃক ভূক্তভোগী স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রিসোর্স সিটিতে বালু ভরাট না করার জন্য উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও পুনরায় সেখানে বালু ভরাট চলছে। বুধবার রাত ৮ ঘটিকার সময় সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোবায়েত হায়াত শিপলু আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী নিয়ে বালু ভরাটের কাজ পুনরায় বন্ধ করার পরও গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অবৈধ ভাবে দখলদাররা বালু ভরাট শুরু করেছে।

সূত্রে জানা যায়, ইউনিক কোম্পানীর সাথে আতাত করে ছয়হিস্যা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে ভূমি দস্যু শাহ জালাল ও ভবনাথপুর গ্রামের আব্দুল বাতেন মিয়ার ছেলে মোশারফ মেম্বার এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে সাথে নিয়ে এ কাজে সহযোগীতা করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ইউনিক গ্রুপ সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী ভাটিবন্দর, ছয়হিস্যা, রতনপুর, ভবনাথপুর, জৈনপুর ও কান্দারগাঁও সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার একর কৃষি জমিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা নামধারী হোমড়া চোমড়াদের ম্যানেজ করে জোর পূর্বক বালু ভরাটের কাজ করছে। ভূক্তভূগীরা এ ব্যাপারে বিভিন্ন ভাবে বাধা দিয়েও রক্ষা করতে পারছেনা ফসলী জমি। সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি কর্তৃপক্ষ সরকারী নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তাদের আবাসন প্রকল্প তৈরির জন্য ২০০৯ সালে বালু ভরাটের কাজ শুরু করে। ফলে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমির মালিক বেকার হয়ে পরে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত জোর পূর্বক দখলকৃত জমি গুলোতে কাশ ফুলের বাগান ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। কৃষকরা না পেল তাদের জমির মূল্য, ঘরে না আনতে পারল সোনালী ধান। এমতাবস্থায় ২০১৪ সালের ২ মে বাংলাদেশ পরিবেশ আইন জীবি সমিতির (বেলা) স্থানীয় কৃষকদের কৃষি জমি রক্ষায় একটি রিট করে। রিটে প্রাথমিক শুনানী করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্জ রুল জারী করে। রুলটিতে সোনারগাঁ উপজেলায় রিসোর্ট সিটি নির্মাণে প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছিল। সেই রুলে সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটির জন্য ইউনিক পোপার্টি ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক অবৈধ ভাবে মাটি ভরাট থেকে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা, চর ভবনাথপুর, ভাটিবন্দর ও রতনপুর মৌজার কৃষি জমি, জলা ভূমি, নিচু ভূমি রক্ষায় কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চান আদালত। সবশেষ ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্জ পুনারায় রিসোর্ট সিটিতে বালু ভরাট ও রিসোর্ট সিটি নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে ছিলেন, এ.এম.আমিন উদ্দিন, মিনহাজুল হক চৌধুরী। সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটির নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ইউনিক প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে কামরুল হক সিদ্দিকি এবং রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ সময় রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাটি ভরাট বন্দে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। এই আদেশ মনিটরিং এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২৫ অক্টোবর ইউনিক প্রোপার্টির ডেভেলপমেন্ট বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি সেলিমের বেঞ্জে একটি আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি করে আদালত পূর্ববর্তী অন্তভর্তিকালীন নির্দেশনা সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে বেলা। বেলার আবেদন শুনানি করে আপিল বিভাগ ৬ সপ্তাহের মধ্যে মূল রুল নিষ্পত্তি করতে সব পক্ষকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি সংক্রান্ত আদেশটি স্থগিত করেন কিন্তু ওই আদেশের পর সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটিতে উচ্চ আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে অবৈধ ভাবে বালু ভরাটের কাজ। সরেজমিনে দেখা যায়, ২৫টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এ অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত কয়েকটি ড্রেজারের পাইপ লাইন বিচ্ছিন্ন করে। কোম্পানীর কাজে নিয়োজিত ৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে আটকের পর প্রত্যেককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু ভরাটের ওই স্থানে নিষেধাজ্ঞা জারীর সাইনবোর্ডও টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সব ঠিক ঠাক চললেও মঙ্গলবার থেকে আবারও শুরু হয় সন্ত্রাসীদের অবৈধ বালু ভরাটের কাজ। এ খবর পেয়ে ভূমি মালিক এবং এলাকার সাধারণ জনগণ রাত ৮ ঘটিকায় সন্ত্রাসীদের তাড়া করলে বালু ভরাটের কাজ ফেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পুনরায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আবারও শুরু হয় বালু ভরাট।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোবায়েত হায়াত শিপলু জানান, গতকাল আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী সহ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এবং উচ্চ আদালতের রায় ছাড়া কোন ক্রমেই বালু ভরাটের কাজ করতে দেওয়া হবে না।