সোনারগাঁয়ে বালু ভরাটে বাধা দেয়ায় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ২

0
1864

হাজী শফিকুল ইসলাম-উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও এলাকায় সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটিতে অবৈধ বালু ভরাটে বাধা দেয়ায় গত শনিবার গ্রামবাসীদের উপর দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালায় বালু সন্ত্রাসীরা। এতে কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় উল্টো গ্রামবাসীদের আসামী করে বালু ভরাটকারীদের পক্ষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকার মো. সজিব হোসেন নামে এক ব্যক্তি শনিবার গভীর রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলার পর শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহিদ সরকার (৪০) ও মো. সোহাগ নামে দুই গ্রামবাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে, শহিদের পরিবারের অভিযোগ, শনিবার দুপরের সংঘর্ষের সময় শহিদ ব্যবসায়ীক কাজে ঢাকায় ছিলেন। তাকে সম্পূর্ন হয়রানীর করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, নদীর তীরবর্তী ভাটিবন্দর, ছয়হিস্যা, রতনপুর, ভবনাথপুর, জৈনপুর ও কান্দারগাঁওসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার একর কৃষি জমি ক্রয় না করেই একাধিকবার স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে জোড়পূর্বক বালু ভরাটের চেষ্টা করছিল। গত কয়েকদিন আগে স্থানীয় নেতারা জোড়পূর্বক ভাবে ১০টি ড্রেজার দিয়ে ফের ওই ফসলী জমিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বালু ভরাটের চেষ্টা চালায়। শনিবার সকালে জমির মালিকরা তাদের জমিতে বালু ভরাটের জন্য বাধা দেয়। এর জের ধরে বিকেলে স্থানীয় এক বলু সন্ত্রাসীর নেতৃত্ব দিপু, মনির হোসেন, লিটন, ফয়সাল,
আবু সাঈদ ও কবিরসহ ২০/২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামবাসীর উপর হামলা চালিয়ে সাকিল আহম্মেদ, রাশেল মিয়া, বাবু মিয়া, মুুন্সি আল আমিন, শামীম ্ও আবু সাঈদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছে। আহতদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে। ফের সংঘর্ষের আশংকায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মোঃ মঞ্জুর কাদের বলেন, বালু ভরাটকারীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি আমার ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। আর যাতে কোন সংঘর্ষ না ঘটে সেজন্য ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।