সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন

0
756

 আরাফাত হোসেন সিফাত-নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে আগামী শনিবার ১৪ জানুয়ারী থেকে মাসব্যাপী কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব নিয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সভা কক্ষে জাদুঘরের পরিচালক রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে এ মেলা ও লোকজ উৎসবের প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাস ব্যাপী মেলা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিশেষ অতিথি থাকবেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মো. লিয়াকত হোসেন খোকা। আরো উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্তারী মমতাজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহ্ফুজুর রহমান কালাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোহেল রানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবিন্দ্র গোপ।
সভায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ বলেন, এবার মেলায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চার জন কারুশিল্পীকে শ্রেষ্ঠ পদক ২০১৬ প্রদানের লক্ষে স্বর্ণ পদক দেয়া হবে বলে ঘোষনা দেন। এরা হলেন, শীতল পাটি শিল্পী সবিতা মোদী, পাটজাত শিকা শিল্পী সুফিয়া আক্তার, সরাচিত্র শিল্পী সুধন্য চন্দ্র দাস ও তামা কাঁসা পিতল শিল্পী মানিক সরকার।
মাসব্যাপী লোক ও কারুশিল্প মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পী মমতাজ, বারী সিদ্দিকী, ফকির আলমগীর, কিরণ চন্দ্র রায়, ইন্দ্র মোহন রাজবংশী, কাঙালিনী সুফিয়াসহ দেশবরণ্য লোকশিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। লোকজীবন প্রদর্শনীর আয়োজনে থাকবে কনে দেখা, গায়েহলুদ, পালকিতে বরযাত্রা, জামাইকে পিঠা খাওয়ানো, গ্রাম্য সালিসে আবহমান বাংলার লোকজীবনের বিলুপ্ত দৃশ্যাবলি প্রদর্শন। এ ছাড়া থাকবে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় নুনতা, কানামাছি, গোলাছুট ও ফুলটোক্কাসহ গ্রামীণ খেলাধুলা। মাসব্যাপী মেলা ও লোকজ উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫৪ জন কারুশিল্পর পণ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য ২৭টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে এ বছর থাকবে হস্তশিল্পের স্টল ৪৬টি, পোশাকের স্টল ৪৩টি, স্টেশনারি ও কসমেটিক্সের ৩৫টি, খাবার ও চটপটির স্টল ২৫টি, মিষ্টির ১৭টিসহ মোট ১৯৩টি স্টল থাকবে। এ ছাড়া মাসব্যাপী মেলা ও লোকজ উৎসবের অনুষ্ঠানে প্রতিদিন থাকবে বাউলগান, কবিগান, ভাওয়াইয়াগান-ভাটিয়ালিগান, জারি-সারিগান, হাসনরাজারগান, লালনসঙ্গীত, মাইজভা-ারী, মুর্শিদিগান, আলকাপগান, গায়ে হলুদের গান, উপজাতীয় সংস্কৃতি অনুষ্ঠান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথিপাঠ, লোকজ কবিতা পাঠের আসর, সেমিনার অনুষ্ঠান, গ্রামীণ খেলা, পানিতে হাঁসধরা খেলা, গল্প বলা ও পিঠা প্রদর্শনী। মেলা ও লোকজ উৎসবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক মোতায়েন থাকবে র‌্যাব ও পুলিশ।