কৃষিজমি ধ্বংস করে ইটভাটা তৈরী করার অভিযোগ উঠেছে গনি চেয়ারম্যানএর বিরুদ্ধে

0
2610

 

নারায়ণগঞ্জ  প্রতিনিধিঃ- স্থানীয় প্রভাবশালী গনি চেয়ারম্যান (সাবেক)সরকারী নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নস্ত গকুলদাশেরবাগ এলাকায় কৃষিজমি ধ্বংস করে ইটভাটা নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর । তার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেনা । সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গকুলদাশেরবাগ টিনের মসজিদ এলাকায় কিছু কৃষি জমি ভাড়া নিয়ে মসজিদের দেয়াল ঘেষে রাতারাতি রাস্তা বানিয়ে ফসলভর্তি কৃষি জমির উপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে ইটের ভাটা নির্মাণের জন্য কাচাঁমাল ও কৃষি জমির ফসলসহ মাটি কেটে ইটভাটা নির্মাণ করছে স্থানীয় গনি চেয়ারম্যান ও কিছু অসাধু ভূমিদস্যুরা।ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ)আইন-২০১৩ এর অনুচ্ছেদ-৮ অনুযায়ী–নিম্ন বর্নিত স্থান সমূহে ইটভাটা প্রস্তুত করা যাবেনা।
* আবাসিক,সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা।
*সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর।
* সরকারী বা ব্যাক্তি মালিকানাধীন বন,অভয়ারণ্য,বাগান বা জলাভূমি।
* কৃষিজমি।
* আবাসিক এলাকা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,হাসপাতাল,ক্লিনিক থেকে ১কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নির্মাণ করা যাবেনা।এই সব আইন কাগজে কলমে লিপিবদ্ধ থাকলেও আইনের প্রয়োগ নেই বন্দর এলাকায়।এরই মধ্যে সাড়া নারায়ণগঞ্জ জুড়ে এপর্যন্ত মোট ৩১২টি ইট ভাটার মধ্যে অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৪৮টি ইট ভাটার।এসকল ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়ায় বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জবাসীর জনজীবন।বর্তমানে বন্দর  উপজেলার মদনপুর কেওঢালা এলাকায় মাত্র দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল ১৫টি অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ করে কেওঢালা এলাকা মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে ।এইসব ইটভাটার মাটির জোগান দিতে মদনপুর ইউনিয়ণের কেওঢালা,শ্রীরামপুর,কাইনলিভিটা,কাজীপাড়াসহ সকল এলাকার কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটার জন্য নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকারদলীয় নেতা হিসাবে পরিচয়দানকারী ও প্রভাবশালীরা।এই এলাকার কৃষিজমি কেটে পুকুরে পরিণত করে এখন মাটি আনা হচ্ছে পাশ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার কাজহরদী,অলিপুরা এলাকা থেকে।এই এলাকার কৃষিজমি ধ্বংশের এবং মাটি ব্যবসায়ীর মূলহোতা হচ্ছে আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়দানকারী কেওঢালা এলাকার সাইদুর রহমানশফিক,আমানুল্লাহ আমান,বাগদোবাড়ীয়া এলাকার হানিফ,শিরাজ দেওয়ান,জাকির দেওয়ান,হারিসুল দেওয়ান,মুছাপুর ইউপি মেম্বার বিল্লাল হোসেন,অলিপুরা এলাকার ওসমান,জাফর,শওকত আলী সহ আরোও অনেকে।এসকল মাটি ব্যবসায়ীর নিকট এভাবে অবৈধ পন্থায় কৃষিজমির মাটি কাটার কথা জানতে চাইলে তারা বলেন”আমরা থানার পুলিশ সহ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছি,আমাদের মাটি কাটায় কেউ বাধা দিলে তাদেরকে ওসির মাধ্যমে চাদাঁবাজি মামলা দিবো।এবিষয়ে বন্দর উপজেলার এসিল্যান্ড নাহিদ সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি অবৈধভাবে কৃষিজমি ধ্বংশ বন্ধ করবেন বলে জানান । বিভিন্ন সময়ে মাটি ব্যবসায়ীরা বর্তমমান মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমএ সালাম ও ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদের নিজস্ব লোক পরিচয় দিলেও উভয় চেয়ারম্যান বিষয়টি অস্বিকার করেন।নিয়ম না মেনে ইটভাটা নির্মাণ সম্পর্কে গনি চেয়ারম্যান বলেন”আমার বড় বড় পত্রিকার সম্পাদকদের সাথে ওঠাবসা আছে,প্রশাসন ও চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপর মহল পর্যন্ত যেখানে যা লাগে তা দিয়েই ইটভাটা নির্মাণ করছি।এদিকে গনি চেয়ারম্যানের বিরোদ্ধে এলাকার জনসাধারণ কোন অভিযোগ করতে চাইলে তাদেরকে নিজস্ব লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে কৃষকের কৃষিজমি ধ্বংশ করছে বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু এলাকাবাসী। এই এলাকার কৃষিজমি রক্ষা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলাপ্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নিরীহ কৃষক ও জনসাধারণ।