পুলিশের মহত্ত্বের কারণে চিকিৎসা সেবা পেলেন রুপবান বেগম

0
1527

মো. বিল্লাল হোসেনঃ পুলিশ মানেই আতংক। পুলিশের পোশাক দেখলেই যেনো সাধারণ মানুষ ভয়ে কেপে ওঠেন। চোর ডাকাত ছিনতাইকারীদের চেয়ে পুলিশকে বেশি ভয় পায় নিরপরাধ সাধারণ মানুষও। এর পিছনে নানা কারণও রয়েছে। পুলিশ জনগনের বন্ধু। আসলে বাস্তবে এ চিত্র কমই দেখা যায়। যদিও অনেকেই দাবি করেন দুচার জন পুলিশ বদনাম করায় সেই দায় বহন করতে হয় পুরো পুলিশ বাহিনীকে। নামটি তখন চলে আসে ‘পুলিশ’। পুলিশ দ্বারা সাধারণ মানুষ নিরপরাধ মানুষ যে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়না তাও কিন্তু নয়। আবার অপরাধী দুস্কৃতিকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয় পুুলিশ দেয় এমন অভিযোগও অহরহ ওঠে আসে। তারপরও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সুনাম অক্ষুন্ন রয়েছে এএসআই আবুল কালাম আজাদের মত যখন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে। এএসআই আবুল কালাম আজাদ যেনো হাজারো মায়ের সন্তান। ভাল কাজের চেয়ে ভুল কাজের সমালোচনাটাই পুলিশের বিরুদ্ধে বেশি প্রকাশিত হয়। যে কারনে হাজারো আবুল কালাম আজাদ আড়ালে ঢেকে যায় সবার অগোচরে। সোনারগাঁও থানা পুলিশের এএসআই আবুল কালাম আজাদ। দু’দফায় তিনি সোনারগাঁও থানায় কর্মরত হয়েছেন। সোনারগাঁয়ে মাদক বিক্রেতা ও ইভটিজারদের আতংক আবুল কালাম আজাদ। ইতোমধ্যে প্রতিটি এলাকায় আবুল কালাম আজাদের নাম ছড়িয়ে গেছে। সজ্জন আবুুল কালাম আজাদের ভূমিকা চোখে পরার মতই। সোনারগাঁয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে ইভটিজিং মাদকের বয়াবহতা নিয়ে কাজ করছেন। জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে সচেনতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। অনেক বড় দায়িত্বের কর্মকর্তা না হলেও সোনারগাঁয়ের মানুষ আবুুল কালাম আজাদকেই চিনেন বড় মাপের অফিসার হিসেবে। এটা তার কর্মের ফল। এবার সেই এএসআই আবুল কালাম আজাদ এবাব অসহায় বৃদ্ধা এক মায়ের পাশে দাড়ালেন। স্বামী সন্তান হারিয়ে পৃথিবীতে যখন একা হয়ে গেলেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রূপ বাহার। তখন রূপ বাহারের একমাত্র আপন জন এখন এএসআই আবুল কালাম আজাদ। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের পূর্ব সনমান্দি গ্রামের ময়েজউদ্দীনের স্ত্রী রূপবাহার বেগম (৭৫)। ছেলে সন্তান ও স্বামী হারিয়ে বর্তমানে পৃথিবীতে তার আপন জন এখন নেই কেউ। রূপ বাহারের একটি ছেলে জন্মের ৫ বছর মাথায় মারা যায়। সাংসারিক জীবনের ৮ বছরের মাথায় স্বামী ময়েজউদ্দীন কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে মানুষের বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে তিনি বেঁচে আছেন আজোবদি। বর্তমানে রুপ বাহার নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। এদিকে শুক্রবার সোনারগাঁও থানা পুলিশের এএসআই আবুল কালাম আজাদ মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সনমান্দি এলাকার একটি মসজিদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অসহায় বৃদ্ধা মা রূপ বাহার এর খোজ পান। রূপ বাহারকে ২৮ জানুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় আজাদ। আবুল কালাম আজাদ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সনমান্দি পূর্বপাড়া এলাকার একটি মসজিদে শুক্রবার দুপুরে বক্তব্য শেষে থানা পুলিশ কার্যালয়ে ফিরার সময় একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারি বৃদ্ধা মায়ের অসহায়ত্বের কথা। পরে বৃদ্ধা মায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই একটি খুপড়ি ঘরে অসুস্থ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এ পৃথিবীতে তাকে দেখাশোনা কিংবা চিকিৎসা সেবার মত জন্য কেউ নেই। ওই বৃদ্ধার হাত পায়ে পানি নেমে অনেক মোটা হয়ে গেছে। চলা ফেরাও করতে পারছেন না। তার চিকিৎসা ও দায়ভার কেউ নেননি। ওই বৃদ্ধাকে দেখতে পেয়ে পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। তিনি আরো জানান, তার বসবাসের জন্য তার কোন ঘর নেই। আমি তাকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বামী সন্ত্রান হারানোর পর স্থানীয় বাজার ও বাসা বাড়িতে কাজ করে দুবেলা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন। তার শরীর অক্ষম হওয়ার পর তিনি প্রতিবেশী ও বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে চেয়ে এনে জীবন যাপন করত। উল্লেখ্য এর আগেও একজন বৃদ্ধাকে ময়লা স্তুপ থেকে তুলে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং সাত মাস পর তার পরিবারের কাছে পৌছে দেয় আজাদ।