সেন্টমার্টিন দ্বীপে বাজারের বেহাল দশা

0
825

সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে নুরুল হক নুরঃ প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন”পৃথিবীর অন্যতম একটি দ্বীপ। অথচ গোটা দ্বীপে নেই একটিও স্থায়ী বাজার। ৪০ বছরেরও বেশি ইউপি দ্বীপবাসীকে দুর্গন্ধমুক্ত একটি খোলামেলা বাজার উপহার দিতে পারেনি। এখানকার বাসিন্দাদের এই ক্ষোভ দীর্ঘ দিনের। কিন্তু জেলা প্রশাসন বা পুরকর্তৃপক্ষ,ইউপিকর্তৃপক্ষ কাউকেই এ নিয়ে তেমন মাথাব্যাথা করতে দেখা যায়নি বলেই বাসিন্দাদের অভিযোগ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে দ্বীপে একটি স্থায়ী বাজার গড়ার ব্যাপারে অবিলম্বে উদ্যোগ শুরু করার পক্ষেই মত দিচ্ছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্বীপবাসী।
বর্তমানে এই দ্বীপে বাজারের সংখ্যা চারটি। কিন্তু প্রত্যেকটিই বেসরকারি উদ্যোগে বসে। অধিকাংশেরই পরিকাঠামো বলতে কিছু নেই। আশপাশের গ্রাম, পাড়ার ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বাজার তৈরিই হয়েছে পরিকল্পনাহীন ভাবে। দ্বীপে অন্যতম প্রাচীন বাজারটি বসে জেড়িসংলঙ্গ রাস্তার উপরে বাজার পাড়া এলাকায়। দ্বীপে জন্মলগ্ন থেকে গ্রাম থেকে লোকজন এসে ওই জায়গা জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। ধীরে ধীরে অস্থায়ী ওই বাজারই বাজারে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে রাস্তা দখল করে ওই বাজারে মাছ থেকে সব্জি, সবই বিক্রি হয়। কোনও মুক্ত পরিবেশ নেই। রাস্তাতেই বাজারের আবর্জনা জমে। বাজারের সময় যানজটও বেড়ে যায়। চূড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্যে ব্যবসায়ীদের বাজারটি টিকিয়ে রাখতে হয়েছে। প্রায় একই অবস্থায় পুরাতন ইউপি প্রশাসনিক ভবনের মাঝখানে বসা বাজারটির। ওটিও বসে রাস্তা দখল করে। তবে, অস্থায়ী বাঁশ-ত্রিপলের ছাউনি আছে। সত্তরের দশকের শেষের দিকে তৈরি হওয়া ওই বাজারে বর্তমানে দুশোর বেশি হকার বসেন। বছর দশেক আগে বাজারটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু পরে আর তা কার্যকর হয়নি। এই দুই বাজারের মতোই করুণ দশা বিএন স্কুল সংলঙ্গ। প্রথমটি দ্বীপে পুরাতন বাজার হলেও তার পরিকাঠামো আগের মতোই বেহাল। ক্রেতা থেকে বিক্রেতা প্রত্যেকেরই ক্ষোভ, সরকারি উদাসীনতাই পুরনো বাজারগুলির বেহাল পরিকাঠামোর জন্য দায়ী। একই ভাবে তাঁরা দুষছেন এত দিনেও দ্বীপে স্থায়ী বাজার না গড়তে পারার জন্য পুরপ্রশাসনের ব্যর্থতাকেও।
অস্থায়ী বাজারের জেরে রাস্তায় যানজট।
প্রশাসনিক উদ্যোগ বলতে বেশ কয়েক বছর আগে বাজার এলাকায় তৈরি ‘স্বদেশি বাজার’। কিন্তু প্রধানত সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই পুরসভার উদ্যোগে তৈরি ওই বাজারকে টিকিয়ে রাখা যায়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে কী বলছেন ওই সব বাজারের ব্যবসায়ীরা? অধিকাংশেরই মূল বক্তব্য, দ্বীপে স্থায়ী বাজার তৈরি খুবই দরকার। তার জন্য ব্যবসায়ীরা পুরনো জায়গা ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত।ব্যবসায়ীরা বলেন: বাজার তৈরি না হলে আমরা সরব কী করে! দ্বীপে ঠিকঠাক কোনও জায়গায় পুরসভা,ইউপি স্থায়ী বাজার বানিয়ে দিক, আমরা চলে যাব।” আবার রাস্তাই মাছ বিক্রেতাগন বলেন, “বাজার চলাকালীন গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হয়। এ ছাড়াও আরও অনেক অসুবিধা রয়েছে। কিন্তু বাজার না থাকলে আমরা কোথায় যাব?”
এ দিকে, স্থায়ী বাজার না থাকার জন্য সমস্যায় ভুগছেন দ্বীপবাসীই।বাজার এলাকায় দ্বীপের একটি মাত্র নিউজ পোর্টাল অফিসের সামনে মাছ,তরকারি বসে। অফিসকর্তৃকপক্ষের ক্ষোভ, “সকালের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের চোটে অফিসের দরজা খুলে রাখাই দায়। একটা পুরদ্বীপে কেন এ ভাবে বাজার বসবে!” দ্বীপবাসীর দাবি, ইউপি,পুরসভাকে অবিলম্বে এ ব্যাপারে নজর দেওয়া উচিত। দ্বীপে বাজার নিয়ে খুব একটা ভাল অভিজ্ঞতা নয় স্কুলশিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, “নোংরা বাজারের মধ্যে হাঁটতে গা ঘিন ঘিন করে। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যানজটও হচ্ছে। স্থায়ী বাজার হলে এ সব হবে না।” বাজার নিয়ে এই সব সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন বাজার এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর। তারা জানান, সমস্যার কথা ইউপি, পুরসভাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বহু আলোচনার পরেও কোনও সমাধানসূত্র মিলছে না বলেই তাঁদের দাবি।