সোনারগাঁয়ে ভূমি দখলবাজী ঠেকানোর কেউ নেই !

0
3027

মোঃ শাহ জালাল মিয়া ঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও, ছয়হিস্যা, ঝাউচর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের নিচ দিয়ে মেঘনা পাওয়ার ষ্টেশন হয়ে শীতলক্ষা নদীর সাথে সম্পৃক্ত মেঘনা শাখা নদীটির ৯০ ভাগই ছয়হিস্যা ও ঝাউচর গ্রামের মধ্যবর্তী অংশটুকু ভূমি দস্যু আল মোস্তফা গ্রুপের মালিক মোস্তফা কামাল ওরফে জামাই মোস্তফার দখলে। এছারাও তার বিপরীত পাশে খর¯্রােতা নদীর অর্ধেক দখল করে মেঘনা গ্রুপের আরেকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এলাকাবাসীর দাবি আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ ভূমি দখলবাজদের টেকানোর কেউ নেই।

“চোরের মার বড় গলা” বহুল প্রচলিত বাংলা প্রবাদটি যেন ভূমিদস্যু আল মোস্তফার ক্ষেত্রে যথাযথ। এমনটাই মনে করেন নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা শিল্পনগরী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পিরোজপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আল মোস্তফার মালিকানাধীন ৪টি প্রতিষ্ঠান ও নিজ নামে চর রমজান সোনাউল্লাহ মৌজায় তার দখলে রয়েছে ১০ একরের বেশি জমি।

সূত্রটি দাবী করে, মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকায় চর রমজান সোনাউল্লাহ মৌজায় মোস্তফা কামাল ওরফে আল মোস্তফা ওরফে জামাই মোস্তফার মালিকানাধীন আল মোস্তফা ভেজিটেবল অয়েল মিলস লিঃ-এর নামে বিভিন্ন দাগে মোট জমি রয়েছে ৫৫ শতাংশ ৪০ অযুতাংশ। আল মোস্তফা অটো ফ্লাওয়ার ও ডাল মিল আষাঢ়িয়ার চরের ঠিকানায় একাধিক দাগে রয়েছে মোট ১ একর ১২ শতাংশ ১৯ অযুতাংশ জমি। আল মোস্তফা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাষ্ট্রিজ-এর নামে রয়েছে বিভিন্ন দাগে মোট জমির পরিমান ৩ একর ৬৬ শতাংশ ৩১ অযুতাংশ। তারই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হ্যারিটেজ পলিমার এন্ড ল্যান্ডটিউবস্ লিঃ- এর নামে বিভিন্ন দাগে মোট জমি রয়েছে ৫৪ শতাংশ ৩৪ অযুতাংশ আর নিজ নামে মোট ১৪ শতাংশ ২৫ অযুতাংশ জমি। সব মিলিয়ে আল মোস্তফার নিজ নামে ও তার মালিকানাধীন ৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট জমির পরিমান ৬ একর ২ শতাংশ।

আল মোস্তফা শুধু চর রমজান সোনাউল্লাহ মৌজায় ১০ একরের বেশি জমি তার অবৈধ দখলে রেখেছেন। অবৈধ দখল করা জমির মধ্যে সরকারী খাস জমি, ভূমিহীনদের জন্য সরকারের বরাদ্ধ দেয়া ভূমিহীনদের জমি ও নদী আর খাল। স্থানীয়রা জানায়, মালিকানাধীন জমি ক্রয়ের সময় আল মোস্তফা জমির মালিকদের সাথে সরাসরি কথা বলে ক্রয় করলেও সরকারী খাস জমি, ভূমিহীনদের জন্য সরকারের বরাদ্ধ দেয়া ভূমিহীনদের জমি ও নদী আর খাল দখলের সময় ব্যবহার করেছেন স্থানীয় ইউনিয়নের সদস্য ও সরকার দলীয় নামধারী রাজনৈতিক হোমড়া চোমরাদের। তারা আরও জানায়, মালিকানাধীন জমি ক্রয় ও দখলে কোন সমস্যা না হলেও অবৈধ জমি দখলে নিতে গিয়ে আল মোস্তফা এলাকার নিরীহ বাসিন্দাদের উপর চালিয়ে যাচ্ছে নির্যাতনের স্টিম রোলার। অনেক এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে করেছেন চাঁদাবজির মিথ্যে মামলা। জেলের ঘানি টানিয়েছেন অনেক ভূমিহীনকে। সেই নির্যাতনের অন্তসার শূন্য হচ্ছে এলাকার খেঁটে খাওয়া মানুষগুলো মধ্যে সুমন, মনির, ডালিম, হারুন, আউয়াল, রিপনসহ আরো অনেকে। জানা যায় হারুন ও আউয়াল আল মোস্তফার মিথ্যা মামলায় এখনো ফেরারি আসামী হিসেবে দিন যাপন করছেন। তারা হারাচ্ছে যুগ যুগ ধরে বসবাস করা মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও। যেন অন্ধ আর বধির। তাই তাদের নীরব আচরণেও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, প্রশাসনের এমন আচরণ অব্যহত থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠবে। ছয়হিস্যা গ্রামের আরব আলী মুন্সী জানান, নদী দখলের কারণে ভরা মৌসুমে কিছু পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে কোন নৌযান চলাচল করতে পারে না এই শাখা নদীটি দিয়ে। আষাঢ়িয়ারচর গ্রামের মনির হোসেন বলেন, শাখা নদীটি প্রস্থ প্রায় ৩’শ ফুট হলেও বর্তমানে আল মোস্তফা গ্রুপের দখলের কারণে কমে ১’শ ফুট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল মোস্তফা জানান, আমি কোন ভূমিহীনদের জমি, খাস জমি বা নদী দখল করিনি। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে আইনত সিদ্ধান্ত যা হয়, তা আমি মেনে নেব। তিনি আরো বলেন, ছয়হিস্যা এবং ঝাউচর গ্রামের মধ্যবর্তী মেঘনা শাখা নদী সরকারের কাছ থেকে আমি লীজ নিয়েছি।
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) রুবায়েত হায়াত শিপলুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আল মোস্তফা গ্রুপ যদি কোন সরকারী খাস জমি দখল করে প্রতিষ্ঠান নির্মান করে তাহলে সরকারী জমি রক্ষার্থে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভূমিহীনদের ও সরকারী খাঁস জমি দখল করার অভিযোগ আল মোস্তফা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং এর গেইট ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অংগ-সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে পিরোজপুর আওয়ামী লীগের নামধারী নেতাদের অবৈধ দখলকৃত সরকারী খাস জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ডিসেম্বর/১৬ দখলকৃত জমিতে লাল নিশান ও সাইবোর্ড টানিয়ে দেওয়ার পর ভূমি দস্যু আল মোস্তফার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রশাসনের দেওয়া লাল নিশান উপড়ে ফেলে দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলাম বলেন, এই উপজেলায় আমি নতুন নিয়োগ পেয়েছি। আপনারা তথ্য দিয়ে নিউজ করেন, অবগত হয়ে খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।