চাদাঁবাজী করতে গিয়ে গনপিটুনির স্বীকার তিন সোর্স সহ সোনারগাঁ থানার দুই এসআই

0
4808

unnamed

মাজহারুল ইসলাম: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) এর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আক্ষায়িত করে মারধর করে চাঁদাবাজী করার অভিযোগ এনে এলাকাবাসীরা দুই এসআই কে আটক করে গনধোলাই দিয়ে পাঁচ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, জামপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে সন্ধ্যায় সাদা পোশাকে সোনারগাঁ থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল লতিফ ও আমিনুল ইসলাম প্রবেশ করে তার ঘরের দরজায় ধাক্কা দেয়, এসময় ওই ব্যবসায়ী নামাজ আদায় করছিলেন। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় ওই দুই এসআই তার সঙ্গে থাকা পুলিশের তিন সোর্স একাধিক মাদক মামলার আসামী হাবিব মিয়া, মিঠু হোসেন ও রুমা আক্তার কে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসায়ীর কক্ষে প্রবেশ করে তার ঘরে মাদক আছে এ কথা উল্লেখ করে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন এতে রাজি না হওয়ায় পুলিশের দুই এসআই ও তাদের সোর্সরা বিল্লাল হোসেনকে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে আহত করে। এসময় তার আত্মচিৎকারে খবর পেয়ে এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে তার বাড়িতে এসে ওই দুই এসআই ও তাদের সোর্সদের আটক করে গণপিটুনি দিয়ে একটি কক্ষে আটক করে রাখে।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার দুই ঘন্টা পর ঘটস্থলে উপস্থিত হলে এলাকাবাসীরা বিচার চাই! বিচার চাই! স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। পরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান রাত ১০ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই এসআই ও তাদের সোর্সদের বিচার করা হবে এই আশ্বাস দেওয়ার পর রাত ১০ টার দিকে এলাকাবাসীরা তাদের ছেড়ে দেয়।
রাত ১০ টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। পুলিশের নির্যাতনের স্বীকার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের তিন ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে। এসময় তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন।ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, আমি অত্র এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আমার বিরুদ্ধে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ নেই। পুলিশের দুই এসআই লোভে পরে ১০ লাখ টাকার চাঁদার দাবিতে আমার উপর নির্যাতন চালায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে ওই দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাদা পোশাকে অভিযান চালানোর ব্যাপারে উচ্চআদালতের নিষেজ্ঞা আছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিম শিকদার শিপলু জানান, ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন এলাকার মাদক বিরোধী আন্দোলনসহ সব ভালো কাজের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে এলাকায় কোনো অভিযোগ নেই। এ ঘটনার সঙ্গে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।