সোনারগাঁও পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে চরম গ্রাহক হয়রানী

0
2795

Untitled-02
আজকের সোনারগাঁওঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দীর্ঘদিন যাবত অতিরিক্ত ভুয়া বিলের যাতাকলে পড়ে প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা । অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পেয়ে হতাশ ভুক্তভোগীরা । খোজ নিয়ে জানা গেছে নারায়ণগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ সোনারগাঁও জোনাল অফিস থেকে যে সব মিটার গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয় তা বেশীরভাগই নষ্ট কিংবা অতিরিক্ত ঘুরে । প্রথম সংযোগ দিলে বিল হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, গ্রাহক বিল দেখে আৎকে উঠে অফিসে অভিযোগ করলে মিটার চেঞ্জ করে দেয় তখন বিল আসে মাত্র ১১০ টাকা । মিটার চেঞ্জ করতে করতে দুই থেকে তিন মাস চলে যায় এর ফাকে মোটা অংকের বিল জমা পড়ে গ্রাহকের গাড়ে । মুখে বলে আসে মিটার খারাপ ছিল চেঞ্জ করে দিলাম । অতিরিক্তি বিলের দায়কার , কেন আমি এত বিল পরিশোধ করবো গ্রাহকের এমন অভিযোগে বিরক্ত হয়ে অফিস কতৃপক্ষের সাফ জবাব অতিরিক্ত বিল হোক আর যাই হোক বিল পরিশোধ করতেই হবে । প্রতিদিন শতশত এরকম অভিযোগের কোন সুরাহা না করে উল্টা গ্রাহকদের নানা ভাবে হয়রানী করছে । সরেজমিনে দেখা গেছে একজন মুক্তি যোদ্ধার মেয়ে অফিসে এসে কান্নাসুরে বলছে আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তিনি বেচে নেই খুব অসহায় অবস্থায় আছি এর মধ্যে এরকম ভুয়া বারতী বিলের বোঝা সইতে পারছিনা আমার এই ভুয়া বিলের ব্যপারে একটা কিছু করেন । আরেক গ্রাহকের অভিযোগ মিটার সংযোগ বন্ধ অথচ তার নামে বিল করা হয়েছে । বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী এসব গ্রাহকরা এরকম বারতী ভুয়া বিলের চাপ থেকে রেহাই চায় । বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার নাজমুল আলম ভুইয়া বলেন আমি একটি মিটার সংযোগের জন্য আবেদন করলে আমাকে মিটার সংযোগ দেয়া হয় কিন্ত একটি ফ্যান আর দুইটি বাতির বিল হয় ৩ হাজার টাকা আমার অভিযোগে মিটার চেঞ্জ করে দেয়া হয়েছে এর মধ্যে দুই তিন মাসের বিল ৭ হাজার টাকা হয়ে গেছে । মিটার চেঞ্জ করার পরে বিল এসেছে ১১০ টাকা । সাথে সাথে বারতি বিলের ব্যপারে আবেদন করলে জানানো হয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে । আজ বৃহস্পতিবার সোনারগাঁও জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম মোস্তফার নিকট গেলে তিনি জানান এ ব্যপারে কোন আবেদন পত্র জমা নেই । আধা ঘন্টা পরে খোজ নিয়ে বলেন আবেদন পত্র পাওয়া গেছে তদন্ত করা হয়েছে মিটার ঠিক আছে বিল দিতে হবে আমার কিছু করার নেই । ডিজিএমের এমন উত্তরে ভুক্তভোগী গ্রাহক হতাশ হয়ে ফিরে যান । ৩ হাজার টাকা থেকে ১১০ টাকা বিদ্যুৎ বিল এতে করে আপনিকি বুঝতে পারছেননা মিটারটা নষ্ট ছিল কিংবা মিটার নষ্ট না থাকলে কেন পরিবর্তন করা হল সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে নারায়নগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ সোনারগাঁ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম মোস্তফা বলেন আমি বুঝি বলেইতো চেয়ারে বসেছি । ভুক্তভোগী গ্রাহকদের প্রশ্ন তাহলে তিনি কি জেনে বুঝেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব করছেন । সোনারগাঁও এলাকা পরিচালক-৩ মোঃ মোস্তফা কামাল শাহীন বলেন কয়েক মাস হল আমি দায়িত্ব পেয়েছি এব্যাপারে খোজ নিয়ে সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। এব্যাপরে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান নাছিমা আক্তার বলেন এরকম আরও অনেক অভিযোগ শুনেছি । গ্রাহকদের এভাবে হয়রানী করা যাবেনা সঠিক বিল নির্ধারণ করতে হবে ।