আড়াইহাজারে সংগঠনে স্বস্তিতে আওয়ামী লীগ বিএনপিতে অস্তিত্ব সংকট

0
666

Untitled-02

আড়াইহাজার প্রতিনিধি:

আড়াইহাজারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে সাংগঠিনভাবে বিগত দিনের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও স্বস্তিকর অবস্থায় বিরাজ করছে। কিন্তু বৃহত্তম দল বলে খ্যাত বিএনপির সংগঠনতো দূরের কথা দলটি এই উপজেলায় এখন অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন (কমিটি) নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছরে কাউন্সিল করে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। এতে একদিকে দলের মধ্যে নেতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সর্বত্র স্তরেই বাড়ছে কর্মীর পরিমাণ। আগামী একাদশ নির্বাচনে মাঠ গুছাতে দলটির কোনো বেগ পেতে হবে না বলে অনেকে দাবী করছেন। অপরদিকে বিএনপির থানা কমিটির অবস্থা যেন লেজে গোবরে অবস্থা বিরাজ করছে। থানার কোনো স্তরেই দলটির কমিটি নেই। এতে আগামী নির্বাচনে দলটি মাঠে নামাই কষ্ট হয়ে যাবে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাথে করা হলে তাদের মধ্যে অনেকে বলেন, আড়াইহাজার উপজেলায় অতীতে কোনো সময়ে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবু মতো সাংগঠনিক ব্যাক্তি আওয়ামী লীগে ছিল না। এখানে কলেজের ভিপি নির্বাচন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিট কারার ক্ষেত্রে কাউন্সিল করে গণতান্ত্রাতিক প্রক্রিয়া বজায় রেখে কমিটি ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের প্রতিযোগীতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে কমিটিতে আগত তরুণ নেতৃত্বও সাংগঠনিকভাবে দক্ষতা অর্জন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দি¦তাপূর্ণ। এ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের তৎপতা থাকবে চোখে পড়ার মতো। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সন্তোষজনক কর্মী সৃষ্টি হয়ে গেছে। কর্মী বান্ধব নেতা হিসাবে এরই মধ্যে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দের দাবী এমপি বাবু ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই তার নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়ান। উন্নয়নও করেছেন যতেষ্ট। যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

অপরদিকে এই উপজেলায় বিএনপিতে অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন। অথবা দল পরিচালনা করেছেন। তাদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষাতা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর সপ্তাহে একদিন প্রতি (সোমবার) তার নির্বাচনী এলাকায় এসে দায়সাড়া দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বিভিন্ন স্তরের ইউনিট অথাৎ কমিটিগুলোতে ছিল ভৈষ্যমেভরা। ছিল না কোনো গণতন্ত্র। যে যার মতো করে কমিটি পরিচালনা করে গেছেন। অধিকাংশ কমিটি ছিল পকেট কমিটি। অতীতে কখন কাউন্সিল করে কমিটি ঘোষণা করার নজিড় আড়াইহাজারে নেই। একারণে নেতা বা কর্মী সৃষ্টি অন্তরায় ছিল। উপজেলা বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে কর্মীদের বরাবর অভিযোগ রয়েছে। তিনি (খসরু) পকেট কমিটি দিয়ে দল পরিচালনা করায় দলের মধ্যে ভিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক নেতৃত্বও সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমেই নেতা ও কর্মী শূন্য হয়ে পড়েছে দলটি। এতে দেশের বৃহত্তম দল বলে খ্যাত রাজনৈতিক দলটির এই উপজেলায় বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটি হুঁচোট খাওয়ার সম্ভব না রয়েছে বলে দাবী করছেন রানৈতিক এ বিশ্লেষকদের মধ্যে অনেকে।

থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, থানা আওয়ামী লীগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। প্রতিটি ইউনিট কাউন্সিল করে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। এতে সঠিক নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন।

এদিকে, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নয়ন মোল্লা বলেন, আগামী দিনের থানার বিভিন্ন সকল কমিটিগুলো কাউন্সিল করে ঘোষণা দেয়া হবে। থানা কমিটিতে ইমেজাধারী ও কর্মী বান্ধব নেতা নির্বাচনে আমরা চেষ্টা করা হচ্ছে।