আড়াইহাজারে কমিটিতে পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবী তৃণমুলের

0
500

Untitled-02

আড়াইহাজার প্রতিনিধি:আড়াইহাজারে বিএনপির আগামী কমিটিতে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবী জানিয়েছে দলটির তৃণমুল নেতাকর্মীরা। তবে কর্মীদের অভিযোগ, পর্দার আড়াঁলে থেকে একটি মহল বিভিন্ন কায়দায় মুলদলের কমিটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছেন। ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে কমিটি দেয়া হলে সেটি “শাপে নেঁউড়ে না হয়ে, শাপে বর” হয়ে দেখা দিতে পারে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে যাদের কোনো ভুমিকায়ই ছিল না; সেসব নেতারা এখন পদের জন্য বেশ সরব হয়ে উঠেছেন। হামলার, মামলার ভয়ে যেসব নেতারা আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজু করে চলছেন। তারাই এখন বিএনপির আগামী কমিটিতে স্থান পেতে লবিং করছেন। অনেকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে মন্তব্য করেছেন, বিশেষ সুবিধা পেয়ে আবারও যে, পকেট কমিটি দেয়া হবে না। সেই আশঙ্কা উঁড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে সভাপতি প্রার্থী ঘোষণার পরই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন বিএনপির নেতা ও সাবেক বিআরডি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন অনু।

সোমবার সরেজমিন গেলে উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক বিআরডি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন অনু বলেন, উপজেলা বিএনপির অতীতের রাজনীতি নষ্ট হয়েছে ঢাকায় বসে রাজনীতি করার কারণে। উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষনেতা আন্দোলন সংগ্রাম মাঠে ছিলেন না। তারা দলের জন্য নয়; তাদের রাজনীতি করেছেন নিজেদের আখেরঁগুছার জন্য। উপজেলা বিএনপির প্রায় ১৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। তাদের পাশে আমি অনু ছিলাম। কিন্তু শীর্ষ দুইনেতার বিরুদ্ধে একটি মামলাও নেই। একদিনের জন্যও তারা কোর্টের বারান্দায় যায়নি। অথচ বিএনপির তৃণমুলের নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলায় আসামি হয়ে দিনের পর দিন মাসের পর মাস জেল-জুলুমের শিকার হচ্ছেন। তিনি  সবেইকে আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন ঢাকায় বসে কমিটি ঘোষণার চিন্তা না করে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটু ভাবি। সবার মতামত নিয়ে একটি সর্বজনিন কমিটি বেগম জিয়াকে উপহার দেই।

এদিকে,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেতা হাজী মোঃ ইউছূফ আলী বলেন, বিএনপির আগামী কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পর্দার আড়ালে থেকে একটি মহল ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। অতীতের মতো বিএনপিতে পকেট কমিটি ঘোষণা দেয়া হলে দলের জন্য বুমেরাং হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনের কমিটিতে পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে। উপজেলা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হচ্ছেন। ইউছূফ আলী বলেন, আমি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। সুবিধাবাদী অনেক নেতাই তখন এলাকা থেকে চলে গিয়েছেন। তাদের ছাঁয়াও দেখা যায়নি। ইউছূফ আলী বলেন, দলের ক্লান্তি লগ্নে আমি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নিয়েছি।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর বলেন, অতীতে যারা কমিটির মূল দায়িত্বে ছিলেন। তারা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেনি। তারা দলের মধ্যে উপযুক্ত কর্মী ও নেতা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের উদারতার অভাবে দলটির আজ বেহাল দশা বিরাজ করছে। বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের দুই নেতার দিকে আঙ্গুল তুলে বিএনপির এই প্রবীন নেতা বলেন, আমরা অতীতে দল ও কর্মীদের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। যোগ্যতার ভিত্তিতে আমাদের অতীতে মূল্যায়ন করা হয়নি। আগামী কমিটিতে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলে আমি সবাই নিয়ে দলের জন্য একোনিষ্ট ভাবে কাজ করব। তবে যদি উপযুক্ত অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়; তাহলেও আমি দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাব।

৯০’এর ছাত্রনেতা আড়াইহাজার থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এমএ মতিন ভূঁইয়া বলেন, আড়াইহাজার বিএনপি’র ধংস হওয়ার মুলে রয়েছে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা। তারা ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছেন। তৃণমুলের নেতাকর্মীরা তাদের কাছে না পেয়ে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকে চাপের মুখে দলত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টীমরোলার চালালেও একদিনের জন্য তারা খবর নেয়নি।