ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কি.মি. যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

0
946

Untitled-02 - Copy

শাহজালাল মিয়াঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতুর টোল এলাকা থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ৩০ কি.মি. যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ছুটিতে বাড়ীতে যাওয়া মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক যাত্রীরা পায়ে হেটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

কুমিল্লাগামী তিসা পরিবহনের যাত্রী আয়েত আলী ও গফুর মিয়া জানান, কাচঁপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পার হতেই আমাদের ৫ ঘন্টা সময় বাসে বসে থাকতে হয়েছে। নোয়াখালীর যাত্রী মমতাজ বেগম ও সুলতানা আক্তার জানায়, তীব্র যানজট ও গরমে আমাদের সাথে থাকা নারী , শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক বৃহস্পতিবার যানজটের কবলে পড়ে অবর্নণীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের।

চট্টগ্রাম পরিবহনের যাত্রী সুরাইয়া বেগম ও ছামসুন নাহার ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করে বলেন, এত পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করার পরও কেন যানজটের কবলে পড়তে হয় আমাদের। তারা জানায়, পুলিশের কতিপয় সদস্যদের চাদাঁবাজীর কারনেই আমাদের যানজটের কবলে পড়তে হয়।

 শুক্রবার অনুসন্ধান চালিয়ে, কাচঁপুর ও শিমরাইল এলাকায় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য, সচেতন ব্যাক্তি, ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, শিমরাইল মোড় ও কাচঁপুর এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মান, মহাসড়কের উপর কাউন্টার সার্ভিস বসিয়ে পরিবহন দাড় করিয়ে রেখে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া পুলিশের কতিপয় কর্তারা পরিবহন দাড় করিয়ে রেখে যানজটের সৃষ্টি করেন। কাউন্টার ব্যবসায়ীরা অবৈধ স্থাপনা দখল করা চাদাঁবাজরা থানা পুলিশ ও কাচঁপুর হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

চট্টগ্রামগামী দেশ ট্রাভলস্ পরিবহনের বাস চালক জায়েদ আলী জানান, কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত আসতে সময় আমাদের দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়েছে। মহাসড়কের গাড়ীর চাপ বেশি থাকার কারনে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া শিমরাইল থেকে কাঁচপুর ও মদনপুর এলাকায় দুটি সিগন্যাল পার হয়ে আসতে হয়েছে। ফলে যানজট আরো দীর্ঘ হয়েছে।
সরকারী চাকুরীজীবী কুমিল্লাগামী যাত্রী মোতালিব হোসেন জানান, সরকারী ছুটি বেশি দিন থাকার কারনে বাড়িতে বাবা মা’র সাথে একটু সময় কাটানোর জন্য স্ব-পরিবারে বাড়ি যাচ্ছেন। রাত সাড়ে ১২টায় তিনি কমলাপুর থেকে বাসে উঠে সকালে ৬টার দিকে মেঘনা টোল প্লাজায় এসে পৌঁছেন।

কাচঁপুর হাইওয়ে থানার (ওসি) শেখ শরিফুল আলম জানান, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও কাচঁপুর সেতুর মধ্যে গাড়ি বিকল হওয়ার কারনেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমাদের প্রচেষ্ঠায় (দুপুরে) পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।