হাড়িয়ে যাওয়া শিশু নয়নকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফিরে পেল তার মা হোসনে আরা

0
1300

Untitled-02 - Copy

আরাফাত হোসেন সিফাত ও বিল্লাল হোসেনঃ খাগড়াছড়ি থেকে আড়াই বছর আগে হাড়িয়ে যাওয়া ৯ বছরের শিশু নয়নকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিল সোনারগাঁও থানার পুলিশ। এদিকে হাড়িয়ে যাওয়া শিশু নয়নকে বুকে ফিরে পেয়ে  তার মা হোসনে আরা আনন্দে হয়ে পরেন আত্মহারা।
সোনারগাঁও থানার এএসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ৯ এপ্রিল উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকা থেকে ৯ বছরের অবুঝ শিশু নয়নকে কুড়িয়ে পেয়ে এক ব্যক্তি সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মঞ্জুর কাদেরের কাছে নিয়ে আসেন। এ সময় অবুঝ শিশু নয়ন তার নাম এবং তার মায়ের নাম ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে না। ওসি মো. মঞ্জুর কাদের শিশু নয়নকে এএসআই আবুল কালাম আজাদের হেফাজতে দেন। পরে শিশুটির পরিচয় উদঘাটনের প্রানপণ চেষ্টা চালায়  ও শিশুকে তার গর্ভধারিনী মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফেইসবুকের সাহায্য নেয় এএসআই আবুল কালাম আজাদ।
গত বুধবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিশুকে দেখে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা থানার তবলছড়ি ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান ও স্থানীয় হাসেম মেম্বারের সঙ্গে ফোন আলাপনে জানতে পারেন শিশু নয়ন তবলছড়ি নতুন বাজার এলাকার কুমিল্লা টিলার মৃত বাবুলের ছেলে।
অবুঝ শিশু নয়নের মা’ ভিক্ষা করে সংসার চালায়। আড়াই বছর পর সন্তাকে খুজে পাওয়ার খবর শুনে মা’ আনন্দে আত্মহারা হলেও কাছে আসার মত সাধ্য ছিলনা নয়নের মা’র। এতটাই দারিদ্রতাসীমার নিচে যে তার সন্তানের খোঁজ পাওয়ার পরও সন্তানের কাছে আসার মত তার কাছে গাড়ী ভাড়া টুকুও নেই নয়নের মায়ের। পরে অবুঝ শিশু নয়নকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে বিকাশের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি টাকা পাঠায়। এএসআই আবুল কালাম আজাদ আরো জানান, পিতৃহীন সাড়ে ৬ বছরের অবুঝ শিশু নয়ন আড়াই বছর আগে দারিদ্র মায়ের অজান্তে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে রাস্তায় একটি বাসে উঠে। বাসে উঠায় নয়নের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। অবুঝ নয়ন হারিয়ে ফেলে তার পিতা-মাতার ঠিকানা। ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ফুটপাত অবুঝ নয়নের বেঁচে থাকার জীবন সঙ্গী। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে চলতে চলতে অবশেষে তার স্থান হয় সোনারগাঁও থানার পুলিশের কাছে।
অবশেষে হাড়িয়ে যাওয়া শিশু নয়নকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফিরে পেল তার মা হোসনে আরা।