১৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কলেজ ছাত্র নাজমুলের হত্যাকারীরা

0
1311

স্টাফ রিপোর্টার: আড়াইহাজারে মেধাবী কলেজ শিক্ষার্থী নাজমুলের হত্যাকারী স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুইনেতা ঘটনার ১৫ দিনের গ্রেফতার হয়নি। এতে নিহতের পরিবারে মামলার অগ্রগতি নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। স্বজনদের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মামলার তদন্ত কাজ বাধা গ্রস্ত হচ্ছে। তবে পুলিশের দাবী, আসামিদের গ্রেফতারের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। অচিরেই দোষীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে নিরহ একটি ছাত্রের প্রাণ গেলো। এঘটনার পর থেকে সাধারণ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির পদ-পদবী নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপই সভাপতির পদ দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এনিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার গ্রামবাসীর মধ্যে লুটপাট,বাড়ি ঘর ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় থানায় হাজারো গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আরো জানান, ক্ষমতাসীন দলের একটি পক্ষ মামলা দিয়ে হয়রানি করে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন। এতে শান্তিপ্রিয় নয়নাবাদ, কাকড়াইল মোড়া ও বাহেরচর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে অনেক নিরীহ মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এদিকে, নিহতের পিতা রইজ উদ্দিন বলেন, আমি কোনো রাজনীতি করি না; রাজনীতি বুঝি না, কাজ করে সংসার চালাই। আমার সাথে কারোর কোনো বিরোধ নেই। তবে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো কেন? তিনি বলেন, ছেলের খুনীদের সাথে আমি আপোষ হব না। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। তবে প্রভাবশালী কেউ পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। এতে মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না। মামলার বাদী পুত্র হারা পিতা রইজ উদ্দিনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না।

আড়াইহাজার থানার উপপরির্দশক উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজাহার বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার শৈথলতা নেই। সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে আসামি গ্রেফতারে কেউ সহযোগিতা করছে না। কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই আসামিদের গ্রেফতারে সক্ষম হব।

নাজমুল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিবরণ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, নয়নাবাদ রইজ উদ্দিনের সঙ্গে বাহেরচর গ্রামের মঞ্জুর মিয়ার পূর্ববিরোধ ছিল। এরই জের ধরে চলতি বছরের (২৮ মার্চ মঙ্গলবার) লাঠিসোটা, টেটা, ভল্লম ইত্যাদী দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কাকড়াইলমোড়া, বাহেরচর ও নয়নাবাদ এলাকার লোকজনেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। থেমে থেমে চলা সংঘর্ষের এক পর্যায়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী ও স্থানীয় হাজী বেলায়েত হোসেন ডিগ্রী কলেজ ছাত্র নাজমুল গলায় টেঁটা বিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।