অদৃশ্য সিন্ডিকেটের হাতে আনন্দবাজার হাট ছায়া শক্তি যুবলীগনেতা নবী হোসেন ও বাছেদ মেম্বার

0
1734

Untitled-02 - Copya21

আজকের সোনারগাঁওঃ সোনারগাঁয়ের বিখ্যাত হাট আনন্দবাজার অদৃশ্য সিন্ডিকেটের হাতে বিলুপ্তির পথে । সিন্ডিকেটের মহা কৌশলের ফাঁদে পড়ে হাটের ক্রেতা বিক্রেতারা মহাসংকটে । অদৃশ্য সিন্ডিকেটের বেড়াজালে সোনারগাঁ প্রশাসনের বিভ্রান্তের কারণে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাতে বসেছে । ইজারার মাধ্যমে গত বছর আনন্দবাজার হাট ৭০ লাখ টাকায় বন্দোবস্ত দেয়া হয় । ১৪২৪ বাংলা সনে এসে টেন্ডার দেওয়া হলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ অংশ না নিয়ে কৌশলে লুটপাট শুরু করেছে বলে এলাবাসীর অভিযোগ । ইজারা না হওয়ায় অদৃশ্য সিন্ডিকেটের বেড়াজালে বিভ্রান্ত হয়ে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন সাপ্তাহিক হাট ভিত্তিতে খাস আদায় শুরু করেছে । উপজেলা ভূমি অফিসের দুএকজন কর্মচারী ও এলাকার কিছুও রাজনৈতিক নেতা স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন বাজারে বিভিন্ন মহালে ঘুরে টাকা আদায় করছে । সরকারী লোকদের একটি মহালে বসিয়ে রেখে নেতারা নিজেরা টাকা তুলে তাদের হাতে দিচ্ছে । বেশী টাকা আদায় করে সরকারী লোকদের কাছে এসে বলছে কমটাকা উঠেছে কেউ দিতে চায়না । লুটে খাওয়ার এই খাস আদায় কতদিন চলবে তার হিসেব নেই । এলাকাবসীর অভিযোগ প্রশাসনের সাথে আতাত করেই এই খাস আদায় খেলা শুরু করেছে যাতে ইজারা ৩০ লাখে নেমে আসে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আনন্দবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন প্রতি মহালে বাছেদ মেম্বার ও নবী হোসেন দুই গ্রুপের দুইজন করে লোক দিয়ে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে । অদৃশ্য সিন্ডিকেটের ছায়া শক্তি হিসাবে কাজ করছে বাছেদ মেম্বার ও যুবলীগনেতা নবী হোসেন । তাদের ভয়ে এলাকাবাসী কিছু বলতে পারছেনা । এব্যপারে বাছেদ মেম্বার বলেন আমরা যারা ইজারা নিয়ে থাকি প্রতিবছর খাস আদায় করার সময় আমরা আমাদের লোকজন দিয়ে সরকারি লোকদের সহযোগিতা করে থাকি । সিন্ডিকেটের কথা সত্য নয় বলে জানান বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নবীহোসেন । আনন্দবাজার হাটে প্রায় ২০ টি বিভিন্ন মহালের ৬শ দোকান বা চটি রয়েছে এর থেকে ইজারাদার প্রতিষ্টান গরুর হাট সহ প্রতিবছর দেড় কোটি টাকা আদায় করে থাকে বলে এলাকাবাসী ও হাটের বিক্রেতারা জানায় । হাটে কাচামালের মহালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দামদরদী এলাকার আব্দুর রশিদ বলেন এখানে আমরা সবজী বিক্রি করি চটির ভাড়া দিতে হয় প্রতি হাটে ৮০ টাকা সপ্তাহে দুই দিন হাট বসলেও যারা ইজারাদার তাদের কারনে দিনদিন কমে যাচ্ছে কাষ্টমার, নুনের টেক এলাকার মানুষ বালু নিয়ে গেঞ্জামের কারনে আসেনা তাই বেচাবিক্রি কম কিন্তু টাকা আগের মতই দিতে হচ্ছে । টেঙ্গারচরের জাহের আলী ব্যবসা করেন ২৫ বছর যাবত প্রতিহাটে ৬০ থেকে ১শ টাকা দিতে হয় । তাজুল ইসলাম বলেন দৃই গ্রুপের দুইজন আসে খাজনা নিতে আমরা ব্যবসা করি তাই খাজনা দিয়ে দেই সরকার পাইল কি পাইলনা সেটা আমরা জানিনা । খোজ নিয়ে জানা গেছে কাঠের মহাল (প্রতি চটি ভাড়া ৬ শ থেকে ৮ শ টাকা),ছোনবেত,মাছের মহাল,তরকারীর,কাপর,মুলিবাস, ফলের মহাল, কাঠাল(অলাদা একটা মহাল),বাদাম, বিস্কুট,মনোহারী, গরুর মহাল সহ ২০ থেকে ২২ টি মহাল রয়েছে আনন্দবাজার হাটটিতে । কুরবানির ঈদের হাট একই ইজারার অর্šÍভুক্ত। অন্যদিকে আনন্দবাজার হাটের সম্পুন্ন জায়গা সরকারী খাস হলেও প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে গড়ে তুলেছে আবাসিক এলাকার মত দোতলা তিনতলা ভবন । সরকারি খাস জমিতে পাকা ভবন নির্মান নিষেধ থাকলেও মানছেনা আইন । সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম বলেন আনন্দবাজার হাটের ইজারার ব্যবস্থা না হওয়াতে আইন অনুযায়ী খাস আদায় শুরু করেছি । সিন্ডিকেটের কবলে আনন্দবাজার হাটের খাস আদায় কতদিন চলবে প্রশ্নের জবাবে বলেন কেউ যদি সিন্ডিকেট করে থাকে আমরা সেটা দেখব দেখাযাক কতদিন চলে ।