আড়াইহাজারে বিএনপিতে কোন্দল জিইয়ে রাখতে চান দুইনেতা

0
732

Untitled-02 - Copy
আজকের সোনারগাঁওঃ আড়াইহাজারে থানা বিএনপির দুইনেতা দলীয় কোন্দল জিইয়ে রাখতে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও, অচিরেই ঘোষণা হবে থানা বিএনপির কমিটি। অনেকে অভিযোগ করেছেন, দলীয় কোন্দল নিরসন নয়; নিজেদের স্বার্থ হাছিলের জন্য কোন্দল জিইয়ে রাখতে চান সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর ও এএম বদরুজ্জামান খসরু। অনেকে অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে তাদের মধ্যে কোন্দলের দানা বাঁধে। উক্ত নির্বাচনে খসরু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে “ঘুরি” মার্কায় নির্বাচন করেন। এর ফলে দলের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। আঙ্গুরের ইন্ধনে তার লোকজন খসরুকে নানাভাবে লাঞ্চিত করতে শুরু করেন। নিরবে নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় কাধাঁছোড়াছড়ি। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে শক্রতা প্রকাশ পায়। তবে কোন্দলের আগুনে তারা দুজনই পেছনে থেকে “ঘি” ঢালতে শুরু করেন। এর পরই পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে যায় আড়াইহাজার থানা বিএনপির রাজনীতি। দলীয় কার্যক্রমে খসরু আঙ্গুরের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাতে শুরু করেন। ফখরুউদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের আমলে খসরু কিছুটা প্রকাশ্যে রাজনীতি করলেও, আঙ্গুর চলে যান পুরোপুরি আত্মগোপনে। গ্রেফতারের ভয়ে তিনি সংস্কারপন্থীদের তালিকাভুক্ত হন। ছটকে পড়েন বিএনপির রাজনীতি থেকে। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে একদিনের জন্যও আঙ্গুর তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নামেনি। তাকে কাছে না পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের যোগদান করেছেন। অনেকে অভিযোগ করেন, কোন্দল জিইয়ে রাখতে সপ্তাহে একদিন গোপনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতেগোনা দু’চারজন নেতাকর্মী নিয়ে কোন্দলের আগুনে “ঘি” ঢালছেন আঙ্গুর। স্বাধীনতার পর এই প্রথম উপজেলা সদরে আয়োজিত বিএনপির ৭০ প্রয়াত নেতাকর্মীর স্বরণ সভা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আসার জন্য অবহিত করার পরও আঙ্গুর ও খসরু আসেনি। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। দুইভাইকে থানা বিএনপির পক্ষ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণারও দাবী করেছেন কেউ কেউ। তবে উপস্থিত ছিলেন, ইকবালগ্রুপ ও আজাদ গ্রুপ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছালাউদ্দন মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্যাহ খালিদ রাজনসহ আরো অনেকে।

থানা বিএনপির প্রবীন নেতা ও সাবেক স্কুল শিক্ষক ছিদ্দিক বলেন, সাবেক এমপি আঙ্গুর ও এএম বদরুজ্জামান খসরু দলীয় কোন্দল নিরসন নয়; জিইয়ে রাখতে চান। তিনি বলেন, সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। তারা দুইভাই দীর্ঘদিন ধরে দলের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। বিপদে-আপদে তাদের কেউ কাছে পাচ্ছে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটা নেতৃত্ব শূন্য। তবে আনোয়ার হোসেন অনু’র নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এরই মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে আশার আলো দেখতে পারছেন। অনু বিএনপিতে পোড়খাওয়া একজন নেতা। বিগত আন্দোলন সংগ্রাম তার সবর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক প্রায় ৩৪টি মামলা রয়েছে। ছিদ্দিক মাস্টারের দাবী করেন, এইমূহূতে আড়াইহাজার বিএনপিতে অনু’র নেতৃত্ব খুবই প্রয়োজন রয়েছে। তিনি নির্যাতিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে আর্থিক সাহায্য করেছেন।
এদিকে আনোয়ার হোসেন অনু বলেন, কোন্দলের রাজনীতি আমি পছন্দ করি না। দলের জন্য নিবেদিত ও কর্মী বান্ধব নেতার নেতৃত্বে দলের দায়িত্ব দেয়া হলে দলের মধ্যে কোনো কোন্দল থাকবে না। একান্ত স্বাক্ষাতে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দলের জন্য কাজ করলে নেতাকর্মীরাই মূল্যায়ন করবেন। আসুন আওয়ামী লীগের র্দুশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তিনি জানান, আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীরা রেকর্ড পরিমাণ মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। তাদেরকে অচিরেই একটি গণসংর্ধ্বনা দেয়া হবে।
আড়াইহাজার পৌরসভার বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগ, বিগত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পারভীনের পক্ষে আঙ্গুর কাজ করেনি। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য অনেককে নির্দেশ দেন। এনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আঙ্গুর ও খসরু একসাথে মাঠে-ময়দানে ভোট প্রার্থনা করলেও,সাধারণ বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও বিএনপিপন্থী ভোটাররা তাদের বিশ্বাস করেনি। সাধারণ কর্মীদের দাবী ছিল। দুইভাই একমঞ্চে বসতে না পারায় এবং তাদের এগুয়েমী রাজনীতির কারণে আড়াইহাজারে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। বভিষ্যতে তাদের নেতৃত্ব পুর্নরাভিত্তি চায় না।