সোনারগাঁয়ের মাঝেরচরে গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকাবাসী

0
1534

Untitled-02 - Copy

এম ডি অনিকঃ-মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সোনারগাঁ উপজেলার সনমানদী ইউপির মাঝেরচর এলাকার অন্তত ১৫টি পরিবার।ঘটনার বিবরণে জানা গেছে,বিগত কয়েক মাস আগে মাঝেরচর গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে পাশ্ববর্তী কুচিয়ামোড়া এলাকার বখাটে ছেলে গাজী ও অন্যান্য কিছু বখাটে ছেলের সাথে মাঝেরচর এলাকার কয়েকজন এলাকাবাসী রাতের আধারে তাদের পাটক্ষেতে দেখতে পেয়ে সবাই সালিস বসিয়ে বিচার করে দেওয়ায় অভিযুক্ত ছাত্রীর বাবা রাগান্বিত হয়ে এলাকাবাসী কয়েকজনের নামে উল্টো মিথ্যা ইভটিজিং করার অভিযোগ করে সোনারগাঁ থানা থেকে এস আই মাকসুদকে নিয়ে দুই সন্তানের জনক গোলজার হোসেন (৪৫)কে রাতে গ্রেফতার করে সকালের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৬মাসের সাজা প্রদান করে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে গোলজারের পরিবার।একই ঘটনায়  জহিরুল ইসলাম ও সুরুজ মিয়া একত্র হয়ে সুরুজ মিয়া এবং তার ছেলে মাসুদ গংদের সাথে নিয়ে দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাঝেরচর এলাকার নিরীহ রিক্সা চালক গিয়াসউদ্দীন(৫০),বাদশা,রাজু,ফেলান,মুন্না,মাহিন,খোরশেদ,মৃদুল ও এবাদ সহ পূর্বে গ্রেফতারকৃত গোলজার ও রোকনের পরিবারের উপর নির্মম ভাবে হামলা চালিয়ে মহারত্নকক ভাবে আহত করে মামলাবাজ সুরুজ মিয়া জহিরুল ইসলামকে নিয়ে নতুন করে থানায় অভিযোগ করে।অভিযোগের তদন্ত করতে এসে কারো কাছে ভালো মন্দ কিছু না জিজ্ঞেস করেই পুলিশ রোকন নামের একজনকে গ্রেফতার সোনারগাঁ থানায় নিয়ে যায়।পরবর্তীতে বিভিন্ন লোকের সহযোগিতায় ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রোকনকে ছেড়ে দেয় সোনারগাঁ থানা পুলিশ।কোন রকম তদন্ত ছাড়াই যেকোন সময় বিনা ওয়ারেন্টে মাঝেরচর থেকে অসহায় দিন মজুরদের ধরে নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।সদ্য সোনারগাঁ থানা থেকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে ক্লোজ হওয়া এস আই মাকসুদের টাকার লোভ এবং  জহিরুল ও তার সহযোগী মামলাবাজ সুরুজমিয়া একত্র হয়ে মাঝেরচরের নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ইভটিজিং মামলা সাজিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।এলাকাবাসী জানায় ৩ বছর আগে অর্থলোভী জহিরুল তার প্রতিবেশী প্রবাসী আনোয়ারের স্ত্রী অজিফাকে ৩ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার সহ ভাগিয়ে নিয়ে যায়।এখনো পর্যন্ত  আনোয়ারের স্ত্রী অজিফার কোন খোজ মেলিনি।এই নারী লোভী ও পরধন লোভী জহিরুল ইসলাম তার মেয়েকে ইস্যু করে তার নাবালিকা মেয়ের সম্মানের কথা চিন্তা না করে মামলার বিবাদী অসহায় রিক্সা চালক,গার্মেন্টস কর্মি ও দিনমজুরদের কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবী করে বলছেন,আমাকে ২লক্ষ টাকা সবাই মিলে দিলে আমি এই মিথ্যা থেকে তোদের মুক্তি দেবো নয়তো গোলজারের মতো সবাইকে ইভটিজিং এর মামলায় ফাসিয়ে জেল খাটাবো।এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এম বি এম জহুরুল ইসলাম বলেন”উভয় পক্ষের মারামারির ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করছি,বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হবেনা।আশা করি উভয় পক্ষ মিলে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে সমস্যাটি অচিরেই সমাধান করা যাবে। এই মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন সহ জেলা পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করছেন সোনারগাঁয়ের অসহায় মাঝেরচর বাসী।