আড়াইহাজারে সভাপতি পদে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতার লবিং

0
2594

Untitled-02 - Copy
এম এ হাকিম ভূঁইয়া:যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে থানা ছাত্রলীগের পঞ্চম কাউন্সিলের তারিখ। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সভাপতি পদ পেতে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী লবিং করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মনজোগাতে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নেতারা। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন পদ প্রতাশীরা। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে শোডাউন করতে দেখা যাচ্ছে। সর্বত্র ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় সরগম হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রর্থীদের মধ্যে রয়েছেন, আড়াইহাজার সফর আলী কলেজের সাবেক ভিপি নাঈম মোল্লা, আমির হোসেন, পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজিবুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক জিএস আল-আমিন, থানা শেখ রাসেল ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাহিদুর রহমান লাফিজ, এমদাদুল হক মিলন, মাহাবুবুর রহমান সোহেব, জসীম উদ্দীন, সাদ্দাম হোসেন, ইসলাম মোল্লা, নির্জর,মনোয়ার হোসেন, ইসমাইল, আলিবুল হক আসিব, আনোয়ার হোসেনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক সভাপতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, সাবেক ভিপি নাঈম মোল্লা শতভাগ সাংগঠনিক নেতা। তিনি বিগত জামায়াত-বিএনপির আমলে ছাত্রলীগের পতাকা হাতে নিয়ে উপজেলার সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগের তৃণমুলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করেছিলেন। বিএনপি জোট সরকারের আমলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সংক্রান্ত বিষয়ে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। ভিপি হিসাবেও তিনি সফল ছিলেন। তার প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা অনেক বেশী।

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আরেক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, কাজী রাকিবুল ইসলাম জয়েল অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রনেতা। তার রয়েছে শক্তমনোবল। তার সূদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা রয়েছে। আগামী কমিটিতে তিনি সভাপতি হতে পারলে ছাত্রলীগ আর বেশি সুসংগঠিত হবেন। আগামী কমিটি হবে নির্বাচন কালিন কমিটি। জুয়েলকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সহায় ভুমিকা পালন করতে পারবেন।

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক সাধারণ সম্পাদক বলেন, আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের আরেক সফল ভিপি ছিলেন মো: আমির হোসেন ভুইয়া। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভিপি তিনি কনিষ্ঠ হলেও, তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাকে ঘিরে অনেক শিক্ষার্থীই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। কলেজে ছাত্রলীগ চাঙ্গা হয়। তার আচার-আচরণেও সবাই মুগ্ধ হয়ে ছিলেন।

থানা ছাত্রলীগের একনেতা বলেন, পুরাতন কাউকে না দিয়ে জুনিয়রদের মধ্যে কাউকে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিলে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টি হবে। বর্তমানে যারা লবিং করছেন। তাদের মধ্যেও অনেকের যোগ্যতা রয়েছে।

আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক ভিপি মো: নাঈম মোল্লা বলেন, মডেল প্রাথমীক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম পাশ। আড়াইহাজার পাইলট স্কুল থেকে এস এস সি,সরকারি সফর আলী কলেজ থেকে এইস এস সি,নরসিংদি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনারস,ঢাকা কলেজ থেকে মাস্টারস। এখন এল এল বি চলমান সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ।

এদিকে, আড়াইহাজার পৌরসভার ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাকিবুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ছাত্রলীগকে চিনার আগে আমি বঙ্গবন্ধুর নাম শুনে শুনে তার আদর্শ কে বুকে ধারন করে ইতিহাসের এই বাংলার শ্রেষ্ঠ রতœ শেখ মুজিবের আদর্শকে লালন করতে থাকি। ২০০১সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের নিপিড়নের মুখেও সরকারী সফর আলীর কলেজে আমরা ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মীরা সকল বন্ধুরা মিলিত হয়ে ছাত্রলীগকে সক্রিয় রাখার আন্দোলন এবং মিছিল মিটিং করি। ২০০২ সালের সেই মিছিল মিটিংয়ের বন্ধুদের কাছে আজও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। পরবর্তিতে নজরুল ইসলাম বাবুভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে সাক্ষী হয়ে তার খুব কাছ থেকে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হয়ে উঠি। ২০০৩ সালে আড়াইহাজার ইউনিয়ন এর আহবায়ক হিসেবে কাজ করতে থাকি। তারপর ২০০৫ সালে ২৫ শে মার্চ আমাকে আড়াইহাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এবং এইচ এম জাকিরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। ২৮ শে অক্টোবরে আন্দোলন এবং মিছিল মিটিং করতে গিয়ে আমার বাবাকে ৫নং আসামী এবং আমাকে ৬নং আসামি করে ৬৪ জনের মামলা করেন বিএনপি-জামায়াত। আরেকটিতে আমাকে ২নং আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ঠিক সেই সময়ও আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান নজরুল ইসলাম বাবু ভাই। ২০০৮ এর নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বাবুভাই এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আমার পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আমাকে ২০১০সালে সভাপতি এবং মো: সবুজ আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে আমাকে পুনরায় কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেন।

আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের আরেক সফল ভিপি মো: আমির হোসেন ভুইয়া বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতায় আমি এগিয়ে রয়েছি। তিনি জানান, ঢাকা কলেজ-ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে মাস্টার্স, ২০০৭ সালে আমি সরকারী সফর আলী কলেজে ভর্তি হই এবং তখনই সরাসরি নজরুল ইসলাম বাবু ভাইয়ের নির্দেশনায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আদর্শিক সংগঠন গড়ার জন্য কাজ করি। আমি ২০১২ সালে বাংলদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছি। তিনি আরো জানান, এস এস সি পাশ করি সুলতান সাদী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাবু ভাই ও লিয়াকত সিকদার সাহেবের ছবি সংবলিত ক্লাস রুটিন পাই। তারপর থেকেই মূলত ছাত্রলীগ নিয়ে কাজ করতে শুরু করি।