সেন্টমার্টিনের বিকল্প নাই ,উন্নয়নে চাই বহুমুখী পদক্ষেপ

0
1254

Untitled-02 - Copy

নূরুল হক নূর, সেন্টমার্টিন থেকেঃ সেন্টমার্টিনের বিকল্প নাই, আমরা সবাই বাঁচতে চাই! যদি হারে প্রবালদ্বীপ, ঠকবে তবে বাংলাদেশ! সেন্টমার্টিনের ভাঙ্গনরোধ, স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও পুনঃ গঠন করতে হলে বহুমুখী ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু দুয়েক পরিকল্পনা নিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং সম্পদের অপচয় হবে মাত্র। টেকসই ও বহুমুখী পরিকল্পনা জন্য কিছু প্রস্তাব সকলের কাছে তুলে ধরছি। যদি বহুমুখী সকল পদক্ষেপ সমন্বয় সম্পাদন করা যায়, তাহলে সেন্টমার্টিন হবে আরো সুসংগঠিত, পরিবেশবান্ধব, টেকসই, মজবুত ও কাঠামোগত উন্নত। ফলে আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নতি সাধিত হবে। ১) মাষ্টার প্লান করে, নাফ নদীর মোহনায় সৃষ্ট ডুবো চর বা দ্বীপ খনন করে সরিয়ে দিতে হবে, ফলে নাফ নদীর গতি আগের অবস্থানে ফিরে যাবে আর স্রোতের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। এছাড়া ঐ বালি দিয়ে সেন্টমার্টিনের চারপাশে বিলীন হয়ে যাওয়া বালির স্তুপ (ডেইল) পুনঃগঠন করতে হবে। এতে দ্বীপ তার পুরনো অবস্থায় ফিরে যাবে। ২) আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় পাওয়া ক্ষতিপূরণবাবদ টাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে সেন্টমার্টিনের জন্য আলাদা বরাদ্ধ দিতে হবে। যা দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। ৩) টেকসই বেড়িবাঁধ দিতে হবে। যা করতে হবে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি (যতটুকু সম্ভাব) এড়িয়ে। ৪) বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। যার দ্বারা পরিবেশের উন্নয়ন, বাঁধের রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। ৫) শুধু হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্কুল বাদে সব বহুতল ভবন ও ভারী স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে, সব ধ্বংসস্তূপ দ্বীপের বাহিরে সরিয়ে দ্বীপকে ভার মুক্ত করতে হবে। ৬) প্রতিবছর বর্ষার আগে গভীর করে খাল খনন করতে হবে। যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়। ৭) দ্বীপের চারপাশের প্রবালের প্রজনন ও পুনঃ গঠন করতে হবে এবং এইগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ৮) পাথর, প্রবাল, ঝিনুক, কড়ি আহরণ, বালি উত্তোলন, বৃক্ষনিধন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এবং এ কাজে নিয়োজিত মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে তারা অভাবের তাড়নায়, জীবিকার সন্ধানে আবার আত্মঘাতি এই কাজে জড়িয়ে না পড়ে। ৯) দ্বীপবাসীকে(তরুণ, ছাত্র, কর্মক্ষম ব্যক্তি ও নারীদের) শিক্ষা, কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, কম্পিউটার, ভ্রমণ গাইড, ট্যুরিজম, পরিবেশ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। যাতে তাঁরা বিভিন্ন পেশা ও বিকল্প পেশায় নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে। এতে অতিপর্যটন নির্ভরশীলতা কমবে। আর অনৈতিক, অবৈধ ও দ্বীপের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে। ১০) স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কুটির ও পর্যটন শিল্প বিকাশে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে দ্রুত অনগ্রসর জনগোষ্ঠির আর্থসামাজিক প্রসার ঘটে। ১১) দ্বীপের জন্য খুব দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ নীতিমালা তৈরি করতে হবে। যাতে আর কেউ অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ করে দ্বীপকে হুমকিতে পেলতে না পারে। ১২) দ্বীপের জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও সামাজিক অধিকার সমুন্নত রেখে, পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী পর্যটন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ১৩) পর্যটন শিল্পকে যান্ত্রিকতার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজম সিস্টেমে রূপান্তরিত করতে হবে। ১৪) সকল পরিকল্পনা ও কাজ যেন পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব বা পর্যটন মুখী হয়। পরিবেশবান্ধব করতে গিয়ে পর্যটন বিমুখ কিংবা পর্যটনবান্ধ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি যেন না হয়। দুটির সমন্বয়ে উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন। ১৫) নীতিমালা বা কর্ম পরিকল্পনা তৈরিতে দ্বীপবাসীর বিশ্বাস, আর্থসামাজিক ও নাগরিক অধিকার যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে সতর্কতার সাথে দৃষ্টি রাখতে হবে। ১৬) সেন্টমার্টিনের সরকারী বেসরকারি সকল প্রকল্পে(স্থানীয় প্রকল্পে) যোগ্যতা ভিত্তিক ৫০% চাকরির কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে তোলতে হবে। এতে অনগ্রসর দ্বীপবাসীর আর্থিক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দ্বীপ ব্যবহারে আন্তরিকতা বাড়বে। ১৭) কোন অবস্থাতে যেন দ্বীপ ও দ্বীপবাসীর ক্ষতি না হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্বীপ ও দ্বীপবাসীর স্বার্থ সমুন্নত রাখতে হবে। ১৮) দুর্যোগ প্রতিরোধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ১৯) স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ২০) উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।