পুলিশের সোর্সদের গ্রেফতারের দাবীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

0
4001

Untitled-02 - Copy
আজকের সোনারগাঁওঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুুলিশের কথিত সোর্সদের অত্যাচার থেকে মুক্তি এবং গ্রেফতারের দাবীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। শনিবার (১৩ মে) বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্ধারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর হাইওয়ে থানার সামনে অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অনতিবিলম্ভে কথিত সোর্সদের গ্রেফতার না করলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন এলাকাবাসী। এসময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পরে যাত্রী সাধারন। পরে তারা শান্তিপূর্নভাবে মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, সোনারগাঁ থানা পুলিশের কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের শেল্টারে কথিত সোর্স মিরাজ, রনি, রাহাত, ফিরোজ, সোহেল ও মেহেদী কাঁচপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সোনাপুর, চেঙ্গাইন, পশ্চিম ও পুর্ব বেহাকৈরসহ আশ পাশের কয়েকটি এলাকায় প্রতিনিয়িত হয়রানী করে বিষিয়ে তুলেছে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। তারা নিরীহ মানুষকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে নিজেরাই ইয়াবা ও গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে এবং মিথ্যে মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে দাবীকৃত উৎকোচ। তাদেরকে দাবীকৃত উৎকোচ না দিলেই পুলিশের হয়রানীর শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। পুলিশের হয়রানীর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস না পেলেও দিন দিন তাদের অত্যাচার বেড়ে যাওয়ায় ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম বলেন, আমি রিক্সা দিয়ে রাতে বাসায় যাওয়ার সময় পথরোধ করে থামিয়ে মিথ্যে মামলার ভয় দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায় করেছে।
ফাহিমা আক্তার নামে এক গৃহবধু জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সোর্স মিরাজ পুলিশ নিয়ে এসে আমার স্বামী ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী রিপনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানা থেকে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। দাবীকৃত এ টাকা না দিলে তাকে মাদক মামলায় চালান করা হবে বলে হুমকি দেয়।
হাসান মিয়া নামে এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী জানায়, আমাকে মিথ্যে মামলার ভয় দেখিয়ে সোর্সরা ৫ হাজার টাকা আদায় করেছে। পুলিশের হয়রানীর ভয়ে কাউকে বলতে সাহস পাইনি।
জুই আক্তার নামে গার্মেন্টস কর্মী বলেন, রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়ার সময় সোর্সরা কুপ্রস্তাব দেয়।
ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র বিল্লাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয় থেকে আসা যাওয়ার সময় সোর্সরা আমাদের ব্যাগ চেক করে হয়রানী করে।
স্থানীয় এক কারখানার শ্রমিক আ: খালেক বলেন, বেতন নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় কয়েকজন সোর্স আমাকে রাস্তায় আটক করে আমার কাছে মাদক আছে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
এসব ভুক্তভোগীদের মতো অসংখ্য অভিযোগ কথিত এই সোর্সদের বিরুদ্ধে। জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক (পিপিএম) সোর্সদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের শেল্টারে এরা সাধারন মানুষকে জিম্মি করে হয়রানী করছে। সাধারন মানুষকে হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা করতে কথিত সোর্সদের দ্রুত গ্রেফতার দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।