সোনারগাঁয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি দুই মাসে ২৩ বাড়িতে ডাকাতি

0
749

Untitled-02 - Copy

আজকের সোনারগাঁওঃ  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি। গত দুই মাসে ২৩ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বারদী ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের ও পিরোজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পিরোজপুরের মানুষ ডাকাত আতঙ্কে এক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। ওই এলাকায় ডাকাতদলের হামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫ জন গুরতর আহত হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় নূর মোহাম্মদ ওরফে পাগলা নূরাসহ ২০-২৫ জনের ডাকাতদল বারদী ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবুর প্রশ্রয়ে তারা ডাকাতি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে পশ্চিম পিরোজপুরের সাইফুল ইসলাম জানায়, একে একে দুই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় এখন থেকে আমরা নিজেরাই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। এরা কারা আমরা চিনিনা এটা সনাক্ত করার দায়িত্ব প্রশাষনের।
এলাকাবাসী জানায়, গত ১ এপ্রিল রাতে বারদী ইউনিয়নের ছয় বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ২৯ মার্চ সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রফিকের বাড়িসহ চার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ডা. মশিউর রহমানকে কুপিয়ে জখম করে। ২৫ এপ্রিল করিম মেম্বারের বাড়িতে ডাকাতদল হানা দেয়। এ সময় বাধা দিলে করিম মেম্বারকে কুপিয়ে জখম করে। ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বারদী ইউপি কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি ডাকাতদের প্রতিহত করতে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় ২৮ এপ্রিল ঢাকার মিরপুর থেকে ডাকাত সর্দার নূরা মিয়া ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড সফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে নূরা ডাকাত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল হক শিকদার। সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, নূরা ডাকাত গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীরা পুরো এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় নিজেদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ১৫ গ্রামের মানুষ রাত জেগে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রফিক মিয়া বলেন, নূরা ডাকাত ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হলেও কয়েক দিনের মধ্যে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যায়। পরে এলাকায় এসে আগের মতো ডাকাতি শুরু করে। খাসপাড়া গ্রামের গিয়াসউদ্দিন প্রধান বলেন, কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নূরা ডাকাত আওয়ামী লীগে যোগদানের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তিনি আরো বলেন, একাধিক ডাকাতি মামলার চিহ্নিত আসামি কিভাবে আওয়ামী লীগের কর্মী হয় ? অপর দিকে চাদাবাজির গুরু একাদিক মাডার মামলার অন্যতম আসামি সন্ত্রাসি জাকির কিভাবে যুবলীগের সভাপতি হয় ? সোনারগাঁ আওমীলীগে এসব কি হচ্ছে ? বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আহ্বান জানান তিনি।
আলগীরচর গ্রামের সাদেক মিয়া বলেন, সারা দিন পরিশ্রম শেষে রাতে ঘুমাতে পারছি না। ডাকাতের ভয়ে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। একজন ডাকাতের ভয়ে কয়েক হাজার লোক আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পুলিশের কিছু সদস্য মাদক, গরিব পূনর্বাসন, টকশো, ক্রিকেট টোর্নামেন্ট, ফেইজবুক স্টাটাস সহ বিভিন্ন নেতা সুলভ কর্মকান্ড নিয়ে বেসি ব্যস্ত না হয়ে চুরি ডাকাতি রোধে যেন বাস্তব পদক্ষেপ নেন, এসআই আব্দুল হক শিকদারের মত। সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্বক্ষেপ কামনা করছি। মছলন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হোসেন দিপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবার যদি জেল থেকে নূরা ডাকাত ছাড়া পায়, তাহলে অনেক নিরীহ মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল হক শিকদার বলেন, ওই এলাকার বেশির ভাগ ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে নূরা ডাকাত। এবার তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বারদী ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, নূরা ডাকাতের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভূইয়া ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগে কোনো ডাকাতের যোগদান নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। আমাদের দলে কোনো ডাকাত, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর স্থান নেই।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মিসভায় নূরামিয়ার যোগদানের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে খবর নিয়ে জানতে পারলাম যে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। এর পর থেকে তার সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ নেই। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম বলেন, নূরা ডাকাতকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।