সোনারগাঁয়ে ব্যতিক্রমী এক মেলা স্বপ্নে দেখা খুঁটি দেবতার স্বরণে।

0
1784

মোঃ শাহ জালাল মিয়াঃ  সোনারগাঁর বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী গ্রামে বুধবার শেষ দিনে জমে ওঠে ‘পাগলা গাছের মেলা’। একটি গাছ বা খুঁটিকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী এ মেলা হয়। প্রতিবছর মেলা হয় ৩১ বৈশাখ থেকে ২ জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত চলে। স্থানীয়দের কাছে এটি পাগলা গাছের মেলা হিসেবে পরিচিত।
এলাকাবাসী জানায়, ৫০০ বছর আগে হামছাদী গ্রামের দুই ভাই ফনি সেন ও সুরেন্দ সেন ঘর তৈরির জন্য বার্মা (মিয়ানমার) থেকে ২০টি খুঁটি কিনে আনেন। ১ জ্যৈষ্ঠ রাতে তাঁরা স্বপ্নে দেখেন, তাঁদের কেনা খুঁটিগুলোর দুটি নিজেদের দেবতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। খুঁটি দুটি পাগল রূপ ধারণ করে দুই ভাইয়ের উদ্দেশে বলছে, ‘আমাকে ঘরের খুঁটির কাজে লাগাবে না। আমি তোমাদের দেবতা। আমাদের উপাসনা কর। এতে তোমাদের মঙ্গল হবে। পাপ থেকে মুক্তি পাবে। রোগ নিরাময় হবে। ’ পরের দিন দুই ভাই বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি পুকুরপাড়ে খুঁটি দুটি দেখতে পান। এর পর থেকে ফনি ও সুরেন্দ্র খুঁটিগুলোকে দেবতা মনে করে পূজা-অর্চনা করতে থাকেন। সেই থেকে ওই এলাকার হিন্দু ধর্মের লোকজন গাছের খুঁটি দুটিকে প্রতিবছর পহেলা জ্যৈষ্ঠে বিশেষ পূজা-অর্চনা করে আসছে। পরবর্তী সময়ে একটি খুঁটি হারিয়ে যায়।
পূজারিরা জানায়, পূজা শেষে খুঁটিটি পাশের একটি পুকুরে সারা বছর ডুবিয়ে রাখা হয়। পাগল-ভক্তরা ভক্তি করার জন্য প্রতিবছর পুকুর থেকে খুঁটিটি উঠিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করায়। এ ছাড়া ফলফলাদি ঘি, খাসি ও পাঁঠা বলি দিয়ে পাগলা খুঁটির নামে উৎসর্গ করে। পাগলা গাছের মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে।
গতকাল ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দোকানিরা বাঁশের বাঁশি, কাঠের চেয়ার, হাতপাখা, চৌকি, মোড়া, চুড়ি, খেলনা, মিষ্টি ইত্যাদি পণ্য নিয়ে বসেছে। নাগরদোলাও চলছে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, এবারের মেলায় বিপুলসংখ্যক ভক্তের আগমন ঘটে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গীতা পাঠ, কীর্তনসহ হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সংগীত পরিবেশন করা হয়। মেলা উপলক্ষে এলাকায় নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা।