প্রশাসন নিরব সোনারগাঁয় মসজিদের শৌচাগার ভেঙ্গে দিল শ্রমিকলীগ নেতা

0
1645

আজকের সোনারগাঁওঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার উত্তর ষোলপাড়া শাহী জামে মসজিদের শৌচাগার ভেঙ্গে প্রস্তাবিত ইমাম সাহেবের রুমের জায়গাসহ দখল করে নিজের ব্যক্তিগত বাগানবাড়িতে যাতায়াতের জন্য সরকারি খালের উপর একটি ব্রীজ নিমার্ণ করে স্থানীয় ভূমিদস্যু জহিরুল ইসলাম বাবুল। অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নিরব।

জানা যায়, মসজিদের জায়গা দখল করে ব্রীজ নির্মাণ না করার জন্য মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় জনগন তাকে অনুরোধ করলেও তিনি তা না শুনে উল্টো মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দেন। পরে স্থানীয় ভট্টপুর, লাহাপাড়া, ষোল্লপাড়া, পানাম গাবতলী গ্রামের কয়েক হাজার নারীপুরুষ একত্রিত হয়ে মসজিদের জমি রক্ষা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। উক্ত মানববন্ধনটি দেশের প্রত্যেকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সহ নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হয়।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ওই গ্রামের প্রায় ৪৫০ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে প্রায় তিন মাসেও যথাযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সোনারগাঁ থানার কয়েকজন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয় এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মদদ পেয়ে গতকাল রোববার রাতে ভূমিদস্যু জহিরুল ইসলাম বাবুলের লালিত সোনারগাঁ পৌরসভা শ্রমিকলীগের নবনির্বাচিত আহব্বায়ক সন্ত্রাসী মজিবুর রহমান ব্রীজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে মসজিদের শৌচাগারটি ভেঙ্গে ফেলে।

পরে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সোনারগাঁ থানাকে বিষয়টি অবগত করার পর সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি শৌচাগারটি ব্রীজের সামনে থেকে সরিয়ে অনত্র নতুন করে তৈরি করার জন্য তিনি নিজে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা বলে চলে যান। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি শৌচারগারটি ভেঙ্গে ফেলার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে আরোও বলেন, ওসি মঞ্জুর কাদের নিজে তদন্ত করে একাধিকবার মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়ার কথা বললেও তা এখনও না দিয়ে ভূমিদস্যু বাবুলের সঙ্গে আপোষ মীমাংসা করার জন্য বারবার মসজিদ কমিটিকে চাপ দিচ্ছেন।

উত্তর ষোলপাড়া শাহী জামে মসজিদের সভাপতি মঞ্জুর ইসলাম বেপারী বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পাচ্ছি না। পুলিশ বারবার মসজিদ কমিটির লোকজনের বিরুদ্ধে দেওয়া মিথ্যা মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। আমরা মিথ্যা মামলাকে ভয় পাই না। যত ষড়যন্ত্রই হোক মসজিদের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দিব না, এলাকাবাসীদের নিয়ে প্রতিহত করব। তবে মসজিদের জায়গা ছেড়ে ব্রীজ নিমার্ণ করলে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না। যদিও ব্রীজটি সরকারি খালের উপর ব্যক্তিগত বাগানবাড়িতে যাতায়াতের জন্য নির্মিত হচ্ছে। এটা প্রশাসনের বিষয়।

সোনারগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দুলাল মিয়া বলেন, আমরা অনেক হয়রানীর শিকার হয়েছি। প্রশাসনের সব মহলে আবেদন করেও কোন ন্যায় বিচার পাইনি। আমার এলাকার মসজিদের জমি রক্ষায় ও সাধারন মুসল্লিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, মসজিদের জমি নিয়ে অনেকদিন যাবত বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে আদালতে ফৌজদারী মামলা চলছে। আদালতের রায়ের পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।