সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ও পুলিশের ভূমিকা

0
3349

MAP-SONRGA20151204152806

গাজী মোবারক : এক জন গনমাধ্যম কর্মী’র (সাংবাদিক) পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতারের মতো কলঙ্কজনক পরিকল্পনা করে জনতার হাতে লাঞ্ছিত হয়ে ক্ষমা চেয়ে পালিয়েছে সোনারগাঁ থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবল। গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক মাজহারুল ইসলামের অপরাধ কয়েক দিন আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি শিরোনামে তার দৈনিক আলোকিত সময় পত্রিকায় একটি অনুসন্ধ্যানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাই অন্য কারো প্ররোচনায় ও ভবিষতে যাতে আর কোনো সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ না খোলে তার জন্য এ জগন্য পরিকল্পনা। আজ ২৪ মে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ও বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকে খবরটি ছাপা হয়েছে।

গতকাল অনলাইনে খবরটি পড়েছি আর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। গাঁ শিউরে ওঠার মতো খবর। গতকাল মাজহারুল আজ হয়তো আমি কিংবা অন্য সাংবাদিক। তবে সবার না। ভয় তাদেরই যারা পুলিশ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ সংবাদ করে। একজন সাংবাদিকের পকেটে যদি ইয়াবা ঢুকিয়ে দিতে পারে তবে আমাদের কি হবে – কথাগুলো বলছিলেন মোগরাপাড়ার আতঙ্কিত কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। যাদের সমবেত প্রতিবাদ ও প্রচেষ্ঠায় সাংবাদিক মাজহারুল মাদক ব্যবসায়ীর কলঙ্ক থেকে রক্ষা পেয়েছিলো। যদি তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতো, তাহলে হয়তো আজ আমার পত্রিকার খবর হতো। হয়তো লিখতাম চৌকস পুলিশের হাতে ধরা খেলেন মাদক ব্যবসায় জড়িত সাংবাদিক মাজহারুল। তার পরিবারটি এ কলঙ্ক সারা জীবন বয়ে বেড়াত। স্ত্রী ও সন্তানেরা লজ্জায় রাস্তায় বের হতো না। সাংবাদিক মাজহারুল ইসলাম এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আমরা (গণমাধ্যম কর্মী) এ ব্যাপারে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

আমাদের ভাগ্য ভালো সাংবাদিক মাজহারুলকে রাইজদিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মতিনের মতো মাদক ব্যবসায়ীর তকমা নিয়ে মরতে হয়নি। গত ৩ আগষ্ট ২০১৬ তে সোনারগাঁ থানা পুলিশের নির্যাতনে মারা যায় নিরাপরাধ ব্যবসায়ী আঃ মতিন ও গণপিটুনিতে নিহত হন কন্সটেবল আরিফ। ৫ আগষ্ট শুক্রবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে সোনারগাঁয়ের আইনশৃঙ্খলা অবনতির বিষয়ে সম্পাদক বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রাইজদিয়া গ্রামে আসামী ধরার জন্য যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে তা যেমন মর্মান্তিক তেমনি আইনের শাসনের পরিপন্থি। পুলিশের দাবী আব্দুল মতিন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন মামলা হলো না? প্রকৃত অপরাধী ধরতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধাওয়ায় পুলিশ পালিয়ে যাবে কেন? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যেদের সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা ও অবিশ্বাসের অন্যতম কারন ‘উৎকোচ বানিজ্য’। উৎকোচ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিরিহ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে নতুন নয়।

৭ আগষ্ট ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফোরকান সিকদারের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভায় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে এলাকাবাসী বলেন, ‘সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে মাদকের পাইকারী হাট বসেছে। পুলিশ নিরিহ মানুষের পকেটে মাদক ঢুকিয়ে গ্রেফতার ও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করছে। এভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে।’ সোনারগাঁ ও রুপগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা চলছে। তবে দুই থানার রশি টানাটানিতে পুলিশের অভিযান বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে ১৪ আগষ্ট ২০১৬ সাদিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, আমার ইউনিয়নে মাদকের ছড়াছড়ি। আমি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একাধিকবার উপস্থাপন করেছি। পুলিশ অভিযান চালানোর ঘোষনা দিলেও কোন অভিযান পরিচালনা করেনি।