গৃহবধূ ইতি’র খুনিরা ধরা ছোয়ার বাইরে তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা রহস্যজনক

0
2322

Untitled-02 - Copy

আজকের সোনারগাওঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ইতি আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যাকান্ডের ৫৫ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলনের এক সপ্তাহ অতিবাহিত। আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরাফেরা করলে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বাদির পরিবার। হত্যাকান্ডের পর আদালতের নির্দেশে সোনারগাঁও থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। এ হত্যা মামলা পুলিশের উপ পরিদর্শক এসআই শাহ কামাল তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত হায়াত শিপলুর উপস্থিতিতে গত ২১ মে দুপুরে মঙ্গলেরগাঁও কবরস্থান থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করে মর্গে প্রেরন করেন। সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা মুছাপুর ইউপি মালিবাগ গ্রামের মুল্লুক চাঁন মিয়ার মেয়ে ইতি আক্তারকে দুই বছর আগে সোনারগাঁও উপজেলা পিরোজপুর ইউপি দুধঘাটা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে ইয়াছিন ওরফে জুয়েল নিজের পছন্দে বিয়ে হয় ২০১৫ সালের ৩ মার্চে । স্বামী ইয়াছিন ওরফে জুয়েল তার পরিবার ও আতœীয় স্বজনের অমতেই বিয়ে করে বিয়ের দুই মাসের মধ্যে দুবাই চলে যায়। জুয়েল বিদেশে চলে যাওয়ার পর স্বামী অনুপস্থিতিতে অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের জন্য সবসময় ইতিকে উক্ত্যক্ত করতো ননদের জামাই আল আমিন। ২৭ মার্চ তার স্বামী জুয়েল দুবাই থেকে দেশে ফিরে কথা ছিল। গত ২৫ মার্চ রাতে পরিকল্পিত ভাবে শশুর- শ^াশুড়ি ও শশুর বাড়ির লোকজন ইতি আক্তারকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মম ভাবে হত্যা করে। গৃহবধূর পিত্রালয়ের কাউকে না জানিয়ে ২৬ মার্চ লাশ দাফন করে দেয়। বিদেশে থেকে জুয়েলের পরিকল্পনায় প্রথম স্ত্রী ইতি আক্তারকে হত্যা করে । ২৭ মার্চ দেশে ফিরে আসেন জুয়েল। প্রথম স্ত্রী হত্যাকান্ডের ৪ দিনের মধ্যেই জুয়েল দ্বিতীয় বিয়ের পিড়িতে বসে জুয়েল। প্রথম স্ত্রীর শোক কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় স্ত্রী শিলা আক্তারকে নিয়ে সংসার শুরু করে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর ৪ দিন অতিবাহিত হতে না হতেই দ্বিতীয় বিয়ে করায় পরিস্কার হয়ে উঠে নিহত ইতি আক্তারের পরিবার। শশুড় শ^াশুড়ির অমতে বিয়ে করায় ইতিকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় মামলা করতে গেলে থানায় মামলা না নেয়ায় গত ৪ এপ্রিল নিহত গৃহবধূ ইতি আক্তারের বড় বোন রোকসানা আক্তার বাদি হয়ে শশুড়-শ^াশুড়ি- স্বামী, ননদ, ননদের স্বামীসহ ৭জনকে আসামী করে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদির অভিযোগ আমলে নিয়ে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে হত্যা মামলা রুজু পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। এর পর কবর থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

মামলার বাদি রোকসানা আক্তার জানান, প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে জুয়েলের পিতা আব্দুল মজিদ জোর চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন বলে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছি। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ কামাল আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করে হঠাৎ ২১ মে দুপুরে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে। হত্যাকারিরা প্রকাশ্যে ঘুরা ফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। আমরা দরিদ্র বলে পুলিশকে টাকা-পয়সা দিতে না পারায় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ কামাল জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।