সোনারগাঁওয়ে বালু খেকোদের আগ্রাসন ॥ টেটাবিদ্ধসহ আহত ১৫, বাড়িঘর ভাংচুর , আটক-১

0
8822

Untitled-02 - Copy

আজকের সোনারগাঁওঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায়  মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীদের সঙ্গে বালু খেকো সন্ত্রাসীদের ব্যাপক রক্তক্ষয়ী হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধসহ ১৫জন আহত ও ২টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। বালু সন্ত্রাসীদের হামলায় টেটাবিদ্ধ মারাত্মক আহতরা হলেন, আমিরাবাদ গ্রামের মজিবরের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৩), ইসলামের ছেলে মাসুম (২২), খামারগাঁও গ্রামের ফুলমিয়ার ছেলে মো. রনি (৩২) ও টেকপাড়া গ্রামের শাহ্জাহান (৩৬)। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হলেন, খামারগাঁও গ্রামের সিরাজ (৫৫), দামাদরদী গ্রামের নাজমুল হোসেনের স্ত্রী কহিনুর বেগমসহ (৩০),শামিম (৩৫)জাতীয় পার্টির নেতা ইলিয়াছ (৪০) সহ ১৫ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও মুমূর্ষদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে টেটাবিদ্ধ শফিকুল ইসলাম, মাসুমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মঞ্জুর কাদেরের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে দুই প্লাটুন পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) মো. সাজিদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ রকি নামে এক বালু সন্ত্রাসীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,  গত এক সাপ্তাহ যাবত দামাদরদী গ্রামের হোসেন মেম্বারের নেতৃত্বে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করতে বাধা দেয়।  আমিরাবাদ গ্রামের মহিলা মেম্বার আনোয়ারার ছেলে আমির হোসেন ও একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী জিন্নার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একদল সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, টেটা, জুইঁতা ও রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলার নিয়ে মোহরা দিয়ে প্রতিদিনই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে হোসেন মেম্বারের নেতৃত্বে এলাকাবাসী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারিদেরকে বাধা দিলে, বালু সন্ত্রাসী আমির হোসেন ও জিন্নার নেতৃত্বে এলাকাবাসীর উপর দেশীয় টেটা, জুইঁতা ও রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া শুরু হলে উভয় পক্ষের ১৫ জন টেটাবিদ্ধসহ মারাত্মক আহত হয়। পরে সন্ত্রাসীরা ছোনপাড়া গ্রামের ফুল মিয়ার ও দামাদরদী গ্রামের হোসেন মেম্বারের বাড়িঘর ভাংচুর এবং ব্যাপক লুটপাট করে। এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মঞ্জুর কাদের জানান, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে সেই জন্য ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রকি নামে এক জনকে আটক করাও হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) মো. সাজিদুর রহমান বলেন, আনন্দবাজার এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।