সোনারগাঁওয়ে র‌্যাবের অভিযান ॥ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমান পাইরেটেড ও অশ্লীল অডিও ভিডিও সিডি তৈরী ও ভিডিও প্রদর্শনীর সরঞ্জামাদিসহ পাইরেসি চক্রের ১৮ জন সদস্য গ্রেফতার

0
6615

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর লাভলী সিনেমা হল ও আমন্ত্রণ সিনেমা হলসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফি ও পাইরেসী চক্রের সদস্য ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন। গতকাল  মঙ্গলবার ও বুধবার  টানা দুই দিন র‌্যাব-১১ সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাকিল আহমেদের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।গ্রেফতারকৃতরা হলো, কাঁচপুর লাভলী সিনেমা হলের প্রজেক্টর চালক মনির হোসেন (৪৫), মো, শরীফ (২৭), লালচাঁন (২৫), আরিফ (২১), খন্দকার মিজানুর রহমান(৪৯), মাসুম (১৯), সোহাগ ত্রিপুরা (২৩), লিমন (২০), মো. ফয়সাল (২৪), রানা (২০), আব্দুল্লাহ হাসনাত রাহাত(২৪), মো. জিহাদ (২৭), মো. সোহেল (২৯), মো. রাসেল (২৬), মো. জাকির হোসেন (২৬), শাহ আলম (১৮), মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. রফিকুল ইসলামসহ (২৪), ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান কালে র‌্যাবের উপস্থিতির টের পেয়ে তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এ সময় র‌্যাব তাদের কাছ থেকে ২৭ টি মনিটর, ৩০ টি সিপিইউ, ১৭ টি বীড বক্স, ৩২ টি স্পীকার, ১৯ টি কীবোর্ড, ১৯ টি মাউস, ০২ টি প্রজেক্টর, ৩৪৮৫ টি সিডি, বেশকিছু পেনড্রাইভ, কার্ড রিডার ও মেমোরী কার্ড উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। র‌্যার-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল ইসলাম জানান, র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেন তারা এবং তাদের অন্যান্য সহযোগীরা সিনেমা হলে গোপন ক্যামেরায় সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো ধারণ করে নকল-কপি করে তা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। এ কাজে কোন কোন সিনেমা হলের কর্মচারী বা মালিকরাও তাদের সহায়তা করতেন। তারা বিভিন্ন মিউজিক্যাল ষ্টুডিও এবং এ্যাডফার্মের কলাকুশলীদের সাথে যোগাযোগ রাখে এবং তাদের নিকট হতে নতুন মিউজিক ভিডিও সমূহ সংগ্রহ করে। এ সকল ভিডিওর সাথে তারা অশ্লীল ছবির অংশ সংযোগ করে নতুন করে সিডি তৈরী করে বাজারে ছাড়ে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন নায়ক-নায়িকা ও সাধারণ ফেসবুক ব্যবহার কারীদের ছবি সংগ্রহ করে ফটোশপে এডিটিং করে সিডি কভার হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি আরো বলেন, অসাধু ব্যক্তিদের অপতৎপরতায় বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পাশাপাশি অশ্লীলতা প্রচারের মাধ্যমে যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে যুবসমাজ দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে মাদকদ্রব্যসহ নানামুখী অপরাধ প্রবণতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা সমাজের ভিতর অপসংকৃতি প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের (সামাজিক আবহমান কালের) বন্ধনকে আঘাত করে। তাদের অপরাধ কর্মের ফলে যুবসমাজের মধ্যে বিকৃত রুচির প্রচার ও প্রসার লাভ করছে।