৫ বছরের শিশু নয়নকে নারায়ণগঞ্জের ভূলতা-মুড়াপাড়া হতে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের ৩ জনকে গ্রেফতার।

0
3971

অপহৃত শিশু মোঃ নয়ন (০৫) তার নানি মোসাঃ রোসিয়া বেগম, স্বামী-মৃত আবু মিয়া, সাং-উত্তরকান্দি, থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা এর নিকট থাকত। গত ৩১ জুলাই ২০১৭ তারিখ ১৯০০ ঘটিকার সময় শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী ও আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য মোছাঃ শরীফা তার ০৩ বছরের কথিত কন্যা রিয়া মনিসহ ছদ¥বেশ ধারণ, ছলচাতুরী ও কৌশল অবল¤¦ন করে ভিকটিমের নানি মোসাঃ রোসিয়া বেগম এর নিকট রাত্রি যাপনের জন্য আশ্রয় চায়। ভিকটিমের নানির বাড়িতে কোন পুরুষ লোক না থাকায় ভিকটিমের নানি রোসিয়া বেগম সরল বিশ্বাসে শিশু অপহরণকারী মোছাঃ শরীফাকে তার সন্তানসহ আশ্রয় দেয়। এরপর ০১ আগষ্ট ২০১৭ তারিখে মোছাঃ শরীফা কৌশলে ভিকটিম নয়নকে খাবার কিনে দেয়ার কথা বলে অপরহণ করে নারায়ণগঞ্জের ভূলতা এলাকা মুড়াপাড়া নিয়ে আসে। এরপর শিশু অপহরণকারী চক্রের হোতা মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানাসহ অন্যান্যরা তাদের মোবাইল ফোন দিয়ে ভিকটিমের চাচাতো নানা ও মামলার বাদী মোঃ আক্কাস মিয়া এর মোবাইলে ফোন করে জানায় যে, শিশু নয়ন (০৫)কে জীবিত পেতে হলে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে এবং মুক্তিপণের টাকা না দিলে ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ প্রেক্ষিতে ০২ আগষ্ট ২০১৭ তারিখে মোঃ আক্কাস মিয়া (ভিকটিমের চাচাতো নানা) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায় মামলা নং-০৩ তারিখ ০২ আগষ্ট ২০১৭ ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৮ দায়ের করে। মামলার ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়াতে ও জনসম্মুখে চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত হতে থাকে। মামলার বাদী মোঃ আক্কাস মিয়া উক্ত মামলার কপি নিয়ে র‌্যাব-১১ এর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করে শিশু নয়ন (০৫)কে উদ্ধারের আবেদন জানায়। উক্ত অভিযোগের উপর ভিত্তি করে শিশু অপহরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহপূর্বক ০৩ আগষ্ট ২০১৭ তারিখ ১৫০০ ঘটিকায় সময় র‌্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ এর একটি বিশেষ অভিযানিক দল ঢাকার মোহাম্মদপুর আসাদ গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী ও আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা ১। মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানা (২৭) এবং তার সহযোগী ২। মোঃ সোহেল আহমেদ@সোহাগ (২৪)কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানা ও মোঃ সোহেল আহমেদ@সোহাগ এর স্বীকারোক্তি মোতাবেক ১৭৩০ ঘটিকায় সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন ভূলতা মুড়াপাড়া এলাকা হতে শিশু অপরহণকারী চক্রের অন্যতম সদস্য ও গ্রেফতারকৃত মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানা এর ভাড়াকৃত বাসা হতে তার ১ম স্ত্রী মোছাঃ শরীফা (২০) কে গ্রেফতারসহ অপহৃত শিশু নয়নকে (০৫) উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য যে, এই চক্রটি গত ২৮ জুন ২০১৭ তারিখে নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন চৌয়ালা এলাকা হতে এই গ্র“পের অন্য সদস্য মোছাঃ তামান্না বেগম@সাবিনা আক্তার (২১) (যিনি মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানা এর ২য় স্ত্রী), মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানা ও মোঃ রাইসুল এর সহায়তায় ০৭ মাসের মেয়ে সন্তান সাবিকুন নাহার@তোহাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে তাদের নামে নরসিংদী জেলার সদর মডেল থানার মামলা নং-৪৭ তারিখ ২৯ জুন ২০১৭ ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৮ মোতাবেক মামলা তদন্তানাধীন আছে। এই মামলার প্রেক্ষিতে নরসিংদী থানা পুলিশ কর্তৃক মোছাঃ তামান্না বেগম@সাবিনা আক্তার (২১)কে গ্রেফতার করতঃ জেলহাজতে প্রেরণ করেছে এবং আসামী মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানা পলাতক ছিল। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত সোহেল আহমেদ@সোহাগ স্বীকার করেছে যে, ইতিপূর্বে সে এবং তার গ্র“পের অন্যান্য সদস্য ১। বাবু, ২। আবু বক্কর সিদ্দিক, ৩। হামিদ আলী, ৪। শাকিল, ৫। সাইফুল, ৬। শফিক, ৭। বকুল, ৮। রাইসুল ও ৯। জমিরুলসহ যোগসাজসে শিশু অপহরণ ও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ বোরহান উদ্দিন@রাকিবুল হাসান@রানা ইতিপূর্বে নিজ এলাকায় শিশু অপহরণ ঘটনায় তার সহযোগীদের নিয়ে গ্রেফতার হয়ে ০১ বছর ০৬ মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে তার অপকর্ম অব্যাহত রাখে। সে দুই বা ততোধিক বিবাহ করেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাসা ভাড়া করে তার সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত শিশু অপরহণ করে মুক্তিপণ দাবী ও আদায়করে আসছিল।

অপহরণকারীরা কুমিল্লা, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশ এলাকা হতে শিশু অপহরণ করে তাদের বিভিন্ন ভাড়া করা বাসায় রেখে দিত। তাদের অপরাধমুলক কর্মকান্ড যেন স্থানীয় লোকজন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রকাশিত না হয় সে জন্য প্রয়োজনবোধে তারা অপহৃত শিশুদের শরীরে চেতনা নাশক ইনজেকশন দিয়ে প্রায় অচেতন করে রাখত।

গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী ও আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের যে সকল সদস্যরা এখনও গ্রেফতারের আওতায় আসেনি তাদেরকে গ্রেফতার পুর্বক আদালতে সোপর্দ করা এবং অপহরণের শিকার শিশুদের উদ্ধারের জন্য র‌্যাব-১১ কর্তৃক সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।