বিশ্ব কবির শ্রাবণ

0
1115

গাজী মোবারক: আজ ২২ শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সবচে প্রিয় দিন। এটা কি অলৌকিক , শ্রষ্টার আর্শিবাদ নাকি কাকতালীয়? ১৩২৯ বঙ্গাব্দের যেই ২২ শ্রাবণে বিশ্বকবি শান্তিনিকেতনে বর্ষামঙ্গল উৎসব পালন অনুষ্ঠানে নিজের কন্ঠে গেয়েছিলেন ‘আজ আকাশের মনের কথা ঝরঝর বাঁজে’। লিখেছিলেন ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে’। সেই শ্রাবণেই এলো মুক্তির ডাক। ১৩৪৮ সালের ২২ শ্রাবণের বাদল দিনে শ্রষ্টার ডাকে সারা দিয়ে পৃথিবী শূন্য করে বাংলা সাহিত্যকে ভরা-বর্ষার মতো কানায় কানায় পূর্ণ করে চিরবিদায় নেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিগুরুর ৭৭ তম প্রয়াণ দিবস আজ। বাংলার শ্যামল প্রান্তরে প্রকৃতি বৃক্ষান্নপূর্ণা বৈশাখে ৭৬ বছর আগে এ অমর সাহিত্যাসূর্যালোকের উদয় হয়। রবি নামের যথার্থ মর্যাদায় বাংলা সাহিত্যকে পূর্ণালোয় আলোকিত করেছেন। শ্রাবণকে বড় ভালবাসতেন, প্রকৃতির সুধা পান করেছেন জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে। রবির সঙ্গে যেন শ্রাবণের সুখধারার অনুভব। রবীন্দ্র-আষাঢ়-শ্রাবণ এই তিনে মিলেই যেন বাংলার অপরূপ-রূপ-মাধুরীমিশ্রিত বর্ষাকাল। এই তিনে মিলে পরিপূর্ণ আমাদের বাংলা সাহিত্য ভান্ডার। কবি নিজের মাঝে যেন বারংবার খুজে পেয়েছেন জলজ আনন্দ। তাইতো কবির দীর্ঘ জীবনের সৃষ্ট সাহিত্যকে শ্রাবণের ধারার সঙ্গে বেধে রেখেছিলেন অদৃশ্য সুতোর বন্ধনে। কবি প্রকৃতি ও ঋতু বিষয়ক গান লিখেছেন একশো পনেরটি। বর্ষাকে ভালবেসে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের মোহনীয় সৌন্দর্যে বিমোহিত বিশ্বকবি বিরানব্বইটি গান রচনা করেছেন, যা কবির প্রকৃতিবিষয়ক গানের এক পঞ্চমাংশ। মূলত শিলাই দহে প্রায় এক যুগ থাকার পর ঐখানকার বর্ষার রূপ কবিকে মুগ্ধ করে।
বাঙালী সংস্কৃতিতে কবিপুত্র শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩১৩ বঙ্গাব্দের ৫ ফাল্গুন ঋতু উৎসবের সূচনা করেন। কবির রচিত ‘একি লাবণ্যে পূর্ণপ্রাণ’ গানটি দিয়েই প্রথম ঋতু উৎসব শুরু হয়। ঋতু উৎসবের আগে ও পরে ঋতু বিষয়ক গান লিখলেও ১৩২৮ বঙ্গাব্দ থেকে পূর্ণমাত্রায় ঋতু উৎসবের গান রচনা শুরু হয়। বাংলা সাহিত্যাকাশে উদয় হয় ঋতুগানের নতুন নক্ষত্র । এই সময়ে তিনি শীত, হেমন্ত, ও বষন্ত নিয়েও গান রচনা করেছেন। ১৩২৯ বঙ্গাব্দের যেই ২২ শ্রাবণের পর প্রতি বছর শান্তি নিকেতনে বর্ষামঙ্গল উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ষার গান রচনা করে গেছেন। ১৩৪৬ সালের বর্ষা মঙ্গলের জন্য কবি সৃষ্টি করলেন প্রতিটি বাঙালীর হৃদয়ের গহীন সুর ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’। ১৩২৮ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২০ বছরে ২২ শ্রাবণের বর্ষামঙ্গল উৎসবের জন্য তিনি বিরানব্বইটি বর্ষার গান লিখেছেন । নশ্বর পৃথিবীতে অবিনশ্বর কীর্তি রেখে, শেষ পর্যন্ত এই ২২ শ্রাবণের হাত ধরে চলে গেছেন পরপারে।