হাবিবপুরে গৃহবধুর রহস্যময় মৃত্যুর ১৪ দিন পর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের

0
658

আজকের সোনারগাঁওঃ গত ২৫ আগস্ট আজকের সোনারগাঁও.কম এ হাবিবপুরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল । “সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর এলাকার রশিদ মিয়ার বাড়িতে শুক্রবার ৯ টার সময় গলায় ফাসি দিয়ে শিরিনা আক্তার নামের এক গ্রহবুধু আত্মহত্যা করেছে । মৃত শিরিনা আক্তার তার স্বামী শশুর শাশুরী সহ রশিদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকত । বাড়িরর মালিক রশিদ মিয়া জানায় বৃহস্পতিবার রাতের কোন এক সময় ঐ গৃহবধু গলায় ফাসি দিয়ে আত্ম হত্যা করে । শুক্রবার সকালে অন্য ভাড়াটিয়ারা ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে শিরিনার গলায় ফাস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় । ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন । এলাকাবাসী জানায় লাশ নামানোর সময় শিরিনা জীবত ছিল হাসপাতালে নেওয়ার পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে । পরিবারের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে এলাকার অনেকে সন্দেহ করছে । জানা গেছে ৬ মাস আগে সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের বিষনন্দী গ্রামের মোঃ সেলিমের ছেলে  মাছ ব্যবসায়ী ডালিম মিয়ার সাথে আড়াইহাজারের তিলচন্দী গ্রামের ফজলুল হক ভুইয়ার মেয়ে শিরিনা আক্তারের বিবাহ হয়েছিল ।” ঘটনার ১৪ দিন পর   নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় শিরিনা আক্তার নামে এক গৃহবধু হত্যার ঘটনায় নিহত গৃহবধুর পিতা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ।
মামলায় উল্লেখ্য, সোনারগাঁ উপজেলা হাবিবপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ খান এর ভাড়াটিয়া সেলিম মিয়ার ছেলে ডালিম মিয়ার সাথে আড়াইহাজার উপজেলার তিলচন্দি গ্রামের ফজলুল হক ভ’ইয়ার মেয়ে শিরিনা আক্তারের এক বছর আগে বিবাহ হয়। বিবাহর পর থেকে সেলিনার যৌতুকলোভী স্বামী ও শ^শুর যৌতুকের জন্য নানা রকম নির্যাতন করে। ফলে একাধিকবার নিহত গৃহবধুর পরিবার নিহতের স্বামী ডালিম মিয়াকে টাকা দিতে বাধ্য হয়। সর্বশেষ গত ২৪ আগষ্ঠ নিহতের স্বামী ডালিম মিয়া শিরিনা আক্তারকে তার বাবার কছে থেকে ১০হাজার টাকা এনে দিতে বলে। নিহত গৃহবধূ এতে অস্বীকৃতি জানালে তার স্বামী ডালিম মিয়া উত্তেজিত হয়ে তার পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় ওই গৃহবধূকে নির্মমভাবে হত্যা করে।নিহত গৃহবধূ ও মামলার বাদী ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, মাত্র কয়েক হাজার টাকার জন্য নরপশুরা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।
নিহতের মা হাজেরা বেগম বলেন, আমার মেয়ের শ^শুর বাড়ির লোকজন আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। অমরা আদালতে মামলা করায় তাদের সাথে আপোষ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমার মেয়ের শ^শুর সেলিম মিয়া আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।