সওজ কতৃক কাঁচপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দেয়া অগ্রিম টাকা জলে !

0
2000

আজকের সোনারগাঁওঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ও জনপথ সওজের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা প্রায় ১৫ শত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। বুধবার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নেতৃত্বে দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান ফারুকী। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কাঁচপুর এলাকায় দোকানপাট নিমার্ণ করে মাসে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। প্রতি দোকান থেকে মাসিক ও দৈনিক হিসেবে এ চাঁদার টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর এ সব দোকান থেকে অগ্রিম বাবদ ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোশারফ ওমর দেড় শতাধিক দোকান বসিয়ে প্রতি দিন কয়েক হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন। সোনারগাঁও ফিলিং স্টেশনের সরকারী জায়গা দখল কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শ্রমিকলীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান মিয়া প্রায় ৪ শতাধিক দোকান নিমার্ণ করে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা, আবুল খায়ের নামে এক ব্যক্তি দুইশতাধিক দোকান বসিয়ে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন। কাঁচপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন মিয়া ও তার ভাই আক্তার হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা আমান খাঁন মোবাইল মার্কেট, আওয়ামলীগ নেতা আকমল হোসেন শর্তাধিক দোকান, কয়েকশত মার্কেট নির্মান করে কয়েকশত দোকান ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কাঁচপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শরিফ মিয়া ও আমান মিয়া জানান, সরকারী জায়গা থেকে সড়ক ও জনপদের লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে দোকান পাট উচ্ছেদের পরপরই আবারও অবৈধ দখলদারেরা দোকানপাট নির্মাণ করে ফেলেন। তারা আরও জানান, যত বার দোকান ভাঙ্গা হয় ততবার আমাদের অগ্রিম দিতে হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী করিম হোসেন জানান, যতবার দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে তত বারই সওজের কর্মকর্তা ও পুলিশকে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে অগ্রীম বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। আমারা না খেয়ে থাকলেও তাদের (চাঁদাবাজদের) কোন আসে যায় না। বার বার অগ্রীম টাকা দিয়ে আমরা নিঃশ্ব হয়ে পড়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর ও শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল মান্নান মেম্বার সহ সকল দখলদাররা জানান, দলীয় কর্মীরা দৈনিক হারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে থাকেন। বিএনপির আমলেও ফুটপাত থেকে চাঁদা উত্তোলন করা হয়েছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কায়ুম আলী সরদার জানান, সড়ক ও জনপদের জায়গা অবৈধ দখল করে স্থানীয় চাঁদাবাজরা দোকানপাট নির্মান করায় কাঁচপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন দুর পাল্লার যাত্রীরা। এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। যাতে চাঁদাবাজরা ফুটপাত দখল করতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সোমেন জানান, মহাসড়কের কাচঁপুর এলাকায় সড়ক ও জনপদের ফুটপাতের জায়গা অবৈধভাবে জোর পূর্বক দখল করে দোকান ঘর নির্মান করে ব্যবসা করে আসছে একটি প্রভাবশারী মহল। ফলে প্রতিনিয়ত এ এলাকায় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। এ উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বিভাগের উপ-সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহাবুবুর রহমান ফারুকী, নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সোমেন, উপ-প্রকৌশলী সোহেল মাহামুদ, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কায়ুম আলী সরদার, সার্ভেয়ার হুমায়ুন আহাম্মেদ, সোহেল মাহামুদ, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তৈয়বুর রহমান প্রমূখ।