রোহিঙ্গা গন হত্যার প্রতিবাদে সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন

0
491

সোনারগাঁও প্রতিনিধিঃ মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নির্মম ভাবে নিধন, নির্যাতন ও ভিটা মাটি থেকে বিতারণের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সোনারগাঁও উপজেলা জামপুর ইউনিয়নে বস্তল এলাকায় হাইওয়ে রাস্তায় জামপুর ইউপি ওলামা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে। আয়োজন করে ওলামা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. বেলাল নুরুল আফছার সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মো. বেলাল হোসেন পীর সাহেব সোনারগাঁও, জামপুর ইউ পি যুবলীগের সভাপতি সহ সভাপতি আল মামুন দেওযান, জামপুর ইউ পি যুবলীগের যুগ্নসম্পাদক আব্দুল খালেক, জামপুর ইউপি ওলামা ঐক্য পরিষদের উপদেষ্ঠা হাফেজ হাজী আবু ইউছুফ, ওলামা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তি আঃ হোসাইন, সহ সভাপতি মুক্তি মিয়াজুল হক, সোনারগাঁও উপজেলা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল ইসলাম সহ প্রমুখ।যুবলীগের সভাপতি সহ সভাপতি আল মামুন দেওযান বলেন, চীন, ভারত ও রাশিয়ার ভূমিকার সমালোচনা করে রোহিঙ্গাদের স্বার্থে ঐ দেশের সরকার সমূহকে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায় এবং মিয়ানমার থেকে চাল সহ সকল প্রকার দ্রব্য আমদানী বর্জন করার আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা নারী দর্শন, নির্যাতন ও শিশু হত্যার তীব্র নিন্দা জানান।
জামপুর ইউ পি যুবলীগের যুগ্নসম্পাদক আব্দুল খালেক ঐতিহ্যবাহী স্বাধীন আরাকান রাজ্য, যা বর্তমানে মিয়ানমারে দখলীভূক্ত হয়ে রাখাইন রাজ্যে পরিনত হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় শত শত বৎসর যাবৎ নিজ বাস ভূমিতে বসবাস করে আসছে। বিগত ১৯৬২ সালে নে উইন ক্ষমতা দখলের পর রোহিঙ্গাদের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে। ১৯৭০ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ প্রদান বন্ধ করে দেয়। ১৯৭৪ সাল থেকে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এমতাবস্থায় ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গাদের উপর জুলুম নির্যাতন করে তাদের ভিটামাটি থেকে বিতাড়ন শুরু করে। বর্তমানে ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৯০ এবং ২০১২ সালে আগত প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তদুপরি মরার উপর খারার ঘা বর্তমানে ২০১৬ ডিসেম্বর মাসে এবং ২০১৭ এর ২৫ আগষ্ট থেকে আরও প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা কে তাদের বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দিয়ে হত্যা নির্যাতন করে বাংলাদেশে বিতাড়ন করেছেন। এমনকি আরও ৫ লক্ষ নির্যাতিত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা কফি আনান প্রদত্ত তদন্ত কমিশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই এবং রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের নিজ বাসভূমি রাখাইন রাজ্যে পুনরায় প্রত্যাবর্তনের দাবী সহ জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী বাহিনী মোতায়নের দাবী জানাই।