ঠাকুর ঘরে কে রে -আমি কলা খাইনা ! ডাঃ আঃ রউফের বিরুদ্ধে ৮ গ্রাম বাসীর অভিযোগ ও তার রহস্যজনক ভূমিকা

0
5302

Untitled-02-Copy-150x150

হাজী শফিকুল ইসলামঃ  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়নের বৈদ্যেরবাজার, সাতভাইয়াপাড়া, রামগঞ্জ, চান্দেরকীর্তিসহ ৮ গ্রামের কয়েক শত জনগন  সোমবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা  পরিষদের সামনের সড়কে  মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল পালন করেছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন অবিলম্বে অবৈধ ভাবে বালু ভরাট বন্ধ না করলে বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসুচি পালন করা হবে। অবৈধ ভাবে বালু ভরাট বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মারনলিপি প্রদান করেছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন বৈদ্যেরবাজার মাছঘাট এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে কয়েকটি ড্রেজারের মাধ্যমে মারীখালি নদী দখল করে ‘হেরিটেজ পলিমার এন্ড সেমি টিউবস লিমিটেড’ নামের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফের মাধ্যমে বালু ভরাট করে নদীপথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নদী দিয়ে সুদূর কাইকারটেক হাট, উদ্ভবগঞ্জ বাজার, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নদী পথে মালামাল পরিবহন ও যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ক্রয় না করেই ওই কোম্পানির লোকজন জোড়পূর্বক বালু ভরাট করছে। ওই এলাকার হাজী আজিজুল্লাহর ৭টি দাগে প্রায় ১ একর ১০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের স্ত্রী সুরাইয়া করিম মুন্নীর সঙ্গে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সুরাইয়া করিম মুন্নী বিরোধকৃত জমি ‘হেরিটেজ পলিমার এন্ড সেমি টিউবস লিমিটেডের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফা কামাল ওরফে আল মোস্তফার নিকট বিক্রি করে দেন। বর্তমানে ওই বিরোধকৃত সম্পত্তিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি রহিয়াছে।
মো. মোস্তফা কামাল ওরফে আল মোস্তফা বিরোধকৃত জমিতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফের নেতৃত্বে ৩০-৩৫জনের একটি সিন্ডিকেট ওই জমির পাশ্ববর্তী দোকানপাট উচ্ছেদ করে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ওই এলাকার নিরীহ প্রবাসী সাখাওয়াত হোসেন, মজিবুর রহমান,শাহজালাল, হাজী গোলাম মোস্তফাসহ প্রায় ১০-১২জনের জমি ক্রয় না করেই কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এমতাবন্থায় বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের ২০ হাজার জনগন তথা ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে মারিখালী নদীতে বালু ভরাটের কাজ বন্ধ করে নদী উদ্ধার পূর্বক নদী পথ চলমান রাখা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমি শিল্প মালিকের কাছ থেকে রক্ষা করে এলাকাবাসীকে সহযোগীতা করার যেন মহোদয়ের মর্জি হন।
খবর পেয়ে বৈদ্যের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা : আব্দুর রউফ রহস্য জনক ভাবে বিক্ষোভ কারিদের সাথে মিলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর স্মারক  লিপি প্রদান করেন। যে স্মারক লিপিতে ডাঃ আঃ রউফকে অবৈধ ভাবে বালু ভরাটের মুল হোতা উল্লেখ করা হয়েছ। তিনি নিজেই তা জমা দিয়েছন । এ যেন  সেই প্রবাদ বাক্য- ঠাকুর ঘরে কে রে – আমি কলা খাইনা !
এ ব্যাপারে বৈদ্যের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, আমি উপর মহলের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করছি মাত্র।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা শহিনুর ইসলাম জানান, এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে একটি স্মারক লিপি পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।