ডিস আলামিনের রামরাজত্ব ! সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের গ্রুপিংকে পুঁজি করে নানা অবৈধ ব্যবসা

0
2618

Untitled-02-Copy-150x150

আজকের সোনারগাঁওঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর বস্তল এলাকায় জামাল উদ্দিনের ছেলে রোকন (২৩), নামে এক চা বিক্রেতা দিনমজুরকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা দিনমজুর রোকনকে মুর্মূর্ষু অবস্থায় তালতলা বাগবাড়িয়া কবরস্থানে ফেলে রাখে। পরে সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল হাসানকে সন্ত্রাসী আল আমিন ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে রোকনের সঙ্গে ১০০পিছ ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে। পুলিশ মুর্মূর্ষু অবস্থায় আহত রোকনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে সোনারগাঁও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে, চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গত শনিবার দিনমজুর রোকনের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকরা অবগত হওয়ার পর থানা পুলিশ নড়েচড়ে বসে।
২দিন পর  রোববার দুপুরে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম ঘটনাটি তদন্ত করে নিশ্চিত হয় যে দিনমজুর রোকনকে সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন ও তার সহযোগী গোলজারের নেতৃত্বে ১২-১৪ জনে মিলে তালতলা বাগবাড়িয়া কবরস্থানে থাকা বাঁশ দিয়ে এলোপাতারী ভাবে পিটিয়ে মারাত্মক অাহত করে। পরে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলমের নির্দেশে এসআই আবুল হাসান আহত রোকনকে তার বাবা জামালউদ্দিনের কাছে বুঝিয়ে দিলে বন্দর থানার মদনপুর দি বারাকা হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
এদিকে আহত রোকনের বড় ভাই মামুন জানান, জামপুর ইউনিয়নের শিরাব গ্রামের জামানের ছেলে স্বপনের কাছে ৩ লাখ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে স্বপনের পক্ষ নিয়ে তিলাব গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে ডিস আল আমিন (৩৪), হাতুরাপাড়া গ্রামের অলিউল্লাহ’র ছেলে গোলজার (৩৬), একই গ্রামের আব্দুন নূর (৩০) ও কলতাপাড়া গ্রামের শাহিন (৩৫) গত শুক্রবার দুপুরের পর সন্ত্রাসী ডিস আল আমিনের ও গোলজারের নেতৃত্বে ১২-১৪ জন সন্ত্রাসী মিলে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বস্তল এলাকায় তাকে খুঁজতে থাকে। মামুনকে না পেয়ে তার ছোট ভাই দিনমজুর চা বিক্রেতা রোকনকে সামনে পেয়ে মারতে থাকে। এ সময় রোকন তার জীবন বাঁচাতে দৌড়ে তালতলা বাগবাড়িয়া কবরস্থানে দিকে চলে গেলে, পিছন দিকে থেকে দৌড়ে তাকে ধরে কবরস্থানে থাকা বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে ফেলে রাখে। পরে সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন পুলিশকে খবর দিয়ে মুর্ষূর্মু অবস্থায় রোকনকে ১০০পিছ ইয়াবা দিয়ে এসআই আবুল হাসানের কাছে দিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রোকন হাসপাতালে আছে, আমি তাকে গ্রেফতার করি নাই। বিষয়টি ওসি স্যার জানে। তবে রোকনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম বলেন, আমি কখনো অন্যায় কাজ করি নাই, আমার মাধ্যমে কখনো কোন অন্যায় কাজ হবে না। তবে ডিস আল আমিনের গ্রুপের অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে এলাকাবাসী জানায়, সোনারগাঁও বিবদমান আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের কারণে ডিস আল আমিন, গোলজার, আব্দুন নূর, শাহিন, লোকমান ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ছত্রছায়ায় এলাকায় নিরীহ মানুষের জমি দখল, কৃষকদের জমি দখল করে মাটি বিক্রি, বিভিন্ন কোম্পানীতে জোর পূর্বক বালু ভরাটের কাজ, নারী দিয়ে ব্যবসায়ীদের ফাঁসিয়ে মোটা অংকে টাকা আদায়, মানুষের দেনা-পাওয়া টাকা উদ্ধার, মাদক ব্যবসারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে, জনপ্রতিধিসহ নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে । এমনকি এদের নানা অপকর্মের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর বাড়িতে গিয়ে হামলাও চালিয়ে ছিল। সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন বাহিনীর ভয়ে এলাকার স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলতেও পারে না। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নুর হোসেন মতো রাম রাজত্ব কায়েম করছে।