উত্তর অঞ্চলের মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন বাহিনী এখন আরও বেপরোয়া

0
1128

Untitled-02-Copy-150x150

আজকের সোনারগাঁওঃ সোনারগাঁও উপজেলার উত্তর অঞ্চলের মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন বাহিনীর হামলার শিকার হয়ে কিডনীর সমস্যা দিনমজুর চা বিক্রেতা রোকন (২৩), এখন মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
মুমূর্ষু আহত দিনমজুর রোকন উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।
উল্লেখ (১৭ নভেম্বর) শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় মুমূর্ষু আহত দিনমজুর রোকনের বড় ভাই মামুনকে না পেয়ে মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন ও তার সহযোগী গোলজারের নেতৃত্বে ১২-১৪ জনে সন্ত্রাসী মিলে তালতলা বাগবাড়িয়া কবরস্থানে থাকা বাঁশ দিয়ে এলোপাতারী ভাবে পিটিয়ে মারাত্মক অাহত করে তাকে কবরস্থানে ফেলে রাখে।
পরে সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল হাসানকে মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী আল আমিন ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে রোকনের সঙ্গে ১০০পিছ ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে। (১৮ নভেম্বর) শনিবার দিনমজুর রোকনের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকরা অবগত হওয়ার পর থানা পুলিশ নড়েচড়ে বসে।
বিনা (মামলায়) অপরাধে পুলিশ হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকার পর (১৯ নভেম্বর) রোববার দুপুরে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম পিপিএম হস্তক্ষেপে দিনমজুর রোকনকে ছেড়ে দেয় এসআই আবুল হাসান। সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন ও গোলজার বাহিনীর হামলার শিকার হয়ে, মুমূর্ষু আহত রোকনের কিডনীর সমস্যা দেখা দেয়ায় (২১ নভেম্বর) মঙ্গলবার জেলার বন্দর থানার মদনপুর ”দি বারাকা হাসপাতাল” থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিডনী ফাউন্ডেশন ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে এলাকাবাসী জানায়, তিলাব গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন সে নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে সু-সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় বিত্তশালী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। যদি তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাড়িঘরে হামলা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিভিন্ন ধরনের মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে হয়রানী করে। সোনারগাঁও বিবদমান আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের কারণে মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন, গোলজার, আব্দুন নূর, শাহিন, লোকমানের কাছে সোনারগাঁওয়ের উত্তর অঞ্চল জামপুর, সাদিপুর ও নোয়াগাঁও ৩টি ইউনিয়নের লোকজন জিম্মি হয়ে পরেছে।
ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ছত্রছায়ায় এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ১৪নং বাসাবো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও তিলাব মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদটি দখল করে। তা ছাড়া নিরীহ মানুষের জমি দখল, কৃষকদের জমি দখল করে মাটি বিক্রি, বিভিন্ন কোম্পানীতে জোর পূর্বক বালু ভরাটের কাজ, নারী দিয়ে ব্যবসায়ীদের ফাঁসিয়ে মোটা অংকে টাকা আদায়, মানুষের দেনা-পাওয়া টাকা উদ্ধার, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত তারা। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই, নিরীহ মানুষ এবং জনপ্রতিধিসহ সবাইকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের জমি জোর পূর্বক দখর করে মাটি বিক্রি ও তাদের নানা অপকর্মের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর বাড়িতে গিয়ে হামলাও চালিয়ে ছিল এ সন্ত্রাসী বাহিনী। মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন বাহিনীর ভয়ে এলাকার স্বস্তিতে কেউ নিশ্বাস ফেলতেও পারে না। এই চক্রটি ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুয়ের বিরদ্ধে এলাকায় মানববন্ধন করে প্রসাশনের চোখে অপরাধী বানাতে কৌশল অবলম্বন করে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নুর হোসেন মতো রাম রাজত্ব কায়েম করছে।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু বলেন, মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিন যুবলীগের সে কেউ না। আমার জানামতে সে সোনারগাঁও উত্তর অঞ্চলের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস আল আমিনের অপকর্মের দায় সোনারগাঁও যুবলীগ নিবে না। সে যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে যে সব অপকর্ম করে যাচ্ছে, তাতে যুবলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমাদের দাবি সোনারগাঁও থানা পুলিশ যেন তার সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।