সোনারগাঁয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম

0
590
১২ ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদিনে আরবের বুকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ সা: পৃথিবীতে রহমত স্বরূপ আগমন উপলক্ষে  সোনারগাঁ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ বিশাল জশনে জুলুস র‌্যালি করে । র‌্যালিটি শম্ভুপূরা ইউনিয়ন দরিগা খনানকা হতে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে তাহেরপুর ইসলামিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসা এসে সমবেত হয়। র‌্যালি  শেষে  মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র সেনা সভাপতি জনাব পীর মোহাম্মদ এর  সঞ্চালনায় পিরোজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মাওলানা আব্দুর রউফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে বক্তব্য পেশ করেন  সোনারগাঁ থানা গাউছিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোক্তার হোসেন। অন্যান্যদের  মধ্যে বক্তব্য দেন,হযরত মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, হযরত মাওলানা কলিমুল্লাহ, মাওলানা নূর মোহাম্মদ, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা আহ্সান উললা সাহেব, মাওলানা নোমান তাহেরী, মাওলানা গিয়াশ উদ্দিন, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আলকাদরী, পীরজাদা নিজামুদ্দিন, সার্বিক সহযোগিতা এবং মিলাদুন্নবী মাহফিল এর উদ্যোক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরত মাওলানা পীরজাদা আব্দুল আজিজ আল হাবিবি সাহেব।  এ সময় বক্তারা বলেন ১২ রবিউল আওয়াল আজকের এই দিনে আগমন করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব পৃথিবীর জন্য রহমত সর্বকালের সেরা বল হুজুরে পাক নূর সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম। আমরা যাতে ওনার আদর্শে আমাদের জীবনকে গড়তে পারি এবং  এ পৃথিবীতে যত নেয়ামত রয়েছে বা এসেছে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । আল্লাহর এ নেয়ামত ও আনুগ্রহকে কেন্দ্র করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ও আনন্দ করার নির্দিশ স্বয়ং রাব্বুল আলামীন নিজে দিয়েছেন । যেমন এরশাদ হচ্ছেঃ- قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَ بِرَحْمَتِهِ فَبِذَالِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَا خَىْرٌ مِمَّا ىَجْمَعُوْنَ আর্থাৎ হে রাসুল আপনি বলুন আল্লাহর দয়া ও রহমতকে কেন্দ্র করে তারা যেন আনন্দ করে এবং এটা হবে তাদের অর্জিত সকল কর্মফলের চেয়েও শ্রেষ্ট। সুরা ঈউনূছ,আয়াত ৫৮ উল্লেখ্য যে, নবীজীর শুভাগমনের চাইতে শ্রেষ্ট নেয়ামত এবং দয়া বিশ্ববাসীর জন্য আর কি হতে পারে ? যেমন অন্য আয়াতে রয়েছে- وما ارسلنك إلا رحمة للعالمين হে রাসূল, নিশ্চই আমি আপনাকে জগতসমুহের রহমত করেই প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭) দ্বিতীয় দলীলঃ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমানঃ- قَالَ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ اَللَّهُمَّ رَبَّنَا اَنْزِلْ عَلَيْنَا مَاءِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا الِّاَوَّلِنَا وَاَخِرِنَا وَ اَيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِيْنَ- আর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) দুয়া করলেন, হে আল্লাহ ! হে আমাদের প্রভু আমাদের প্রতি আকাশ হতে খাদ্য অবতীর্ন করুন যেন সেটা আমাদের জন্য অর্থাৎ আমাদের মধ্যে যারা প্রথমে ( বর্তমানে আছে ) এবং যারা পরে, সকলের জন্য আনন্দের বিষয় হয় এবং আপনার পক্ষ হতে এক নিদর্শন হয়। আর আপনি আমাদেরকে রিযিক প্রদান করুন বস্তুত আপনিই সর্বোত্তম রিযিক প্রদানকারী। (সূরা মায়েদা আয়াত ১১৪) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা পেলে তা যদি ঈসা (আঃ) এর ভাষায় সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত আনন্দোৎসবের কারণ হয় তবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত মহান নেয়ামতে আগমন দিবস কতই না মর্যাদাবান , গুরুত্ববহ, ও আনন্দের তা সহজেই আনুমেয়। হযরত মাওলানা আব্দুল হক সাহেবের আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। জিয়াউর রহমান এর  পরিচালনায় অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সোনারগাঁ থানা গাউসিয়া কমিটি, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, ইসলামী ছাত্র ও যুব সেনা।