র‌্যাবের অভিযানে জেএমবির ২ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। জঙ্গীবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার।

0
852

 

গত এপ্রিল মাস হতে এ পর্যন্ত র‌্যাব-১১ কর্তৃক বেশ কয়েকটি সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সকল অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ ৬০ জন বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতারকৃত এ সকল জঙ্গিদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের নেটওয়ার্ক এবং কার্যক্রমের অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাপ্ত সে সকল তথ্যাদি যাচাই-বাছাই ও বিশে¬ষণের পর জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত যে সকল সদস্য এখনও গ্রেফতার হয়নি তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

র‌্যাব-১১ কর্তৃক ইতিপূর্বে দায়েরকৃত মামলা সমূহের এজাহার নামীয় পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল ১৯ ডিসে¤¦র ২০১৭ তারিখ ১৮৩০ ঘটিকা হতে ২২৪৫ ঘটিকা পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেএমবির (সারোয়ার গ্র“প) সক্রিয় সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মামলা নং-৬৯ তারিখ ২২ আগষ্ট ২০১৭ এর এজাহার নামীয় পলাতক আসামী ক। মোঃ মিজানুর রহমান@আব্দুল্লাহ@আব্দুল্লাহ আল মিজান(৩৭) এবং খ। ইব্রাহীম খলিল@ইব্রাহীম@শাহাজাহান(৩০)কে জঙ্গীবাদী বই ও জঙ্গীবাদী লিফলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।  মোঃ মিজানুর রহমান@আবদুল্লাহ@আবদুল্লাহ আল মিজান (৩৭), ২০০৩ সালে সাভার এলাকার একটি মাদ্রাসা হতে দাখিল পাশ করে এবং ২০১২ সালে ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে । সে ২০০৫ সাল থেকে ঢাকার সাভার এলাকার আইডিয়াল ¯কুলে শিক্ষকতা শুরু করে এবং ২০১৪ সাল থেকে ঢাকার সাভার এলাকার নিজস্ব মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করে আসছিল। সে ২০০৯ সালে জৈনক আবদুর রউফ এর একটি বই পড়ে উগ্রবাদের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং জসিম উদ্দিন রাহমানির ধানমন্ডির হাতেমবাগ মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং তার ছাত্র হিসেবে দীক্ষা নিয়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির একনিষ্ট ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং উগ্রতার আদের্শে উজ্জবিত হয়ে জঙ্গীবাদে স¤পৃক্ত হয় এবং সাভার এলাকায় জেএমবি’র দাওয়াতী কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে জসিমউদ্দিন রাহমানি গ্রেফতার হওয়ার পর সে সাভার এলাকায় জেএমবির দাওয়াতী কাজ করতে থাকে এবং নিজস্ব বলয় তৈরি করে সাভার এলাকার দাওয়াতী আমির হিসেবে কাজ করে আসছে। সে এপর্যন্ত প্রায় ৬০-৭০ জনকে দাওয়াতের মাধ্যমে জেএমবিতে সম্পৃক্ত করছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। সে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার কুতু পালং এলাকায় জেএমবি’র কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে এক রোহিঙ্গা নারীকে বিগত এক মাস পূর্বে বিয়ে করে সাভার এলাকায় নিয়ে আসে এবং ঘন ঘন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন কুতু পালং এ যাতায়াত করে জেএমবির সদস্য বৃদ্ধির কাজ করে আসছে। সে সাভার এলাকায় ০৭ সদস্যের দাওয়াতী কমিটির মাধ্যমে জেএমবির (সারোয়ার গ্র“প) দাওয়াতী আমির হিসেবে কাজ করে আসছে এবং ঐ কমিটির মধ্য হতে ইতিমধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক ০৩ জন এবং র‌্যাব-১১ কর্তৃক একজন সদস্য গ্রেফতার হয়েছে । ইব্রাহীম খলিল@ইব্রাহীম@শাহাজাহান(৩০), ২০১৪ সালে ঢাকার সাভার এলাকার একটি মাদ্রাসা হতে আলিম পাশ করে কিছুদিন ছাত্র পড়ানোর কাজ করেছে এবং ২০১৬ সাল হতে সাভারের একটি মসজিদে ইমাম এর দায়িত্ব পালন করে আসছে। ২০১০ সালে তার সাথে সাভার এলাকার একটি মসজিদে আব্দুল্লাহ আল মিজান এর সাথে পরিচয় হয় এবং ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে একত্রে জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং ২০১১ সালে আব্দুল্লাহ আল মিজান এর মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে সাভার এলাকায় জেএমবির দাওয়াতী কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে পুনরায় আব্দুল্লাহ আল মিজান এর হাত ধরে জেএমবি (সারোয়ার) গ্র“পে দাওয়াতী কাজ করতে থাকে। সে তার ইমামতী পেশার পাশাপাশি ফরিদপুর, কক্সবাজারসহ একাধিক জেলায় জেএমবির দাওয়াতী কাজ করেছে এবং জেএমবির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ করে আসছে। সে সাভার এলাকায় গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ দ্বারা গঠিত জেএমবির (সারোয়ার গ্র“প) ০৭ সদস্যদের দাওয়াতী কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।