সোর্স হানিফের দৌরাত্ব ! পুলিশের সোর্স হানিফ মোগরাপাড়া এলাকার আতঙ্ক

0
958

আজকের সোনারগাঁওঃ নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের আরেক আতঙ্কের নাম পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত হানিফ। সোনারগাঁওয়ের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত হানিফ এলাকায় পুলিশের  সোর্স পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষকে প্রতিনিয়তই হয়রানী করে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। পুলিশের সোর্স ডাকাত হানিফ জেলার বন্দর থানার মীরগন্ডি গ্রামের ওমরের ছেলে। সে তার মায়ের সঙ্গে সোনারগাঁও থানার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিশেষখানা এলাকায় ভাড়া থেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক দ্রব্যের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর পরোক্ষভাবে এই মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত হানিফকে সহায়তা করেছে সোনারগাঁও থানার ৩-৪জন ঘুষখোর দারোগা। গত (১৭ ডিসেম্বর) রোববার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিন্নিপাড়া এলাকা পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষের মূলহোতা হচ্ছে পুলিশের সোর্স মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত হানিফ। বিন্নিপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারী কাজে বাধা, পুলিশের উপর হামলা ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রয় আইনে পৃথকভাবে দুইটি মামলা হয় সোনারগাঁও থানায়। ওই দুইটি মামলাকে এজাহার নামীয় আসামীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মামলা থেকে নাম বাদ দেয়ার মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায় করছে বলে ভোক্তভোগীরা জানায়। এমনকি পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামীয় আসামীদের ওই মামলা দুইটির ভয় দেখিয়ে কাবিলগঞ্জ, বিন্নিপাড়া, দুলবেরকান্দি, শুকুদ্ধি ও আলাপদি গ্রামের নিরীহ লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিতে অর্থ আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত হানিফ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশকে সহায়তা করেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সোনারগাঁওয়ের অনেক নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেফতার করে স্পট থেকেই মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এই অপ্রতিরোধ্য পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত হানিফ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে সোর্সের কাজ শুরু করে। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই,যা সে নিয়ন্ত্রণ করছে না। সোনারগাঁ থানা পুলিশের কয়েকজন এস আই-এর সঙ্গে সখ্যতা থাকার কারনে সোর্স ডাকাত হানিফ দিন দিন তার অপকর্ম বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে তল্লাশির নামে ‘ফিটিং’ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। রাতে চলাচলরত মানুষকে তল্লাশির নামে পকেটে ইয়াবা কিংবা গাঁজার পুরিয়া দিয়ে ফিটিং দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে সোর্স হানিফের বিরুদ্ধে। আবার কখনও কখনও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়েও সে নিরপরাধ মানুষের অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়। সোনারগাঁ উপজেলায় এক আতঙ্কের নাম পুলিশের সোর্স ডাকাত হানিফ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোগরাপাড়া বাজারে একব্যক্তি জানান,পুলিশের সাথে আতাত করে উদ্ধারকৃত মাদকের কিছু অংশ সোর্স হানিফ মোগরাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার যুবসমাজের মাঝে সাপ্লাই দিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে উঠতি বয়সের যুবকদের ভবিষ্যৎ।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোর্সদের ভুয়া তথ্যে পুলিশ সদস্যদেরও অনেক সময় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। সোর্সরা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য অপরাধ কান্ডে তারা অপ্রতিরোধ্য।কোনো কোনো সময় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়েও এরা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে তল্লাশি চালায়। আবার মামলার আসামি কিংবা বাদীর পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধামকি দেয়। বিভিন্ন থানায় এসআই পদমর্যাদার পুলিশের সঙ্গে এ সোর্সদের যোগাযোগ বেশি। এদের সহযোগিতা নিয়েই তারা বিভিন্ন মামলার তদন্তে যান।সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে,কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও সোর্স মিলে চাঁদাবাজি করছে।এ পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপি সদর দফতর থেকে থানায় থানায় চিঠি দিয়ে সোর্স নামধারী অপরাধীদের ব্যাপারে ওসিদের সতর্ক হতে বলা হয়েছে। এরপরও থামছে না সোর্সদের তৎপরতা। এ ব্যাপারে মোগারাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ জানান, পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত হানিফের বাড়ি সোনারগাঁও এলাকা নই। সে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করিয়ে মোটা অংকের টাকা কামানো-সহ মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্ম’ই তার পেশা বলে লোক মুখে জানতে পারি।অন্যদিকে মোগারাপাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. শিপন সরকার বলেন, সোর্স ডাকাত হানিফের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, সে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক দ্রব্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এলাকায় পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানী, রাস্তাঘাটে চলাচলরত মানুষের পকেটে ইয়াবা, গাজা ঢুকিয়ে পুলিশ দিয়ে আটক করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এই সোর্স ডাকাত হানিফকে গত ২৭ নভেম্বর ইয়াবা ও গাজাসহ সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল কাশেম গ্রেফতার করে ছিল। কিন্তু সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএম রুহুল আমিন রিমন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৫হাজার টাকা জরিমানা করে।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ওর সঙ্গে যদি কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধেও আইনী ব্যবস্থা নেবো।