ঢাকা-চট্টগ্রাম সহাসড়কে ডাকাতি কমাতে র‌্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত ।। গ্রেফতার ৩ ডাকাত

0
455

 

 

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে র‌্যাব-১১ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই এবং দুষ্কৃতিকারী চক্রকে গ্রেফতারের জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। অতি সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রদ্মºতি গ্রহন কালে মহাসড়কের গজারিয়া থানাধীন এলাকায় দুই জন ডাকাতকে অস্ত্রশস্ত্র সহ হাতে নাতে গ্রেফতার এবং পরে তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুই জন শ্রীলঙ্কান নাগরিকের ডাকাতি করা দুইটি ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও মালামাল উদ্ধার করা হয়।

বেশ কিছুদিন যাবৎ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি, মু›িসগঞ্জের মেঘনা ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে একযোগে ০৩ টি সেতুর নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের এই সকল এলাকায় প্রায়শঃ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজটের সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বিভিন্ন সময় ডাকাতি করে। রাতের অন্ধকারে যানজটের কবলে পড়া প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, কাভ্যার্ড ভ্যান ও বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের বহনকারী গাড়িগুলো ডাকাতদের প্রধান টার্গেট থাকে। সম্প্রতি মহাসড়কের এই এলাকাগুলোতে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতিকারী ডাকাতরা ডাকাতি করতে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মারধর, ছুরিকাঘাত ও গাড়ি ভাংচুর করে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে ডাকাতি বন্ধে র‌্যাব-১১ নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ মার্চ ২০১৮ তারিখ রাতে র‌্যাব-১১ এর দুইটি টহল দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া থানাধীন ভাটেরচর এলাকায় অবস্থানকালে আনুমানিক ২৩.৩০ ঘটিকায় মু›িসগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর এলাকায় ১৪/১৫ জনের একটি ডাকাত দল সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহন করছে মর্মে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে উক্ত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ১। মোঃ কবির হোসেন (৩৫), সাং- মধ্যবাউশিয়া (দড়িবাউশিয়া), ২। জুয়েল রানা (২৮), ৩। মাহবুব সরদার (২৮), উভয় সাং- নতুন চরচাষী, থানা-গজারিয়া, জেলা-মুন্সিগঞ্জ’কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে ১টি ওয়ান শুটারগান, ০৬ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, চাইনিজ কুড়াল, ছোরা এবং জি আই পাইপ উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামীদেরকে জি‘াসাবাদে আরোও জানায় যে, তারা পেশাদার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের ভয়ে গজারিয়া থানার ভবেরচর, ভাটেরচর সহ অন্যান্য এলাকার মানুষ ভীত ও আতংকিত থাকে। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি করে আসছে। সম্প্রতি তারা ০৫/০৩/২০১৮ ইং তারিখ তাদের দলের অন্যান্য ডাকাত সদস্যসহ গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা এলাকায় আধুনিক পেপার মিলস এর বিপরীতে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার সময় র‌্যাবের টহল গাড়ী দেখা মাত্রই তাহারা সহ ১৪/১৫ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারী ডাকাত দল পলায়নের সময় তাহাদের আরো দুই সহযোগী ১। মোঃ আলামীন, ২। মোঃ শামীম হোসেন @ চাঁন বাদশা ডাকাতদ্বয় র‌্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতার হয় কিন্তু তাহারা সুকৌশলে রাতের আঁধারে পলায়নে সক্ষম হয়। উল্লেখ থাকে যে, উক্ত আসামী ১। মোঃ আলামীন ও ২। মোঃ শামীম হোসেন, বর্তমানে গ্রেফতারকৃত কবির, জুয়েল ও মাহবুবসহ পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা হয়েছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রদত্ত তথ্যে জানা যায় যে, তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন দিন ধরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের অপরাপর সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতি করে আসছে। অদ্য ০৯ মার্চ ২০১৮ তারিখ গ্রেফতারকৃত দুষ্কৃতিকারী ডাকাতের দল মহাসড়কের বিভিন্ন যাত্রীবাহী যানবাহনে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র সহ সমবেত হয়েছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।