থানায় মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি ॥ বাবার ১৮ ঘন্টার চেষ্টার ফল ছেলে হত্যার মামলা !

0
1369

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের ছনপাড়া এলাকায় গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সানাউল্লাহ (৪২) নামে এক মুদি দোকানিকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার সঙ্গে থাকা তার বন্ধু ছমিরউদ্দিনকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। নিহত ছানাউল্লাহ উপজেলা বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের খামারগাঁও গ্রামের হাজি মিছির আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নিহতের বাবা হাজি মিছির আলী বাদি হয়ে আল আমিন (৩৪), আমির হোসেন (৩৬), রুহুল আমিন (৩২) ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নবী হোসেনসহ (৩৩) ২২জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের বাবা হাজি মিছির আলী জানান, গত সোমবার রাতে আমার ছেলে সানাউল্লাহ বারদি এলাকা থেকে বাড়ি ফেরা পথে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী আল আমিন, আমির হোসেন, রুহুল আমিন ও যুবলীগ নেতা নবী হোসেনের নেতৃত্বে ২২-২৬জন সন্ত্রাসী ছনপাড়া রাস্তায় ব্রিজের সামনে গতিরোধ করে। সন্ত্রাসী ধারালো চাপাতি দিয়ে সানাউল্লাহ মাথায় এলোপাতারি ভাবে কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় সানাউল্লাহ ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে সন্ত্রসীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় সানাউল্লাহকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে।
এদিকে নিহতের বাবা হাজি মিছির আলী আরো বলেন, তিনি গত সোমবার রাত ২টা ও গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ছেলে সানাউল্লাহ হত্যাকারিদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় মামলা দিতে আসেন। কিন্তু থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে হত্যা মামলাটি নিতে অনেক গড়িমসি করতে থাকেন। এ সময় আমি ক্লান্ত হয়ে থানা কার্যালয়ের বাহিরে অসুস্থ শরীর নিয়ে শুয়ে থাকি। অবশেষে ১৮ ঘন্টাপর বিকেলে থানা পুলিশ মামলাটি রুজু করেন।

সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম বলেন, হত্যা মামলাটি থানায় রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।

তাং ১০-০৪-১৮ইং