সোনারগাঁওয়ে সানাউল্লাহ হত্যার ১২দিন অতিবাহিত হলেও গ্রেফতার নেই কেউ ॥ নিহতের পরিবার হতাশ

0
1224

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের খামারগাঁও এলাকার হাজি মিছির আলীর ছেলে মুদি দোকানি সানাউল্লাহ হত্যা ঘটনার ১২দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেননি। অন্যদিকে গত বুধবার রহস্যজনকভাবেই হত্যা মামলাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে নিহতের বাবা হাজি মিছির আলীসহ তার পরিবারের সদস্যরা মামলাটি সুষ্ঠভাবে তদন্ত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পরেছে।
গত ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সানাউল্লাহকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে যুবলীগ নেতা নবী হোসেনের ও  নজরুল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।
পরের দিন ১৮ ঘণ্টাপর যুবলীগ নেতা নবী হোসেনসহ ২২জনকে আসামী করে নিহতের বাবা হাজি মিছির আলী বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
মামলার বাদি হাজি মিছির আলী জানান, সানাউল্লাহ হত্যা মামলাটি তুলে নিতে আসামী আমিরাবাদ (টেকপাড়া) গ্রামের মৃত শহিদুল্লাহ মেম্বারের ছেলে যুবলীগ নেতা নবী হোসেনের ও নজরুলের নেতৃত্বে আল আমিন, আমির, রুহুল আমিন ও অন্যান্য আসামীরাসহ তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ঘুরাফেরা করছে। নিহতের পরিবার আসামীদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পরেছে। এদিকে নিহতের বাবা হাজি মিছির আলীর অভিযোগ, হত্যাকারীরা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সোনারগাঁও থানা থেকে মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে নিয়ে যায় আসামীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা নবী হোসেন ও তার শ^শুর ইসমাইল মেম্বার গত ৬বছর যাবত আনন্দবাজার এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে কোটি কোটি ঘনফুট বালু অবৈধভাবে উত্তোলণ করে বিক্রি করে কোটি পতি বনে গেছে। তাদের এই অবৈধভাবে উপার্জনকৃত টাকার বিনিময়ে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নেয় এবং আনন্দবাজার এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিন গঠন করে নানা ধরনের অপকর্মেও রাম রাজত্ব কায়েম করছে। নজরুল ও যুবলীগ নেতা নবী হোসেনের বাবা মৃত শহিদুল্লাহ মেম্বার ছিলেন, নুরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযুদ্ধা গফুর ও রফিক হত্যা মামলার অন্যতম আসামী।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হককে তার ব্যবহৃত সরকারী মোবাইল নাম্বারে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।