সোনারগাঁয়ে পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদার ইয়াবা ব্যবসা তুঙ্গে

0
1273

 

নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উপজেলার সাধারণ জনগনের আতঙ্ক এখন পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী রাশেদা। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদা, তার বড় ছেলে ফিরোজ ও রাশেদার ভাই আলাউদ্দিন বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষকে প্রতিনিয়তই হয়রানী করে আসছে এবং পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে মরনব্যাধি মাদক ইয়াবা বিক্রী করে স্থানীয় যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও থামেনি তাদের মরন নেশা ইয়াবা বিক্রী। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও তাকে ধরতে গড়িমশি করছে বলে জানা গেছে। পুলিশের কথিত সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী রাশেদার বাড়ী বরিশাল জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। স্থানীয়ভাবে সকলেই তাকে বরিশালনি রাশেদা বলে ডাকে। সে, তার বড় ছেলে ফিরোজ ও রাশেদার ভাই আলাউদ্দিন সোনারগাঁ থানার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ী মজলিশ, বাড়ী চিনিষসহ বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদা, তার বড় ছেলে ফিরোজ ও রাশেদার ভাই আলাউদ্দিন মোগড়াপারা ইউনিয়নের বাড়ী মজলিশ এলাকায় খন্দকার প্লাজার পিছনে ভাড়া থাকে। তারা বিভিন্ন সময় মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে নীরিহ গ্রামবাসীকে হয়রানী করছে বলেও ভূক্তভোগীরা জানায়। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কিছু বললে বা প্রতিবাদ করলে তারা পুলিশ দিয়ে গ্রামের নিরীহ লোকজনকে গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখায়।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদা ও তার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়া মাদক ও বিভিন্ন ডাকাতি মামলার সাথে জড়িত। ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের হাতে মাদকসহ কয়েকবার ধরা পড়ে জেলও খেটেছে বরিশালনি রাশেদার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়া। বরিশালনি রাশেদার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলখানায় থাকাকালীন রাশেদার সাথে থানা পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে এবং সেই সুযোগে সে নীরিহ লোকজনকে হয়রানী করতে ও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে সোর্সের কাজ শুরু করে। অপরদিকে সে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বাড়ী মজলিশ এলাকায় মাদক ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছে। তার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়া, তার স্ত্রীসহ তার শাশুরী মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদাকে ইয়াবা বিক্রী করতে সহযোগীতা করে থাকে বলে জানা গেছে। তারা সকলেই বিভিন্ন স্থানে মাদক পাচার করে থাকে। বরিশালনি রাশেদার ভাই আলাউদ্দিন বাড়ী মজলিশ এলাকার (খন্দকার প্লাজার পিছনে) নুরুল ইসলামের বাড়ীতে ভাড়া থেকে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ব্যবসা করে ও বিভিন্ন স্থানে পাচার করে। তবে আলাউদ্দিনের ভাড়া বাসা থেকেই এই মরনব্যাধি মাদক ইয়াবা পাচার করে থাকে বলে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে। বাড়ী মজলিশ এলাকায় অবস্থিত সিডাস স্কুলের পিছনে একটি পরিত্যক্ত টিনশেডের বাড়ীতে ভাড়া থাকে মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, তার ছেলেসহ শ্বশুরও। সেখানেই চলে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার বেচাকেনা।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের কতিপয় এ এস আই ও এস আই-এর সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা থাকার কারনে দিন দিন পুলিশের এই কথিত সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদার মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অপকর্ম যেন আরও জোরেশোরে বেড়েই চলেছে। তাই সোনারগাঁয়ে এখন আবার আরেক আতঙ্কের নাম পুলিশের কথিত সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদা, তার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়া ও রাশেদার ভাই আলাউদ্দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, গত ১৮ এপ্রিল বুধবার রাতে সোনারগাঁ থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) ইসহাক পুলিশের কথিত সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়াকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করে। এসময় বরিশালনি রাশেদা খবর পেয়ে এএসআই ইসহাকের হাতে পায়ে ধরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তার ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এঘটনায় এলাকাবাসীর মনে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এধরনের কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানান।

সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, কিছু অসাধু ও দূর্ণীতিবাজ পুলিশ সদস্য ও তাদের কথিত সোর্স মিলে এই মরনব্যাধি মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপি সদর দফতর থেকে থানায় থানায় চিঠি দিয়ে সোর্স নামধারী অপরাধীদের ব্যাপারে ওসিদের সতর্ক হতে বলা হয়েছে। এরপরও থামছে না কথিত সোর্সদের অপতৎপরতা।

সংশ্লিষ্ট ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সোনারগাঁবাসীর আতংক পুলিশের এই কথিত সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী বরিশালনি রাশেদা, তার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়া ও রাশেদার ভাই আলাউদ্দিনের নিকট বিভিন্ন সময় নাজেহাল হতে হচ্ছে জনসাধারনকে। এসব সোর্সরা সোনারগাঁবাসীর জন্য অভিশাপ এবং আতংকস্বরূপ। তাই অতি শীঘ্রই পুলিশের এই সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী রাশেদা, তার বড় ছেলে ফিরোজ মিয়া ও রাশেদার ভাই আলাউদ্দিনকে অতি শীঘ্রই গ্রেফতার করে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হোক এবং স্থানীয় যুব সমাজকে মরনব্যাধি মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা হোক।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভার্রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদ আলম পিপিএম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ওদের সঙ্গে যদি কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।