ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

0
455

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৩ দিনের মতো আজ বুধবারও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে। অপর দিকে ঢাকার আসার পথে দাউদকান্দির শহীদ নগড় থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত এ যানজট । আবার সাইনবোর্ডা থেকে কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। দীর্ঘ প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্ট এ যানজটের ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে হচ্ছে।
যানজটের আটকাপড়া যাত্রী সাধারণের অভিযোগ- মঙ্গলবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কাঁচপুরে যানজটের পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে আজ বুধবার থেকে যানজট নিরসন হবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছে তা মিথ্যে হয়ে গেছে। যানজট নিরসনের ঘোষণার পর পরই আরো যানজট বেড়ে গেল।
মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতুর টোলপ্লাজায় টোল আদায় ধীর গতি, ওজন স্কেলের অব্যবস্থাপনা,মহাসড়কের উপর ট্রাক-লড়ি পার্কা করে রাখা, মহাসড়কের পাশে বাজার ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত ইউ-টার্ন ব্যবস্থা করা, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা অপর্যাপ্ত ও মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলার কারণে এ যানজটের কারণ বলে জানান চলাচলরত যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে মহাসড়কের মেঘনা সেতু ও কাচঁপুর সেতু এলাকায় এ যানজট এ যানজটের সৃষ্টি। তবে চট্টগ্রামমুখী সড়কে যানজটটি তীব্র আকার ধারণ করছে। সোনারগাঁয়ে মেঘনা সেতু এক পাশে কুমিল্লার দাউদকান্দি-শহীদ নগড় এবং কাঁচপুর সেতু অপর পাশে সাইনবোর্ড যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আটকা পড়ে থাকে যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন। প্রতিটি যানবাহনের চাকা চলছে ধীরগতিতে। যানবাহনের চাকা এক ঘন্টা পর পর ঘুরছে। কাঁচপুর এলাকা দেখা গেছে অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে। মহাসড়কের একপাশে রিকশা করে ও হেঁটে স্থানীয় যাত্রীসাধারণকে চলাচল করতে দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে হাজীগঞ্জগামী সাইদুল পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকার যাত্রবাড়ী থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে এসে মেঘনা সেতু পর্যন্ত আসতে ৬ ঘন্টা সময়ে লেগেছে। যানজট না থাকলে এটুকু দুরত্বের সড়ক পার হতে আমাদের সর্ব্বোচ ৪০ মিনিট সময় লাগত।
চট্টগ্রামগামী এনা পরিবহনের যাত্রী সুমন, সারবিন, মোবারক জানান, ঢাকা থেকে মেঘনা পার হতে ৮ ঘন্টা সময় নষ্ট হলো। এ সময়ে অন্য সময় আমরা চট্টগ্রাম পৌঁছে যেতাম।
নাহিদ কার্গো সার্ভিসের কাভার্ডভ্যান চালক আবুল বাশার শিকদার জানান, ভোর ৬টা থেকে এ সড়কে যানজট শুরু হয়। মদনপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত আসতে ৪ ঘন্টা সময় নষ্ট হয়েছে।
এদিকে যানজটে আটকাপড়া যাত্রী সাধারণ অনেকেই অভিযোগ করেন বলেন, মঙ্গলবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কাঁচপুরে যানজটের পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে বুধবার থেকে যানজট নিরসন হবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছে, তা মিথ্যে হয়ে গেছে। যানজট নিরসনের ঘোষণার পর পরই আরো যানজট বেড়ে গেল। তিনি রাস্তায় এসে দেখুক রাস্তায় যানজটের কি হাল।
বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে যানজটের কারণ অনুসন্ধান করে জানা যায়, মূলত মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতুর টোলপ্লাজায় টোল আদায়ে ধীর গতি, ওজন স্কেলের অব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা কম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করে মহাসড়কের উপর ট্রাক-লড়ি পার্ক করে রাখা ও মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলার কারনে এ যানজট।
মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজার ওজন স্কেলে গিয়ে দেখা যায়, ধীরগতিতে পরিবহনের ওজন পরিমাপ করা হচ্ছে। শতশত ট্রাক লরি মহাসড়কের উপর সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে আছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাইয়ুম আলী সরদার জানান, মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলছে এবং গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যানজট নিয়ন্ত্রনে কাজ করে যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বন্দর উপজেলাধিন মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়,প্রায় ৩৬ ঘন্টা যাবৎ তীব্র জানজটের কারণে শত শত যাত্রীবাহি বাস ও মালবাহি পরিবহণ রাস্তার দুপাশে শারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে আছে।জানজটের কারণে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌছাতে পারছেন না যাত্রীরা।অনেকে রাস্তায় গাড়ি না পেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার পাশেই বসে সময় পার করছেন।মাঝে মাঝে ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করলেও জানজট নিরসন হচ্ছে না।তবে জানজট নিরসনে ভোর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় দাযিত্ব পালন করছেন হাইওয়ে পুলিশের এএসপি আক্তারুজ্জামান,কাচঁপুর হাইওয়ের ওসি কায়ুম আলী সরদার।মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের টিআই রাফিকুল ইসলাম মৃধা,টিআই শাখাওয়াত হোসেন,এটিএসআই নুরুল ইসলাম,হাইওয়ে পুলিশের এএসআই আব্দুল কুদ্দুস ফকির সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা জানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন।
এসময় মহাসড়কে দায়িত্বরত কাচঁপুর ্হাইওয়ে থানার টিআই জাহাঙ্গির আলম জানান,গতকাল থেকেই ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুর স্কেলের ধীরগতি এবং আসন্ন রমজানের রোজাকে সামনে রেখে রাস্তায় যাত্রীদের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘ জানজটের সৃষ্টি হয়েছে,জানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও আমাদেও ঊর্ধতন কর্মকর্তারাও দিনরাত পরিশ্রম করছেন।আশা করি অচিরেই এই মহাসড়ক জানজট মুক্ত হবে।