অভিবাসীর উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধির দাবী

0
404

শাহ জালাল : “অভিবাসীর উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি, করতে হবে করতে হবে”। এই শ্লোগানসহ বিনা খরচে বিদেশ গমন ও বিনা সুদে ঋণের দাবি জানিয়েছে অভিবাসী কর্মীরা। আর এজন্য আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি করেছেন তারা। মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত ‘অভিবাসীর বাজেট’ শীর্ষক এক সমাবেশে এ দাবি জানান অভিবাসীরা।
সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৩০০ অভিবাসী কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিবাসনবিষয়ক সংসদীয় ককাস কমিটির কো-চেয়ারম্যান বেগম হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ ডেলিগেশন প্রতিনিধি মিস অড্রি ময়লেট, গাজী মোঃ জুলহাস (এনডিসি) ও এস কে রফিকুল ইসলাম (বিএমইটি)।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে অভিবাসন ইস্যুতে কর্মত সুশীল সমাজ প্রতিনিধি সৈয়দ সাইফুল হক, আতিকুন নবী, শরীফুল হাসান ও সুমাইয়া ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ওকাপের চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওকাপ চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের মহাসড়কে অভিবাসীরা সবার আগে। অথচ অভিবাসী কর্মীদের উন্নয়নে কোন বাজেট নাই। তাদের কল্যাণের জন্য কোন বাজেট রাখা হয় না। অভিবাসীর রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হলেও জাতীয় বাজেটে এই সেক্টরে বরাদ্দ মাত্র ০.১৬ শতাংশ, যা খুবই নগণ্য। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী পৃথিবীর ১৬১ টি দেশে কাজ করছে। এই অভিবাসীরা প্রতিবছর প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে।
শাকিরুল আরো বলেন, বিদেশ ফেরত কর্মীদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই।
উপস্থিত অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে আগত বিদেশ ফেরত মোঃ শাহ জালাল বলেন, আমরা আর বাড়ি-ঘর, জমী-জহরাত বিক্রি করে ও করা সুদে টাকা নিয়ে বিদেশ যেতে চাই না। সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে সরকারি টাকায় বিদেশ যেতে চাই এবং বিদেশ ফেরত কর্মীদের কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করতে জাতীয় বাজেটে অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির জোড় দাবি জানান।

ইকবাল হোসেন নামের অপর অভিবাসী কর্মী দাবী জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে যারা ফিরেন, সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়। অভিবাসী কর্মী শাহজামান দাবী জানান, অভিবাসীরা যাতে বিনা জামানতে ঋণ পেতে পারেন সেজন্য আগামী বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। অভিবাসী কর্মী দ্বীন ইসলাম বলেন, সরকার যদি বিনা খরচে বিদেশে পাঠায় তাহলে অভিবাসী কর্মীদের জমি-জমা বিক্রি করতে হবে না। তাদেরকে আর নি:শ^ হতে হবে না।
অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, অভিবাসীর উন্নয়নে ১.৬ শতাংশ বরাদ্দ খুবই নগণ্য। অভিবাসী কর্মীদের সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দরকার । তিনি অভিযোগ করেন কর্মীদের কল্যাণ ফান্ড থেকে নানা কাজে অর্থ খরচ করা হচ্ছে যার ফলে সরাসরি কর্মী লাভবান হচ্ছে না। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অভিবাসী কর্মীদের চাহিদা মেটাতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে ।

সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের কর্মদক্ষতা ও সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। অভিবাসী কর্মীদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বেগম হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া বলেন অভিবাসন খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এ খাতকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। আমি বিশ্বাষ করি কৃষক শ্রমীক, গার্মেন্টস শ্রমীক ও আপনারা বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরাই এ দেশ চালান। আপনাদের স্যালুট জানাই। আপনাদের অবদানেই আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। তিনি বলেন,মনে রাখবেন, না কাদলে মাও তার প্রিয় সন্তানের দিকে এগিয়ে আসে না। আপনাদের ন্যায্য দাবির সাথে আমি একমত। আপনাদের সাথে আমিও আছি। অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একজন কর্মীর তিন থেকে পাঁচ মাসের বেতনের সমান হবে অভিবাসন খরচ। তিনি দালালদের খপ্পরে না পড়ার জন্য বিদেশগামী কর্মীদের আহ্বান জানান।আবার শেখ হাসিনা সরকা যেন সরকার গঠন করতে পাড়ে সে জন্য কাজ করেন । তাহলে সব হবে। আর আপনাদের এই দাবিগুলি আরো আগে উঠাতে হবে। এখন বাজেট তৈরি হয়ে গেছে, সম্পুরক বাজেটেও দেয়ার সময় নাই। আপনাদের এই দাবিগুলি আগামী বাজেটের আগে জানুয়ারী মাসে উঠাবেন।
বেগম হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া আরো বলেন, আগামি বাজেটে অভিবাসন খাতে বেশি বাজেট বরাদ্দের জন্য তিনি জাতীয় সংসদে দাবী উত্থাপন করবেন।
বমসার পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, অভিবাসীর অধিকার মর্যাদা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করুন, করতে হবে। অভিবাসীরাও এদেশের সূর্য সন্তাান। ত্রিসলাখ শহীদ ওমুক্তিযোদ্ধারা যেমন এ দেশের জন্য লড়াই করেছেন, তেমনি ভাবে অভিবাসীরাও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। কাজেই অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করতে বাজেট বৃদ্ধিহয়ে সম্মানজনক করতে হবে, এর ব্যাত্যয় হলে, সে দিন আর বেশি দুরে নয় শাহবাগচত্বর অভিবাসীরাও দখল করবে।