জেএমবির ২ নারী সদস্য গ্রেফতার

0
596

গত এপ্রিল ২০১৭ হতে এ পর্যন্ত র‌্যাব-১১ বেশ কয়েকটি সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সকল অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং ০৩ জন নারীসহ ৮৪ জন বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতারকৃত এ সকল জঙ্গিদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের নেটওয়ার্ক এবং কার্যক্রমের অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাপ্ত সে সকল তথ্যাদি যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের পর জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত যে সকল সদস্য এখনও গ্রেফতার হয়নি তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

 র‌্যাব-১১ এর আওতাধীন এলাকায় ইতোপূর্বে দায়েরকৃত মামলা সমূহের এজাহার নামীয় পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্নস্থানে ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৬ মে ২০১৮ তারিখ ২২০০ ঘটিকার সময় রাজধানীর আরামবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মামলা নম্বর-৪৮ তারিখ ১৮/৪/১৮ এর এজাহার নামীয় আসামী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নারী সদস্য (ক) রুবাইয়া বিনতে নুর উদ্দিন@হুরের রাণী@লাবিবা (২০), হামিদ উদ্দিন রোড, কাচি ঝুলি, থানা-সদর, জেলা-ময়মনসিংহ এবং (খ) নাঈমা আক্তার@হিমালয়ের কণ্যা (২৫), সাং-শ্রীপুর, থানা-ফুলবাড়িয়া, জেলা-ময়মনসিংহদ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নারী জঙ্গি সদস্যদের নিকট হতে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

রুবাইয়া বিনতে নুর উদ্দিন@হুরের রাণী@লাবিবা (২০), ২০১১ সালে ময়মনসিংহ এর একটি গার্লস স্কুল হতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে। অতঃপর ২০১২ সাল হতে মাদ্রাসায় লেখাপড়া শুরু করে। বর্তমানে সে স্থানীয় একটি বালিকা মাদ্রাসায় নাহবেমীতে অধ্যায়ণরত। সে মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে উগ্রবাদীতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। ২০১৬ সালে ইন্টারনেটে সামাদ@আব্দুল্লাহ@জাকির নামক এক জনৈক জেএমবি সদস্যের সাথে তার পরিচয় সূত্রে সে জেএমবির নারী শাখায় অন্তর্ভূক্ত হয়। অতঃপর র‌্যাব-১১ কর্তৃক ইতোপূর্বে (১৭ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে) গ্রেফতারকৃত নারী জঙ্গি সদস্য মিতুসহ বেশ কয়েকজন সক্রিয় নারী জঙ্গি সদস্যদের সাথে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে।

বর্ণিত গ্রেফতারকৃত নারী জঙ্গি রুবাইয়া জেএমবিতে অন্তর্ভূক্তির পর সে জেএমবির নারী শাখার দাওয়াতী ও প্রচার কার্যক্রম চালাত। সে ও তার মা ফিরোজা বেগম, গ্রেফতারকৃত নাঈমাসহ তার নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী সহপাঠী ও বন্ধুদের জেএমবি এর দাওয়াত দেয়। তন্মধ্যে তার মা, নাঈমাসহ বেশ কয়েকজনকে সে জেএমবিতে অন্তর্ভূক্তি করিয়েছে। তবে রুবাইয়ার বাবা, নানা-নানী ও বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয় জেএমবির দাওয়াত প্রত্যাখান করে আইন-শৃঙখলা বাহিনীর ভয় দেখালে সে তাদেরকে এড়িয়ে চলতে থাকে এবং পরে সে ও তার মা কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে নিজেদেরকে জেএমবি এর সাথে সম্পৃক্ত রাখে।

গ্রেফতারকৃত রুবাইয়াকে ইতোপূর্বে বর্ণিত জঙ্গি সামাদ@আব্দুল্লাহ@জাকির হিযরত করার প্রস্তাব দিলে তাকে তার মা স্বাচ্ছন্দে অনুমতি দেয়। ফলশ্রæতিতে তার মায়ের অনুমতিক্রমে উক্ত জঙ্গিকে বিয়ে করে হিযরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ঐ জঙ্গি জাকির এর সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে হিযরতে গমনের বিষয় বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে গত জুলাই/আগষ্ট ২০১৭ মাসে ইতোপূর্বে (৩১/১২/২০১৭ তারিখে) গ্রেফতারকৃত জঙ্গি শরফুল আওয়াল রুবাইয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে রুবাইয়ার মা ও রুবাইয়া শরফুলের পূর্বে গ্রেফতারের রেকর্ড দেখে খাঁটি মুজাহিদ হিসেবে বিবেচনা করে তাকে বিয়ে করতে রাজী হয়; কিন্তু এর মধ্যে জঙ্গি শরফুল আওয়াল আবারও গ্রেফতার হলে সে পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। কিছু দিন পর পুনরায় জেএমবি সদস্য সামাদ@আব্দুল্লাহ@জাকির এর সাথে রুবাইয়ার যোগাযোগ হয়। ফলশ্রæতিতে মা ও মেয়ের পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রুবাইয়া হিযরতের উদ্দেশ্যে গত ১৬ মার্চ ২০১৮ তারিখে গৃহত্যাগ করে। উল্লেখ্য, রুবাইয়া হিযরতের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগের বিষয়টি তার মা অবগত থাকলেও তার বাবা বিষয়টি জানতেন না।

হিযরতের উদ্দেশ্যে বের হবার পর সে, জঙ্গি সামাদ ও বেশ কয়েক জঙ্গি সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযান ও নজরদারী এড়াতে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করে। ইতোমধ্যে জঙ্গি সামাদ কৌশলে গ্রেফতারকৃত রুবাইয়াকে ভুয়া নাম ঠিকানায় একটি পাসপোর্ট করিয়ে দেয়। দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে তারা বিদেশে অবস্থানরত জঙ্গি সদস্য নুর ইসলাম@ভানু প্রতাপ সিং@সাইফ আল ইসলামের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখত। দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে তারা বেশ কয়েকদিন খুলনা, যশোর, বেনাপোলে অবস্থান করার পর তারা বুঝতে পারে যশোর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম ঝুঁকিপূর্ন হতে পারে; এ লক্ষ্যে তারা পুনরায় দেশের অভ্যন্তরে অন্যত্র কয়েকদিন গা ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

 নাঈমা আক্তার@হিমালয়ের কণ্যা (২৫), ময়মনসিংহের একটি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত । মূলত সে তার এক বান্ধবীর সহচার্যে এসে ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয়। অতঃপর জসীম উদ্দিন রাহমানীর কিছু লেকচার ও অন্যান্য উগ্রবাদ সংক্রান্ত বই পড়ে উগ্রবাদীতায় আকৃষ্ট হয়। অতঃপর সে গ্রেফতারকৃত রুবাইয়ার দাওয়াতের মাধ্যমে জেএমবি এর নারী শাখায় অন্তর্ভূক্ত হয়। গ্রেফতারকৃত নাঈমা ইন্টারনেট ও ফেসবুকে প্রচুর ধর্মীয় উগ্রবাদিতা বিষয়ে লেখালেখি ও প্রচুর ষ্ট্যাটাস দিত। সে তাদের কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে অবস্থানরত ছাত্রীদের উগ্রবাদীতায় দাওয়াত দিত এবং উক্ত হোস্টেলে সে ও রুবাইয়াসহ কয়েকজন নারী জঙ্গি মিলে মাঝে মধ্যে গোপন বৈঠক করত। উক্ত গোপন বৈঠকে তারা অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ নিত। তাদের পরিকল্পনা ছিল নারী সদস্য দ্বারা কিভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা পরিচালনা করা যায়। ইতোমধ্যে রুবাইয়া হিযরতে চলে গেলে তার উগ্রবাদীতায় সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানা-জানি ও জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রæতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে সে আত্মগোপনের পরিকল্পনা করে। গোপনে সে বিভিন্ন মাধ্যমে রুবাইয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর কৌশলের ব্যাপারে তথ্য বিনিময় করত বলেও জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।