পাট গবেষণার অর্জন এবং গবেষণা কার্যক্রমকে স্বরণ করে বিজ্ঞানীদের অধিকতর বিজ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করতে হবে-কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী

0
452

বুধবার বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, সিনিয়র সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে মাননীয় কৃষি মন্ত্রী মহোদয় বিজেআরআই এর ডিজিটাল হাজিরা এবং সিসি টিভি নিরাপত্তা ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন।

বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরী)। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মোঃ মনজুরুল আলম। উক্ত উপস্থাপনায় তিনি এদেশের পাটের গুরুত্ব, জলবায়ু উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পাট গবেষণার অতিত, বর্তমান এবং অর্জনসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী পাট গবেষণার অর্জন এবং গবেষণা কার্যক্রমকে স্বরণ করে বিজ্ঞানীদের অধিকতর বিজ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করার আহবান জানান। তিনি বিখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মাকসুদুল আলমের স্মৃতিচারণ করে তাঁর অবদান এবং তোষা ও দেশি পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের কথা স্বরণ করে বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞচিত্তে পাট গবেষণার উন্নয়নে বিশেষ ভাবে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন পাটের জীবন রহস্য উন্মোচিত তথ্যের মাধ্যমে তোষা পাটের দুইটি (রবি-১ এবং রবি-২) এবং দেশি পাটের দুইটি (শশি-১ এবং শশি-২) অগ্রবর্তী লাইন ও উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার আঁশের মান উন্নত এবং প্রায় ১০-২৫% ফলন বেশি। অচিরেই রবি-১ এবং শশি-১ কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আসা করছি। তিনি অটো পাওয়ার রিবোনারের উপযোগীতা এবং অধিকতর উন্নত করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরো বলেন, কৃষি এখন উত্তর থেকে দক্ষিণে স্থানান্তর হচ্ছে। বিজেআরআই এর বিজ্ঞানীদের দক্ষিণের লবন সয়িষ্ণু জাত উদ্ভাবনে গবেষণায় মনো নিবেশ করতে হবে। বিজেআরআই ইতোমধ্যে একটি লবণ সয়িষ্ণুজাত উদ্ভাবন করেছেন। আরো চারটি অধিক লবণ সয়িষ্ণু অগ্রবর্তী লাইন উদ্ভাবিত হয়েছে। সত্বর জাত সমূহ অবমুক্ত হবে। মাননীয় মন্ত্রী বিজেআরআই উদ্ভাবিত শিল্প প্রযুক্তির প্রশংসা করে এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য উদ্যাত্ত আহবান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য পাটকে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করতে হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় গুনাগুন সমৃদ্ধ পাটজাত উদ্ভাবন করতে হবে। তিনি বিজেআরআইএর বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের প্রশংসা করে পাটের গবেষণা ও উন্নয়নে আরো মনোনিবেশ করার আহবান জানান।

সভাপতির ভাষণে সিনিয়র সচিব বলেন মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর ঐকান্তিক চেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের সহযোগীতায় পাটের গবেষণা ও উন্নয়নে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। এ কথা যেমন সত্য এবং এই সাথে পাটের জন্ম রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগনের উপকার হয় এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। তিনি আরো বলেন গবেষণার মাধ্যমে পাটের বহুমুখি ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ড. এস, এম, মাহাবুব আলী, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সেক্টর ও নার্সভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ উর্ধ্বতন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।