এবার সংঘবদ্ধ ব্যাংক ও জুয়েলারি ডাকাত চক্রের ৫ জন গ্রেফতার

0
639

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে র‌্যাব-১১ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে দমন ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

গত ১০ মার্চ ২০১৮ খ্রিঃ এ নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোডের হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটে নদভী জুয়েলার্স ও ক্রাউন জুয়েলার্সে সংঘটিত দূর্ধর্ষ ও চাঞ্চল্যকর চুরি সংঘটিত হওয়ার পর র‌্যাব ১১ এর একটি বিশেষ দল ঘটনাটি উদঘাটন, সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে গ্রেফতার ও চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধারে তথ্য সংগ্রহ ও ছায়া তদন্ত শুরু করে।

 গত ২৬ এপ্রিল ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকা থেকে কাউসার৥মাস্টার নামের সংঘবদ্ধ জুয়েলারী ডাকাত চক্রের ০১জনকে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত কাউসার গত ১০ মার্চ ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে চিটাগাং রোডের হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটে দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল মর্মে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানসহ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে।

 একই ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা, প্রথাগত ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতি প্রয়োগ করে গত ৩০ মে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের রাত ২২১৫ ঘটিকায় ঢাকার যাত্রবাড়ি মোড়ে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ০৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্যরা হলোঃ শামীম (৩৫), রাজা মিয়া (৪৮), শ্রীকান্ত৥বাদল মল্লিক৥বাদল দাশ (৫৫), মাসুদ (৪০) ও কালাম (৪২)।

 গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ১০ মার্চ ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে গ্রেফতারকৃত শামীমের পরিকল্পনায় দুই মাসের প্রস্তুতি নিয়ে সংঘবদ্ধ জুয়েলারী ডাকাত চক্রটি হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটে দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করে। পরিকল্পনামতে ডাকাত চক্রের সদস্য কালাম, খালিদ ও মাসুদ ভূয়া নাম ঠিকানা দিয়ে মার্কেটে নৈশ প্রহরীর চাকুরী নেয়। রাতে বাকী নৈশ প্রহরীদের শরবতের সাথে নেশা জাতীয় ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে মার্কেটের সিসি ক্যামেরার লাইন কেটে দেয়। তারপর ডাকাত চক্রের তালা ভাঙ্গায় পারদর্শী ও ভল্ট আনলক স্পেশালিষ্ট রাজা মিয়া ও বাদল মল্লিক মার্কেটে প্রবেশ করে। ক্রাউন ও নদভী জুয়েলার্সের তালা কেটে ও ভল্ট খুলে দোকানের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। ডাকাত চক্র মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে হাসাড়া এলাকায় রাজা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার ও টাকা ভাগাভাগি করে।

 প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত শামীম, রাজা মিয়া ও বাদল মল্লিক দেশের অন্যতম শীর্ষ পেশাদার ব্যাংক ও জুয়েলারী ডাকাত। এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বহু চাঞ্চল্যকর ব্যাংক ও জুয়েলারি ডাকাতির সাথে জড়িত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে শামীম, রাজা মিয়া ও বাদল মল্লিক চক্র জয়পুরহাটে ব্র্যাংক ব্যাংক ডাকাতি করে ভল্ট খুলে ১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে র‌্যাবের অভিযানে লুটের টাকাসহ শামীম, রাজা মিয়া ও বাদল মল্লিকসহ অনেকে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারের ১১ মাস পর জামিনে বের হয়ে পূনরায় তারা তাদের অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে থাকে। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোডে হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটে ০২ জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি করে ৪৫৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২ লক্ষ টাকা লুট করে। তাদের পরবর্তী টার্গেট ছিল চট্টগ্রামের লাকী প্লাজা ও সিঙ্গাপুর মার্কেট। তাদের গ্রুপে ১০/১২ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ২০০১ সালে পল্টন সুপার মার্কেটে সানফ্লাওয়ার জুয়েলার্স, ২০০২ সালে উত্তরার আমির কমপ্লেক্সের আল রাজু জুয়েলার্স, ২০০৩ সালে গুলশানের আলম মার্কেটের নুর জুয়েলার্স, ২০০৪ সালে বাড্ডার লুৎফর টাওয়ারের ঢাকা ও সাউদিয়া জুয়েলার্স এবং খুলনার নিউ মার্কেট, ২০০৫ সালের উত্তরা মাসকট প্লাজার কনিকা জুয়েলার্স, আই কে জুয়েলার্স, পারমা জুয়েলার্স ও প্রেয়সী জুয়েলার্স, ধানমন্ডির প্রিন্স প্লাজার প্রিন্স জুয়েলার্স, রাকা প্লাজার মিতু জুয়েলার্স, সাভারের রাজ্জাক প্লাজায় এবং উত্তরার রাজলক্ষী কমপ্লেক্সের রাজু নন্দিনী ও রাজ মনি জুয়েলার্সের সর্বস্ব লুট করেছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।