সোনারগাঁয়ে ফসলি জমি লুট করে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ

0
283

রুহুল আমিন,সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিংলাব ও পাকুন্দা এলাকায় কৃষকদের ফসলী জমির মাটি লুট করে জোরপূর্বকভাবে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। কৃষকরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেনা।

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হা-মীম শিকদার শিপলুর পরোক্ষ নেতৃত্বে সিংলাব এলাকায় লুৎফর হোসেন, ফারুক হোসেন ও পাকুন্দা এলাকার সোরাব হোসেন ও সাগর চৌধূরী সহ ২০/২৫ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রায় ৭শত বিঘা তিন ফসলি কৃষি জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে ইটভাটায় চড়া দামে বিক্রি করছে।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সিংলাব ও পাকুন্দা এলাকায় কৃষকদের ফসলি জমির মাটি জোরপূর্বক ভাবে বেকু দিয়ে পুকুরের মতো কেটে ট্রাক ভর্তি করে বিভিন্ন ইট ভাটায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের এ মাটি কাটায় যাতে কেউ বাধা না দেয় সে জন্য মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বাহিনী মহড়া দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি জমির মাটি এতটাই গভীর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে যে, যে কেউ দেখলে পুকুর না বলে উপায় থাকবেনা। তাদের মতে প্রতিটি জমি ভেকু দিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গর্ত করে কেটে নিচ্ছে মাটি সন্ত্রাসীরা। ফলে পাশের জমির মাটি স্বভাব তই ওই গর্তে পড়ে যায় এবং তা বিনা টাকায় ও বিনা অনুমতিতে নিয়ে যায় তারা। ফলে অনেক জমির মালিক বাধ্য হয়েই মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে।

ফসলি জমি রক্ষায় স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন সহ রাজনৈতিক নেতাদের কাছে গিয়েও কোন সুফল পায়নি। বর্তমানে ফসলী জমি পরিনত হচ্ছে ডোবা ও পুকুরে। ফলে সর্বশান্ত হচ্ছে কৃষকরা। কোন কৃষক মাটি সন্ত্রাসীদের কাছে ফসলী জমির মাটি বিক্রি করতে অস্বীকার করলে তারা রাতের আধারে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যায়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামীম শিকদার শিপলু, সাগর চৌধূরী ও সোরাব হোসেন জানান, আমরা কারো জমির মাটি জোরপূর্বক কাটি না।

কৃষককের জমির মাটি সঠিক দাম দিয়ে ক্রয় করে ইট ভাটায় বিক্রি করি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর ইসলাম জানান, ফসলী জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করতে দেওয়া হবেনা। সরেজমিনে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করব।