জঙ্গী সংগঠন জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান গ্রেফতার

0
103

র‌্যাব-১১ এর আওতাধীন এলাকায় ইতিপূর্বে দায়েরকৃত মামলা সমূহের এজাহার নামীয় পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ২৯ মার্চ ২০১৯ তারিখ ২৩৩০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ১নং লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান মোঃ তরিকুল ইসলাম @ তারেক @ বাপ্পী @ সাকিব @ নাজমুস সাকিব (৩০)কে গ্রেফতার করে। এ সময় তার নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই, উগ্রবাদী লিফলেট, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও ০১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

 মোঃ তরিকুল ইসলাম@ তারেক @বাপ্পী @ সাকিব@ নাজমুস সাকিব(৩০), ২০০৪ সালে বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানার মাধবকাঠি আহমাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল, ২০০৬ সালে খুলনা সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা হতে আলিম, ঢাকার মদিনাতুল উলুম বালক কামিল মাদ্রাসা হতে ২০১০ সালে ফাজিল এবং ২০১৩ সালে কামিল পাশ করে। এরই পাশাপাশি ২০১১ সালে আহসান উল্লাহ ইউনির্ভাসিটি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে বিবিএ পাশ করে এবং ২০১৩ সালে এমবিএ তে অধ্যায়নরত থাকাকালীন সময়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির বছিলা মসজিদে বয়ান শুনতে যেত। জসিম উদ্দিন রহমানির বয়ানের মাধ্যমে তার মাঝে উগ্রবাদী চেতনা জাগ্রত হয়। ঐ সময় একই মসজিদে জেএমবি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে তার পরিচয় হয়। আব্দুল্লাহ আল মামুন তৎকালিন জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ছিল। তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সাকিব জেএমবিতে যোগদান করে। ২০১৬ সালে বাগেরহাট জেলা পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে আব্দুল্লাহ আল মামুন নিহত হলে তার স্থলে সাকিব দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। সাকিব দায়িত্ব পাওয়ার পর খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জেএমবির কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর তৎপরতা অব্যহত রাখে। সাকিবের মাধ্যমে র‌্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত মাহবুবুর রহমান উকিল, কাইয়ুম হাওলাদার, কাউছার বিন হালিম, হামদান বিন ফিরোজ, মামদুদুর রহমান মিশু, কামরুল, ইউনুছসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০জন সদস্য জেএমবিতে যোগদেয়। এদের অধিকাংশ সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ তরিকুল ইসলাম@ তারেক @বাপ্পী @সাকিব @নাজমুস সাকিব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, প্রথম পর্যায়ে সে জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য ছিল এবং জামালপুরের যমুনা নদীর চর, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসার ছাদসহ বিভিন্ন জায়গায় জেএমবির অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ২০১৭ সালে আইন শৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা শুরু হলে সাকিব ঢাকায় এসে আতজ্ঝগোপন করে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলা গুলোতে জেএমবির দাওয়াতি কাজে মনোনিবেশ করে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠনকে পূর্ণগঠনের চেষ্টা করে। বর্তমানে সে জেএমবির দাওয়াতি শাখার দক্ষিনাঞ্চলীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব আরো জানায় যে, সে জেএমবিকে পূর্ণগঠিত করার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে এবং জামালপুর জেলার যমুনা নদীর চরে জেএমবির নতুন ১টি প্রশিক্ষণ শিবির খোলার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাটে কচুয়া থানায় ০১টি, ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানায় ০১টি, নরসিংদী সদর থানায় ০১টি, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় ০৫টি সর্বমোট ০৮টি মামলা রয়েছে। যার সবগুলোই সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা।

 গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উত্তর দিন