পুলিশের ২ সোর্স গণধোলাইয়ে আহত

0
234

জান্নাত জাহা ঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে দুই ব্যক্তিকে ফাঁসতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে দুই যুবক।
৯ নভেম্বর শনিবার রাতে সনমান্দি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ওই দুইজনকে আটক করে রাখে। পরে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। তবে গ্রেফতারকৃত দু’জন পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে বলে সোনারগাঁ থানার এসআই আপন কুমার মজুমদার স্বীকার করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার সনমান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস মিয়ার ছেলে কবির হোসেন ও একই এলাকার মৃত আফাজউদ্দিনের ছেলে আলী হোসেন রাস্তায় দারিয়ে কথা বলছিলেন। হঠাৎ মনারবাগ গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সানোয়ার ও কৃষ্ণপুরা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে সজিব পুলিশের লোক পরিচয়ে তাদের দেহ তল্লাসী করে। এসময় তাদের সঙ্গে কোন পুলিশ সদস্য ছিল না।
পরে সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশিক ইমরানের লোক পরিচয় দিয়ে তাদেরকে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তির সাথে ৫ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে বলে রটিয়ে দেয়। তাদের ছাড়িয়ে নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এলাকাবাসীর বিষয়টি সন্দেহ হলে সোনারগাঁ থানার এসআই আশিক ইমরানকে ফোন করেন। এস আই আশিক ইমরান তার কোন লোক সনমান্দি এলাকায় পাঠানো হয়নি বলে দাবী করেন। পরে এলাকাবাসী ওই দুই সোর্সকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে গণধোলাই খেয়ে আটক দুজন টাকা কামানোর জন্যই তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছে।
ভুক্তভোগী আলী হোসেন জানান, এশার নামাজের আজান হওয়ার কারণে আমি ও কবির হোসেন বাজার থেকে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলাম। আমরা মসজিদের রাস্তার পাশে দারিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে একটি সিএনজি থেকে নেমে দুই ছেলে পুলিশের লোক পরিচয়ে দেহ তল্লাসী করে। ওই সময়ে আমাদের কাছে কোন কিছু পায়নি। পরে আমাদের আত্মীয় স্বজন তাদের কাজে জানতে চাইলে ইমরান স্যার সামনে ডিউটি করছে ওখানে যেতে বলে। পরে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আমাদের কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে বলে আমাদের আত্মীয় স্বজনকে বলে। আমাদের ছাড়িয়ে নিতে হলে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন।
সনমান্দি গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটককৃত দুই সোর্স আশিক ইমরানের পরিচয়ে মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। দাবিকৃত টাকা দিলেই ছাড়া পাওয়া যায়। নাহলে কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মামলা দেয়া হয়। এভাবে অপরাধ ছাড়াই ভালো মানুষ হয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ী।
সনমান্দি গ্রামের মাহবুব হোসেন জানান, সনমান্দি এলাকায় ঢুকে নিরীহ মানুষকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে হয়রানি করে থাকে। গত ১৫ দিন আগেও এরাই একজন রিক্সা চালককে রাতের বেলায় ধরে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে ১৭ হাজার টাকা আদায় করেছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ওই দুই সোর্সকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সুত্র সোনারগাঁ বার্তা

উত্তর দিন